যশোরে ভিক্সল তৈরির কারখানার সন্ধান, প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা দেখার কেউ নাই

0
568

জি এম অভি : দেশের একটি নামকরা গ্রুপের প্রোডাক্ট ভিক্সল, সম্পুর্ন নামের উচ্চারনের সাথে মিল রেখে অবৈধ উপায়ে তৈরি হচ্ছে মি: ভিক্সল এন । সাধারন মানুষ হঠাৎ করে বুঝতে পারবেনা কোনটা আসল আর কোনটা নকল। যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে এক ব্যক্তি তৈরি করছে টাইলস ও টয়লেট কিনার মি: ভিক্সল এন। বসুন্ধরা গ্রুপের ারীড়ষ আর সুলতানপুর দক্ষিনপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান ভূইয়া তৈরি করছে ারীংড়ষ । নুরুজ্জামান তার বসত বাড়ির মধ্যে গড়ে তুলেছে এই কারখানা। এন জামান কেমিক্যালস নামক প্রতিষ্ঠানের নেই কোন কেমিস্ট, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নিজস্ব অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সার্টিফিকেট এসবের কিছুই নেই। তারপরও একটি রেজিষ্টার্ড ব্রান্ডের নামের সাথে ইংরেজি অক্ষর ‘এস’ জুড়ে ব্যবহার করে চলেছেন সে প্রতিষ্ঠানের পণ্যের নাম। প্রথম দিকে কেউ না জানলেও বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ চলছে। জানা গেছে, নুরুজ্জামান ভুইয়া এন জামান কেমিক্যালস্ নামের সাইনবোর্ড সম্বলিত টিন শেডের ঘরে গড়ে তুলেছেন নকল ভিক্সল কারখানা। ইচ্ছেমতো সব ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি করছেন টাইলস ও টয়লেট কিনার ভিক্সল, পানির ট্যাংক পরিষ্কারক ড্যামফিক্স ও গাজীপুরের বন্ধন কেমিক্যালস্’র বি-ওয়ান নামক টাইলস জয়েন্ট ফিলার পাউডার । ারীংড়ষ কারখানায় ব্যবহৃত এসিডসহ অন্যান্য পদার্থ ফেলে রাখা হচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে। কারখানার নেই কোনো অনুমোদন, নিয়োগ দেয়া হয়নি স্বীকৃত কেমিস্টও। এবিষয়ে গতকাল দুপুরে নুরুজ্জামান ভুইয়া মুঠোফোনে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে দৈনিক যশোরকে বলেন,ভাই আমার সকল কাগজপত্র আছে। স্থানীয়রা জানান, নুরুজ্জামান ভূইয়া কি কাজ করেন তা আমাদের জানা নাই। মাঝে মধ্যে তিনি নিজেকে কসমেটিক্স ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন। তারা আরও জানান, দিনের বেলায় তেমনটা দেখা না গেলেও রাতে বেশ লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। নুরুজ্জামান অতিরিক্ত মুনাফার লোভে নিজ বাড়িতে খুলে বসেন নকল ভিক্সল, ড্যামফিক্স ও টাইলস্ পুটিং কারখানা। রাতের আঁধারে শুধুমাত্র পানি ও অ্যাসিড দিয়ে তৈরি হচ্ছে করছে ভিক্সল। যশোর থেকে তৈরি হচ্ছে বোতল ও লেভেল। বোতলের লেবেলে ব্যবহার করা হচ্ছে এন জামান কেমিক্যালস্ লিমিটেডের নাম। সব মিলিয়ে এক বোতল ভিক্সল তৈরি করতে খরচ হচ্ছে আট- দশ টাকা। ওই ভিক্সল বাজারজাত করা হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। এতে করে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা তারা দোকানে ভিক্সল কিনতে গেলে দোকানি নকল ভিক্সল ধরিয়ে দিচ্ছে। সুত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে নুরুজ্জামান ভূইয়ার বাড়ীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনির সদস্যরা প্রবেশ করেন। গোপনসুত্রে জানা যায়, নুরুজ্জামান ভুইয়ার ঘরে ঢুকলে দেখা যায় থরে থরে সাজানো কার্টুন ভর্তি নকল ভিক্সল। সয়াবিন তেলের ৫ লিটারের ক্যান ভর্তি এ্যাসিড । চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভিক্সল,ড্যামফিক্স ও বি-ওয়ানের খালি প্লাষ্টিক বোতল লেভেল ও প্যাকেট। তিনি নিজে কোন কেমিস্ট নন, এ কাজে পারদর্শী বাধন নামে এক স্কুলছাত্র তাকে এ সকল রাসায়নিক তৈরির কাজে সহায়তা করে। কারখানার অনুমোদন বলতে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেয়া একটি ট্রেড লাইসেন্স ও একটি ফায়ার সার্টিফিকেট দেখাতে পোরবে বলে জানাগেছে। বসুন্ধরা ট্রেডিং এর ম্যানেজার মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন , তাঁদের পণ্যের নামটি বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত যার নাম্বার ১০৬৭৪৬৫। আর নুরুজ্জামান ভুইয়া সরকারের ভ্যাট ট্রাক্স ফাঁকি দিয়ে তাঁদের পণ্যের নামের সাথে মিল রেখে নকল ভিক্সল তৈরি করে যশোরের বাজারে বিক্রি করছে বলে তিনিও জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবকে দফায় দফায় চেষ্টা করেও তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here