কুষ্টিয়ায় ৪ লক্ষাধিক টাকার কলা গাছ কেটে ফেলল দূর্বৃত্তরা

0
253

নিজস্ব প্রতিবেদক কুষ্টিয়াঃকুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চরসাদীপুর ইউনিয়নের ভৈরবপাড়ার এলাকায় বকুল হোসেন নামের এক কলাচাষির ৮ বিঘা কলা বাগানের কলা গাছ কেটে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৪ লক্ষ ৭০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ফলনযোগ্য হওয়ার আগমুহুর্তে ফসল ধ্বংস হওয়ায় নিস্ব হয়ে পড়েছেন কলাচাষি বকুল। রবিবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪ টার সময় জমিতে থাকা কলা ক্ষেতে এই তান্ডব চালায়ে ৬০০ টি কলা গাছ কেটে চলে যায় দূর্বৃত্তরা।
ক্ষতিগ্রস্থ চাষি কুমারখালী উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের ভৈরবপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পাশের গ্রামের কৃষকের জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ করেন বকুল। রবিবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বকুল কলা বাগানে দেখতে যায়, সারি সারি ফুলো কলা গাছ পরে রয়েছে। কলা গাছও কেটে ফেলা হয়েছে। কিছু কলা গাছ সাথেই রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে শুকিয়ে যাবে। দিন দুপুরে এভাবে কলা গাছ কেটে ফেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা, দুর্বৃত্তদের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বকুল হোসেন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্বসূত্রতার জের ধরে গত রবিবার(২৪ জুলাই) বিকেল ৪ টার সময় কুমারখালী থানাধীন চরসাদীপুর ইউনিয়নস্থ রঘুনাথপুর মাঠে বকুল হোসেন এর কলা বাগান হইতে ৬০০ টি কলার গাছ কাটিয়া যায়। বকুল নিজে বলেন আমি সকালে কলা বাগানে কাজ করে দুপুরে বাড়িতে গিয়ে পরে সন্ধ্যার আগে আবার বাগানে এসে দেখি আমার বাগানের সকল কলা গাছ কেটে ফেলেছে। আমি সন্দেহৃ বসত,সাত্তার নকশাল, শাহাদত,আজিত, এর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন হ আমরা তোর কলা বাগানের গাছ কেটে ফেলছি। অনেক কষ্ট ও যত্ন করে এই কলা উৎপাদন করতে হয়। প্রতিদিনই কলা বাগানের কোন না কোন কাজ করতে হয়। এরকম ক্ষতি মানুষ মানুষের করতে পারে আমাদের জানা ছিল না।আমরা এই ঘৃনিত কার্যক্রমের বিচার চাই।
ইউপি সদস্য বলেন, একটি গাছে কলা উৎপাদন করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। এভাবে কলা কেটে ফেলার থেকে ক্ষেত মালিককে মেরে ফেলা ভাল।আামার এমন ক্ষতি হলে আমি মরে যেতাম।
ক্ষতিগ্রস্থ চাষি বকুল হোসেন বলেন, বছরে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। মাটি কাটা, কলা গাছ রোপন ও পরিচর্যায় প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। কিছুৃদিন পরে বিক্রি শুরু করতে পারতাম।ঠিক সময়ে কলাগুলো বিক্রি করতে পারলে ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকার কলা বিক্রি করতে পারতাম। এই মুহুর্তে কলা ও গাছ কেটে আমাকে শেষ করে দিয়ে গেল। কিভাবে আমি এই ক্ষতি পোষাবো বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই চাষি। স্থানীয় চেয়ারম্যান বলেন, এলাকার বেশিরভাগ মানুষ কলা চাষ করে জীবনযাপন করেন। আমাদের এলাকার মানুষের কাছে বিক্রয়যোগ্য কলা সন্তানের মত। এভাবে একজন চাষির ক্ষতি মেনে নেওয়া যায় না। সঠিক তদন্ত পূর্বক দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here