দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা উপানুষ্ঠানিক শিায় বাঘারপাড়ায় নৈরাজ্য

0
245

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলায় অনিয়ম-দুর্নীতি-জালিয়াতির মাধ্যমে ঝরে পড়া শিার্থী দেখিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিার নামে সরকারি অর্থ লোপাটের চেষ্ঠা চলছে। এই অনিয়মে জড়িত দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিার্থীদের নিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিা কার্যক্রম চলছে। বাঘারপাড়া উপজেলায় ঝড়ে পড়া শিার্থীদের জন্য প্রাথমিক পর্যায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ শিা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত হয় যশোরের দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা।
অনিয়ম-দুর্নীতি-জালিয়াতির মাধ্যমে ঝরে পড়া নয়, এমন শিার্থীদের দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিাকেন্দ্রে কার্যক্রম চালছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি স্কুলে ২০-৩০ জন শিার্থী থাকবে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এখানে ভর্তি করা যাবে না। ছাত্রছাত্রীর বয়স হবে ৮ থেকে ১৪ বছর। নানা সুযোগ-সুবিধার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের শিন কেন্দ্রে ফ্যান কেনার জন্য টাকা বরাদ্দ আছে। কিন্ত বাস্তবতা ভিন্ন। ফ্যান থেকে শুরু করে শিার্থীদের কিছুই দেওয়া হয়নি। অধিকাংশ স্কুল করা হয়েছে বিভিন্নজনের বারান্দায়, গোয়ালঘরের পার্শে, রান্নাঘর বা দোকানঘরে। এমনকি জাতীয় পতাকা ঘরের আড়ায় ঝুঁলিয়ে রাখা। এসব জায়গায় সাইনবোর্ড থাকলেও কাস হয় না। কোনো স্কুলে ৩০ জন শিার্থী নেই। কয়েকটি স্কুল চললেও শিার্থীর সংখ্যা ৭-৮ জন। তারাও অন্য প্রতিষ্ঠানের। ধলগ্রাম ইউনিয়নের এক কেন্দ্র বল্লামুখ শিা কেন্দ্র কাস করছে সাত শিশু। এরা বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের শিার্থী। এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্বপ্না রানী কুন্ডু নামে এক নারীকে। শিার্থীরা জানান কোন দিনই তিনি (স্বপ্না রানী কুন্ডু) কেন্দ্রে আসিনি। তার স্বামী কৃষ্ণ হরি কুন্ডু কাস নেন। দোহাকুলা ইউনিয়নের বহরমপুর কেন্দ্রে দেখা যায় ৭জন শিার্থী। শিার্থী মাছুম বিল্লাহ জানান সে বহরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। তারা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিার্থী হলেও লোভ দেখিয়ে এসব স্কুলে ভর্তি করা হয়। জহুরপুর, বন্দবিলা, রায়পুর ও বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের কয়েক কেন্দ্রসহ অধিকাংশ ইউনিয়নে শিাকেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাইনবোর্ড সর্বস্ব দু-একটি শিা কেন্দ্রে ৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিার্থী নিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিা কার্যক্রম সচল দেখানো হচ্ছে। এমন চিত্র সারা উপজেলায়। বিল সাদীপুর কেন্দ্রের শিার্থী মেঘনা সুলতানা মীমের পিতা রাজু মোল্লা জানান, আমার মেয়ে উপানুষ্ঠানিক শিন কেন্দ্রে পড়েনা। সে মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী। নিয়োগপ্রাপ্ত বেশ কয়েক শিকিা জানান, খাতা-কলমে ২৮- ৩০ জন থাকলেও শিাকেন্দ্রে আসে সাত-আটজন। তাদের মধ্যে ২/১ জন ঝরে পড়া শিার্থী। শিকরা জানায়, তারা এ পর্যন্ত কোন বেতন ভাতা পাননি ফলে কাস চলে দায় সারা ভাবে। তবে এনজিও দিশা সংস্থা বই, বোর্ড , খাতা , চক, কাটার , পেসন্সিল ও পাটি দিয়েছে। এনজিও দিশা সমাজ কল্যান সংস্থার উপজেলা প্রোগ্রাম ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান ঝরে পড়া শিার্থীর সংখ্যা জানাতে ব্যর্থ হন। তিনি জানান সঠিক তথ্য তার জানা নেই। এখনও টাকা পাননি, তাই স্কুলের ফ্যান দেওয়া হয়নি। ২/১টি কেন্দ্রে বেড়া নেই। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের শিার্থী এসব কেন্দ্রে পড়ে কি না জানা নেই। জেলা ম্যানেজার কামরুল ইসলাম জানান, ২০ টি কেন্দ্রে কার্যক্রম চলছে। ৫০ কেন্দ্র অনুমোদনের অপোয়।
এনজিও দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাহিমা সুলতানা জানান, বাঘারপাড়ায় ৭০টি কেন্দ্র চলছে। ফান্ড আসেনি এখনও তাই কিছু সমস্যা রয়েছে। ফান্ড আসলে সব ঠিক হবে। উপজেলা শিা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাথমিক শিা অফিসের জরিপ অনুযায়ী ঝরে পড়া শিার্থীর সংখ্যা ৩৪ জন, কিন্তু ৭০ কেন্দ্রে ২১০০ শিার্থী কোথা থেকে এসেছে তা তার বোধগম্য নয়। এই কর্মকর্তা আরো জানান প্রথম পর্যায়ে ২০ কেন্দ্রের অনুমোদনের সময় আমাদের সাথে যোগাযোগ ছিল। অবশিষ্ট ৫০ কেন্দ্রের বিষয় আমার জানা নেই। উপজেলা নিবার্হী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান জানান, ‘দেখে শুনেই এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে।’ উপানুষ্ঠানিক শিা অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মুহম্মদ বজলুর রশিদ বলেন, বাস্তবায়ন সংস্থা কোনো অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ডিসি স্যার সার্বিক বিষয়ে মূল্যায়ন করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here