অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে কৃষকের শার্শায় পাট চাষিরা পানির অভাবে বিপাকে

0
221

জসিম উদ্দিন, শার্শা : যশোরের শার্শা উপজেলায় চলতি বছর পাটের বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটলেও পানির অভাবে পাট জাঁগ দেওয়া বা (পঁচানো) নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পাট চাষিরা।
আষাঢ় শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্র মাসের শুরুতেও উপজেলার পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি না হওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে উপজেলার অধিকাংশ খাল-বিলে পানিতে ভরপুর থাকার কথা থাকলেও চলতি মৌসুমে এবার ভাদ্র মাসের শুরুতেও এখন শুকনো।
কোনো কোনো জলাশয়ে সামান্য পানি থাকলেও পাট পচানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়। ফলে ভারী বৃষ্টি না হলে সোনালী আঁশ পাট চাষিদের গলার ফাঁস হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন এ এলাকার পাট চাষিরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভরা বর্ষা মৌসুমেও যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খাল বিল ডোবা নালা শুকিয়ে রয়েছে। তাই কৃষকরা উচু-ডোবা জমি থেকে পাট কেটে ডোবা ও পুকুরে সেচের পানি দিয়ে পাট পচন দিচ্ছে। কেউবা আবার ৭/৮ কিলোমিটার দুরে নদী বা খালে নিয়ে সেই পাট পচন দিচ্ছে। কেউবা বিঘাপ্রতি টাকার চুক্তিতে অন্যের পুকুর ব্যবহার করছে পাট পচানোর জন্য। এতে কৃষকের অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বাজারে চাহিদা ও দাম ভালো থাকলেও অনেকেই লোকসানের মুখে পড়ছে।
উপজেলার ছোট নিজামপুর গ্রামের পাট চাষী আব্দুল আজিজ বলেন, চলতি বছর পাট চাষ করে বিপাকে পড়েছে পাট কাটার উপযোগী হওয়ার শর্তেও পচানোর জায়গার সংকট । যার ফলে পাট কেটে সেচ দিয়ে পানি উত্তোলন করে সেই পানিতে পাট পচন দিতে হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তাতে যা খরচ হচ্ছে পাট বিক্রি করে সেই খরচের টাকা উঠবে না।
চাষী সাইফুল ইসলাম শুকুর বলেন, বাজারে পাটের দাম প্রায় আড়াই হাজার টাকার উর্ধে। কিন্তু গত বছরের তুলনায় চাহিদা ও দাম ভালো হলেও এবছর খাল-বিলে পাট পচানোর পানি না থাকায় পাট পচানোর জন্য বাড়তি খরচ হচ্ছে। যার ফলে লাভবান হওয়ার কথা থাকলেও সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
পাট চাষী শান্তি মিয়া জানান, এবছর ভাদ্র মাসেও পাট কেটে পচানোর মতো পানির ব্যাপক সংকট। কিন্তু পাট তো কাটার উপযোগী হলে বেশিদিন রাখা সম্ভব হয় না। যার ফলে অনেক গাছ মরে শুকিয়ে যাচ্ছে ।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ মন্ডল বলেন, এ বছর পাটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ২‘শ হেক্টর জমি। আর আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। উপজেলায় সরকারী যে জলাশয়গুলো আছে পাট নিয়ে যারা বিপাকে তারা সরকারী জলাশয় গুলো (খাল- বিল, বেতনা-নদী) ব্যবহার করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here