ইবিতে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের ২ জেনারেরের বেহাল দশা!

0
281

রানা আহম্মেদ অভি,ইবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বেহাল দশাতে পরিত্যক্ত স্থানে অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে ২ কোটি ৩৭ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের দুটি জেনারেটর। মূলত সাবস্টেশন নির্মাণের উদ্দেশ্যে জেনারেটর দুটি আনা হলেও সাবস্টেশন না থাকায় প্রায় এক বছর ধরে টিন সেডের ভিতরে স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে রাখা হয়েছে জেনারেটর দুটি। এ নিয়ে ঠিকাদার কোম্পানি মজিদ সন্স কন্সট্রাকশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিস দুষছে একে অপরকে। প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী শহীদ উদ্দীন মো. তারেক জানান, জেনারেটর ক্রয় সম্পর্কে আমরা ঠিকাদার কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছিলাম। কোনো ধরনের চূড়ান্ত আলোচনা না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের অনুমতি ছাড়াই ক্যাম্পাসে জেনারেটর দুটি রেখে গেছে। দীর্ঘ একবছর অচলাবস্থায় থাকায় জেনারেটর দুটি নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবুও সাবস্টেশন নির্মাণের পর ওই জেনারটের দুটিই বসানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ৪টি জেনারেটর সাবস্টেশন রয়েছে। নতুন আরও দুটি সাবস্টেশন নির্মাণের লক্ষ্যে দুটি জেনারেটর ক্রয়ের চুক্তি করা হয় ঠিকাদারি কোম্পানি মজিদ সন্স কন্সট্রাকশনের সঙ্গে। যেখানে দুটি জেনারেটরের মোট মূল্য ২ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৬৯৬ টাকা। যার একটি ৫০০ কেভিএ এর মূল্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৬ টাকা, অন্যটি ৩০০ কেভিএ এর মূল্য ৯১ লাখ ৩৯ হাজার ২১০ টাকা। যা গত বছরের শেষ দিকে ইবিতে আনা হয়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন মহলে উঠছে নানান প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠছে এটিই কী আবার সাবস্টেশনে স্থাপন করা হবে?
জানা গেছে, উন্নয়ন (৩য় পর্যায়) ১ম সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় চুক্তি করা ২টি জেনারেটর বুঝে নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। কমিটির অন্যান্যরা হলেন— ইইই বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল মোমেন, ঝিনাইদহ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ইবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌ. (মেকানিক্যাল) আব্দুল মালেক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌ. (বিদুৎ) এ.কে.এম শরীফ উদ্দীন।
জেনারেটর দুটি ফেলে রাখার বিষয়ে ঠিকাদারি কোম্পানী মজিদ সন্স কন্সট্রাকশন প্রজেক্ট ম্যানেজার মশিউর রহমান রাসেল বলেন, ‘এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল বিভাগ বিস্তারিত বলতে পারবে। এটা কবে ক্যাম্পাসে গেছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ইবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌ. (বিদ্যুৎ) এ.কে.এম শরীফ উদ্দীন বলেন, ‘মজিদ সন্স কোম্পানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এনে জেনারেটর দুটি রেখে দিয়েছে। সাবস্টেশন নির্মাণ শেষে জেনারেটরের প্রয়োজন কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই আগেই জেনারটের নিয়ে এসে রেখে দিয়েছে। ইবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌ. (মেকানিক্যাল) আব্দুল মালেক, জেনারেটর দুটি স্যাঁতস্যাতে মাটির ওপর রেখে দিয়েছে। এগুলো তো ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি। ড্যামেজ জায়গায় রাখলে মেশিনের পার্টস ড্যামেজের ফলে আয়ুকাল কমে যায় এবং দ্রুত মেশিন গুলো নষ্ট হয়ে যায়।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here