যশোর প্রতিনিধি : যশোর শহরের দড়াটনা মোড়ে অবস্থিত ইবনে সিনা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল ইনজেকশন পুশ করায় মইফুল বেগম (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত রোগী মইফুল বেগম (৪৩) সদর উপজেলার বিরামপুর প্রাইমারী স্কুল এলাকার সাজ্জাদ আলীর স্ত্রী।
এদিকে রোগীর মৃত্যুর পরে উপস্থিত স্বজনরা উত্তেজিত হলে হাসপাতালের স্টাফরা রোগীর স্বজনদের মারপিট করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। পরে রোগীর ছেলে অন্যান্য স্বজন এবং আশপাশের লোকেদের ডাক দিলে হাসপাতালে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।মৃতের ছেলে হাসান আলী অভিযোগ করে বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তার মা মইফুল বেগমকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে শনিবার সন্ধ্যায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানে এসে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক লাব্বাইক রোগীকে দেখার সাথে সাথে জরুরি বিভাগে থাকা সেফট্রিয়াক্সোন ইনজেকশন সেবিকা রেখাকে রোগীর শরীরে পুশ করার নির্দেশ দেন। চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবিকা রেখা রোগীকে সেফট্রিয়াক্সোন ইনজেকশন পুশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরে রোগী অস্থিরতা করলে চিকিৎসক লাব্বাইক রোগীকে কটসন ইনজেকশন পুশ করেন। এর পরপরি হাসান আলীর মা মইফুল বেগম মারা যান। এ সময় চিকিৎসক রোগীকে সদর হাসপাতালে নিতে বলেন। এমন সময় স্বজনরা হৈ চৈ শুরু করলে হাসপাতালের স্টাফরা মারতে মারতে মইফুল বেগমের ছেলে হাসান আলী এবং স্বামী সাজ্জাদকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়। তখন অনান্য স্বজনদের খবর দিলে হাসপাতালে এসে স্বজন ও স্টাফদের মধ্যে গোলযোগের সৃষ্টি হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দু’পক্ষকে শান্ত করে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন।
যশোর কোতোয়ালি থানার সদর ফাঁড়ির পুলিশ পরির্দশক (এসআই) শফিক জানান, রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় উত্তেজিত স্বজনরা হাসপাতালে হামলা করেছেন। এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশের তিনটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
ইবনে সিনা হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মাদ আলী বলেন, হাসপাতালে গোলযোগের কথা শুনে হাসপাতালে এসেছি। এখানে এসে জানতে পারি রোগী সন্দেহভাজন করোনা রোগী ছিলেন। স্বজনরা খারাপ অবস্থায় সদর হাসপাতাল থেকে রাতে ইবনে সিনার জরুরি বিভাগে আনেন। এসময় রোগী মৃত্যুবরণ করায় চিকিৎসক কটসন ইনজেকশন রোগীর শরীরে পুশ করেন।















