শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির এক অবিসংবাদিত নেতা। মানুষ যাকে ভালোবেসে নাম দিয়েছে বঙ্গবন্ধু। তনয়ের মত উজ্জ্বল, তটিনীর মত চঞ্চল, অম্বর মত উদার এই ব্যক্তির বলিষ্ঠ কন্ঠ আর তর্জনীর ইশারায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকতো সারা বিশ্ব। যে মুজিবের বলিষ্ঠ কন্ঠ আর তর্জনীর ইশারায় স্বাধীন হয়েছিল একটি দেশ বা ভূখণ্ড। সেই মুজিবের নিত্যসঙ্গী ছিলো তামাক পাইপ। সেই পাইপে তামাক ভরে নিজস্ব ভঙ্গিতে ধোয়া ছাড়তেন বঙ্গবন্ধু। সেই পাইপ টানায় ফোটে উঠতো তার ব্যক্তিত্বের বিশালতা। আর একজন রাষ্ট্রনায়কের আভিজাত্য।
একটা বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, মুষ্টি হাতের তর্জনী, চোখে পুরানো ফ্রেমের সাধারণ চশমা, গায়ে সাদা পাঞ্জাবি পায়জামা, সাথে তাৎপর্যপূর্ণ ছয় বোতামের কালো রঙের কোট। যার পরিচিতি মুজিব কোট নামে৷ আর তার ব্যক্তিত্বের অভিব্যক্তি প্রকাশের জন্য মুখে মানানসই পাইপ৷ বঙ্গবন্ধু কে পরিচয় করানোর জন্য এর চেয়ে বেশি উপমার প্রয়োজন হয় না। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় শখ গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিলো পাইপ টানা৷ ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর পাইপ টানা ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে এটা ফ্যাশন মহলে তুমুল ঝড় তুলে৷ বঙ্গবন্ধুর বাসা, সংবাদ সম্মেলন, মিটিং কিংবা কারাগারে যাওয়ার বেদনামূলক প্রস্তুতিতেও তামাক পাইপ ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এমনকি ২৫ মার্চ ১৯৭১ সাল রাতে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিয়ে যাচ্ছিলো৷ তখন সে সবাইকে অবাক করে বলেছিল৷ আমি আমার তামাক পাইপ আর তামাক আনতে ভুলে গেছি। আমাকে অবশ্যই তামাক আর পাইপ আনতে হবে। তামাক পাইপ শত পছন্দের হলেও মাত্র ৫ টা পাইপ ছিলো বঙ্গবন্ধুর ৷ আর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বেশ যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করে রাখতেন পাইপ গুলো ৷ ১৯৭৫ সাল ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বল ছিল, তোরা কি চাস?ঘতকের গুলিতে সিঁড়িতে পরে ছিলো বঙ্গবন্ধু নিথর দেহ আর হাতে ছিলো শখের প্রিয় পাইপ খানি।















