জসিম উদ্দিন, শার্শা : স্থল পথে নানা হয়রানির হাত থেকে বাঁচতে রেল পথে বেড়েছে ভারতীয় পণ্য আমদানি। প্রতিনিয়িত রেল পথে আমদানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৬ মাসে বেনাপোল রেল ষ্টেশনের আয় হয়েছে ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ সময় পণ্য পরিবহন হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, রেল পথে বিশেষ সুবিধা পাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে ট্রেনে পণ্য আনা-নেওয়া বেড়েছে অধিকহারে। স্থল পথে নানা হয়রানি থেকে বাঁচতে রেল পথে বেড়েছে ভারতীয় পণ্য আমদানি। ভারত থেকে গত ৬ মাসে ট্রেনে পন্য পরিবহনে বেনাপোল রেল ষ্টেশন আয় করেছে ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ভারত থেকে পণ্যবাহি ট্রেনে আনা নেওয়া পণ্য গুলোর মধ্যে চাউল, গম, চিনি, পিকআপ ভ্যান ও কন্টিনারসহ বিভিন্ন পন্য সামগ্রী রয়েছে। ভারতের পেট্টাপোল সীমান্তে পণ্যবাহি ট্রাক আটকিয়ে চাঁদা আদায় শ্রমিক ধর্মঘটসহ নানা অজুহাতে ব্যাহত হতো পণ্য পরিবহন। তেমনই দেশের স্থলবন্দর ও কাস্টমস হাউসের চাঁদাবাজি ও যানজটের জন্য রেল পথে বিশেষ সুবিধা পাওয়ায় দুই দেশের ট্রেনে পণ্য আনা-নেওয়া বেড়েছে। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে করোনা সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বন্দর চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। সেসময় পণ্য পরিবহনে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা রেলে করে পণ্য আনা নেওয়া বাড়িয়ে দেয়। সংশ্লিষ্টরা বলেন, এভাবে যদি রেলযোগে পণ্য আনা নেওয়া করা যায় তাহলে বাণিজ্য সহজ হবে।
শ্রমিক ও বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, রেল পথে আমদানি হওয়াতে দ্রুত সময়ে ভারত থেকে বেনাপোলে পণ্য চলে আসে। অল্প সময়ে এসব পন্য আমদানিকারকদের কাছে পৌছে যায়। সেই সাথে সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে। আরো গতি বাড়বে যদি রেলের সাইটে শেড নির্মাণ করা হয়। বৃষ্টির জন্য রেল থেকে পণ্য নামাতে ঝামেলা সৃষ্টি হচ্ছে।বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আজিম উদ্দীন গাজি বলেন, রেলে পণ্য আনা নেওয়ার ফলে কোন যানজটে পড়তে হয় না। সেকারণে দ্রুত সময়ে ভারত থেকে বেনাপোলে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। রেলে পণ্য আসায় বেনাপোল স্থলবন্দরে যানজট মুক্ত হয়েছে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, করোনার সময়ে রেলে চালু হয় ভারত থেকে পন্য আমদানি। তার পর থেকে দিনদিন রেলে বাড়ছে আমদানিকৃত পন্য পরিবহন। সেই সাথে রেল থেকে মোটা অংকের রাজস্ব পাচ্ছে সরকার।
বেনাপোল রেল স্টেশনের মো. সাইদুর রহমান বলেন, গত ৬ মাসে ভারত থেকে রেল পথে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আমদানি করেছে। এ থেকে ১৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। দিন দিন রেল পথে বাড়ছে আমদানি বানিজ্য। আমরা বেনাপোলে রেলে অবকাঠামোর উন্নয়ন কাজ হাতে নিয়েছি।
সড়ক পথের পাশাপাশি ভারত থেকে দু দেশের মধ্যে যে রফতানি বাণিজ্য চালু হয়েছে তা আরো গতিশীল করেছে রেলযোগে মাল আনা নেওয়ার মাধ্যমে। এভাবে চলতে থাকলে শুধু বেনাপোলের এ স্থলবন্দরই নয় দেশের প্রতিটি বন্দরই বিপুল পরিমাণ পণ্য রফতানি সহ আর্থিক ভাবে লাভবান হবে।















