এ্যান্টনি দাস অপু : যশোরে তেলে চলছে ইজিবাইক কথাটি শুনতে অবাক হওয়ার মতো হলেও এমনটাই বলছেন যাত্রীরা। গতকাল রোববার যশোর শহরের চিত্রার মোড়, মনিহার, নিউমার্কেট, খাজুরা বাজার, বকুলতলা, ধর্মতলা, ঘুরে দেখা যায় ইজিবাইকের ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে তর্ক বিতর্ক। ইজিবাইকের যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারাদেশে হঠাৎ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে কারণ দেখিয়ে এবং নানা অজুহাত দেখিয়ে যশোরের শহরের চলাচলকারী অসাধু ইজিবাইক চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবার পর ইজিবাইক চালকরা অযৌক্তিক ভাড়া দাবি করলে তখন ওই যাত্রীদের সাথে শুরু হচ্ছে তর্ক-বিতর্ক। কোথাও কোথাও হাতাহাতির মত পরিস্থিতিও দেখা গিয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ইজিবাইক চালকরা শহরের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াতে পাঁচ টাকার ভাড়া নিচ্ছেন দশ টাকা। ১৫ টাকা ভাড়ার জায়গায় নিচ্ছেন ২০ টাকা।
যশোর শহরের মনিহারে পালবাড়ি থেকে আসা একটি ইজিবাইকের যাত্রী নজরুল বলেন,” আমি পালবাড়ি থেকে মনিহারে এসেছি এখান থেকে খুলনায় আন্তনগর পরিবহনে যাব। আমি প্রায় সময় পালবাড়ি থেকে মনিহারে আসি। ইজিবাইকে ভাড়া দেই ২০ টাকা। আজ মনিহারে এসে ইজিবাইক থেকে নামলে ইজিবাইক চালক আমার কাছে ২৫ টাকা ভাড়া দাবি করে। আমি ২৫ টাকা ভাড়ার কারণ জানতে চাইলে ইজিবাইক চালক আমাকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত দেখায়। যদিও ওই ইজিবাইকটি ব্যাটারি চালিত। একই সময়ে দৈনিক যশোরের প্রতিবেদক ওই ইজিবাইক চালককে ভাড়া বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে ইজিবাইক চালক কোন উত্তর না দিয়ে ২০ টাকা ভাড়া নিয়ে সটকে পড়েন। এদিকে আরএক যাত্রী আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি কাঠালতলা থেকে মনিহারে এসেছি আমার ভাড়া ১৫ টাকা একজন ইজিবাইক চালক আমার কাছ থেকে ২০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। আমি ২০ টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে গালিগালাজ করে। এদিকে ধর্মতলায় দেখা যায় এক নারীর (৪৫) সাথে এক ইজিবাইক চালকের ভাড়া নিয়ে বাক বিতন্ডা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে কারন জানতে চাইলে ওই নারী বলেন, ইজিবাইকে ওঠার সময় আমি ভাড়া জিগ্যাসা করেছি। সে বলেছে দড়াটানা থেকে এ পর্যন্ত ১০ টাকা ভাড়া। আমি নেমে ১০ টাকা দিলে সে ১৫ টাকা দাবি করছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ইজিবাইক চালক ইসরায়েল বলেন, সব গাড়ির ভাড়া বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধির কারনে বাজারে অনেক দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আমরা বিদ্যুতে চলি বলে ভাড়া না বাড়ালে খাবো কি। এ ছাড়া রোববার সারাদিন যশোর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে।















