নাটুয়াপাড়া রফি উদ্দিন প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারীর চরম মানবেতর জীবন যাপন

0
248

ইমদাদ হোসেন,চুড়ামনকাটি(যশোর)॥ যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের নাটুয়াপাড়া রফি উদ্দিন অটিষ্টিক প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারী চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারী সকল নিয়ম মেনে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ৮ বছরেও এখনো এমপিভুক্তি হয়নি। বেতন ভাতা ছাড়াই ১৫৮ জন প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো জড়িয়ে চলেছেন শিক্ষক শিক্ষিকাগন।
নাটুয়াপাড়ার শিক্ষানুরাগী রফি উদ্দিন ২০১৪ সালে নিজ জমিতে একটি প্রতিবন্ধি স্কুল চালু করেন। তিনি শুরু থেকে প্রথম শ্রেনি থেকে পঞ্চম শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন। তার এ কাজে সহযোগীতা করে স্কুলটির হাল ধরেন তার ছেলে হাবিবুর রহমান,স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক ও শহীদ পারভেজ। তারা নিরলসভাবে স্কুলটির সার্বিক কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে স্কুলটিতে ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন।শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে ১৫৮ জন। বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে,শিক্ষার্থীদের জন্য নেই তেমন ভাল কোন কাস রুম। ছোট ছোট টিন সেটের ৬ টি কক্ষে কাস নেওয়া হয় তাদের। শিক্ষকদের জন্য রয়েছে ছোট একটি অফিস রুম। কাস রুমের উপরের টিনগুলো ছিদ্র হয়ে যাওয়াই হালকা বৃষ্টি হলেই কাস রুমে পানি জমে যাই।ফলে প্রতিবন্ধিদের নিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক জানান,বিদ্যালয়ের সকল শ্রেনির বই উপজেলা থেকে দেওয়া হয় এবং বিদ্যালয়ের নিজস্ব খরচে শিক্ষার্থীদের খাতা ও কলম বিতারণ করা হয়।এছাড়া বিদ্যালয়ের নিজস্ব গাড়ীতে করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আনা নেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন,সরকার বিদ্যালয়টি এমপিভুক্ত করতে যে নীতিমালা দিয়েছে তার পুরোটায় আমাদের আছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন,নিজ খরচে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী ভর্তি সর্ম্পকে তিনি বলেন, যাদের উপজেলা থেকে প্রতিবন্ধির কার্ড আছে তারাই এখানে ভর্তির সুযোগ পাই। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মহাসিনা পারভিন বলেন,প্রতিবন্ধি শিশুদের সেবা দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টি এমপিভুক্ত করার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান। রেকেয়া নামের এক প্রতিবন্ধি শিশুর মা বলেন,আমার সন্তানসহ যারা এখানে পড়ালেখা করে তাদের খুবই যত্ন সহকারে দেখাশুনা করেন এখানে কর্মরত শিক্ষকগন।
রবিবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে,স্কুলে চলছে জাতীয় সংঙ্গীত। যা প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পড়ছেন।আবার সুন্দর মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় ডিসপ্লে।যার নেতৃত্বে দেন প্রতিবন্ধি শিক্ষার্থরা।যাদের দেখে বোঝার উপায় নেই যে এরা প্রতিবন্ধি। হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক জানান,বিদ্যালয়টি সুনামের সহিত এলাকার প্রতিবন্ধি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন।তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টি এমপিভুক্তের দাবি জানান।
এদিকে,রবিবার বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান যশোর সদর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম।তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ দেখে সন্তেষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,বিদ্যালয়টি এমপিভুক্তের জন্য তিনি তার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করবেন। এলাকাবাসীসহ শিক্ষকগন বিদ্যালয়টি দ্রুত এমপিভুক্তের জন্য সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here