একটি ব্রীজের অভাবে ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের দূর্ভোগ

0
328

জসিম উদ্দিন, শার্শা : মাত্র একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলার দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের কয়েক হাজারো মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরের অফিসে ধর্না দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেনা এই বাঁশ, কাঠ দিয়ে বানানো সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।
প্রয়োজনের তাগিদে স্থানীয়রাই বাঁশ, খুঁটি ও কাট দিয়ে সেতু তৈরি করে কোনো রকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করলেও বর্তমানে বাঁশ কাঠের ব্রীজটি জরাজীর্ণ হয়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা সহ নানান অপ্রিতীকর ঘটনা।
যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের সাড়াতলা-বেলতা সড়কের পন্ডিতপুর-বেলতা গ্রামের মধ্যবর্তী মৌতার খালে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজটি। খালের দু’পাড়ে ৩শ’ফুট দূরত্বের মধ্যে পাকা রাস্তা রয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সহজ ও খালের দু’পাড়ের স্থানীয় কৃষকদের মাঠের ফসল আনা-নেওয়ার একমাত্র পথ এটি।
জনগুরুত্বপূর্ণ এ খালের উপর স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় গত ৩/৪ বছর আগে বাঁশ ও কাট দিয়ে একটি সাঁকো নির্মাণ করা হয়। প্রতিদিন শতশত মানুষ ও যানবাহন চলাচলের ফলে সাঁকোটি ভেঙ্গে পড়ে বর্তমানে ব্যবহারে একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
কোনো মতে বাঁশ ও কাট দিয়ে তৈরি সাঁকো উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন তারা। বর্তমানে সাঁকোটির বেহাল অবস্থায় যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।
একটি ব্রীজের অভাবে সাত গ্রামের মানুষকে নিত্যদিন কৃষিপণ্য, বিপণন, চিকিৎসা ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।এছাড়াও গ্রামের শতশত মানুষকে নানা কাজে যাতায়াত করতে হয় খালের উপর তৈরি ঝুকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে অন্য গ্রামগুলোতে।
দীর্ঘদিন হলেও খালের উপর দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও আজও সুনজর পড়েনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের। ফলে দুটি উপজেলার মানুষের সেতু বন্ধন অধরাই রয়ে গেছে।
পন্ডিতপুর গ্রামের সুজাউদ্দীন জানান, কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এলাকার মানুষের প্রচেষ্টায় নিজেরাই সাঁকোটি তৈরি করেছি। সাঁকোটি এখন দুর্বল কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে আছে। অতি প্রয়োজনের সময় ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয় আমাদের। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।দ্রুত ব্রীজটি নির্মাণ করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয় কৃষক উজ্জ্বল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন সাঁকোটি বেহাল অবস্থায় থাকলেও কারর কোন মাথা ব্যাথা নেই। ওপার থেকে কৃষি পন্য আমাদের অনেক কষ্ট করে ৩/৪ কিলো ঘুরে নিয়ে আসতে হয়। আমরা দ্রুত একটা ব্রীজ চাই।
স্থানীয় নুর ইসলাম তরফদার জানান, সাড়াতলা-বেলতা সড়কের পন্ডিতপুর-বেলতা গ্রামের মধ্যবর্তী মৌতার খাল। কোনো মতে বাঁশ ও কাট দিয়ে তৈরি সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হচ্ছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।একটা ব্রীজ দ্রুত নির্মাণ হলে দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।এজন্য মাননীয় এমপি মহোদয় সহ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্থানীয় ডিহি ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান জজ বলেন, স্থানীয়দের সকলের সহযোগিতায় আমরা চলাচলের জন্য বাঁশ, কাট দিয়ে একটি সাকো নির্মাণ করি। দীর্ঘদিনের আমাদের একটা প্রানের দাবি খালের উপর একটা ব্রীজ নির্মাণ করা হলে আমাদের চলাচলের জন্য লাগব হবে।
এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ব্রীজ নির্মাণের। ব্রীজটি নির্মিত হলে শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনেতিক উন্নয়ন ও হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে জানান স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী এম এম মামুন হাসান বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here