শার্শা সীমান্তে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে সাড়ে তিন কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, আটক ৩

0
210

জসিম উদ্দিন, শার্শা : যশোরের শার্শা সিমান্তে ২৪ ঘন্টায় পৃথক তিনটি অভিযানে ভারতে পাচারকালে ৪ কেজি ৩৯৩ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যার মূল্য ৩ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এ সময় তিন পাচারকারীকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- বেনাপোল পৌর সভার ছোট আঁচড়া গ্রামের ইসমাইল সর্দারের ছেলে কুতুবউদ্দীন আশা (২৮) ও একই এলাকার নামাজ গ্রামের মৃত কালাম হোসেনের ছেলে সোহানুর রহমান বিশাল (২৭)। গোগা গ্রামের মৃত কালাম হোসেনের ছেলে সকিব হোসেন (১৮)। খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে বিজিবির একটি অভিযানিক দল রুদ্রপুর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে সাকিব হোসেন নামের এক পাচারকারীকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। পরে তার হাতে থাকা সারের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ১০ টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। এদিন রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুটখালি গ্রামের মসজিদ বাড়ি বিজিবি পোস্টে অভিযান চালিয়ে সন্দেহ ভাজন একটি প্রাইভেট কার গতি রোধ করা হয়। এসময় প্রাইভেট কারটি তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ছিটের বা পাশের মধ্যে লুকিয়ে রাখা এক কেজি ৬০ গ্রাম ওজনের এক পিচ বড় স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এসময় প্রাইভেট কারসহ কুতুবউদ্দিন আশা ও সোহানুর রহমান বিশাল নামের দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়।
একইদিন রাতে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের আমড়াখালি বিজিবি পোস্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ায় বিজিবি সদস্যরা। এসময় চেকপোস্ট এলাকায় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে গতিরোধ করতে সংকেত দিলে সে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে বিজিবি সদস্যরা তাকে ধাওয়া করলে সে বেনাপোল সীমান্তের মালিপুতা এলাকায় মোটরসাইকেল ফেলে গ্রামের মধ্যে পালিয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেল তল্লাশি করে ১৮ পিচ স্বর্ণ বার উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, তিনটি অভিযানে মোট ২৯ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। যার মোট ওজন ৪ কেজি ৩৯৩ গ্রাম এবং মূল্য ৩ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। আটক পাচারকারীদের মামলা দিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।এদিকে সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানের ফলে চলতি মাসের গত ২৯ দিনে ১৫ কেজি ৯১৫ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে বিজিবি। এসময় আটক করা হয়েছে ৯ জন চোরাচালানীকে।শার্শা সীমান্ত এলাকা থেকে একের পর এক ধরা পড়ছে সোনার বার ধরা পড়ায় এই উপজেলাকে গোল্ডেন শার্শা বলে আখ্যায়িত করছে অনেকে।
সোনা পাচার রোধকল্পে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা হবে। স্বর্ণের চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার সর্বাত্বক প্রচেষ্টা সর্বদা অব্যাহত থাকবে বলে জানান বিজিবির উর্ধতন কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here