শালিখায় আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে ইট ভাটা

0
188

স্টাফ রিপোর্টারঃ মাগুরার শালিখায় আইনের তোয়াক্কা না করে তিন ফসলী জমি দখল করে একের পর এক গড়ে উঠছে ইটভাটা। উপজেলার শতখালী, দেওয়াডাঙ্গা, শরুশুনা, কুশখালী সহ বিভিন্ন এলাকায় ফলসি জমিতে গড়ে উঠেছে অন্তত ৭/৮টি ইটভাটা। শুধু ফসলি জমি নয়, বসতি জমি ফলজ বাগান দখল করে এসব ইটভাটা স্থাপন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে একদিকে কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে৷ অন্যদিকে পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছেন এলাকার মানুষ। অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর এ ভাটাগুলো অবৈধভাবে ইট পুড়িয়ে যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই এসব ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হলেও ভাটাগুলোতে অবৈধভাবে ইট পোড়ানো বন্ধ হয়নি৷ এব্যাপারে ভাটার মালিকগনদের বক্তব্য নিতে সরজমিনে গেলে বক্তব্য না দিয়ে তারা নানা তালবাহানা করে প্রভাবশালী নেতাদের দোহায় দিয়ে বলেন আমাদের ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতির সাথে কথা বলেন৷ শালিখা উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ শফিকামালের বক্তব্য নিতে গিয়ে জানা যায় তিনি চিকিৎসা নিতে ভারত গেছেন৷ যে কারনে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি৷
পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করেই লোকালয় ও ফসলি জমির পাশে গড়ে উঠেছে এসব ভাটা। ভাটার কালো ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি ফসল ও গাছপালার ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বিবেচনায় এসব ভাটাকে অবৈধ ঘোষণা করা উচিৎ বলে মনে করেন আইন অধিকার বাস্তবায়ন পরিচালক গবেষক শ্রী ইন্দ্রনীল বিশ্বাস৷ আবাদী জমিতে ভাটা স্থাপনের কোন নিয়ম না থাকলেও কৃষি জমি বন্ধ করে শালিখায় প্রতি বছরই গড়ে উঠছে নতুন নতুন ইট ভাটা। লোকালয়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে ৩ কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপনের নিয়ম থাকলেও কোন ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না।
একই সঙ্গে ইটভাটার জন্য সর্বোচ্চ ৩ একর জমি ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও প্রায় ৯৯ শতাংশ ভাটায় ৮ থেকে ১৬ একরের উর্দ্ধে জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে ফসলী জমি, খাল ও পুকুরের মাটি কেটে ভাটা গুলোতে বিকিকিনি হচ্ছে ৷ অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবী জানিয়ে শালিখা উপজেলা সদর আড়পাড়া গ্রামের বাবর আলী বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, উপজেলার শতখালী গ্রামসহ আরোও অন্যান্য গ্রামে একাধিক অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ হয়েছে৷ যেখানে একটি ভাটারও সরকারি অনুমোধন নাই৷ অবৈধ ইটভাটার কারনে এলাকাবাসীর অপূরনীয় ক্ষতি হচ্ছে৷ একদিকে ফসলী জমির মাটি কেটে সয়লাভ করছে৷ অন্যদিকে গাছপালা কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে৷ অপরদিকে অবৈধ যানবাহন ব্যবহার করছে৷ যা একটি গাড়িরও বিআরটির অনুমোদন নাই৷ এছাড়াও অপ্রাপ্ত, বয়স্ক লোক দিয়ে গাড়ির ড্রাইভিং করানো হচ্ছে৷ এতে প্রতিহত ঘটছে দূর্ঘটনা৷ হাইরোড, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা থেকে দুরত্ব বজায় রেখে ভাটা করার কথা থাকলেও তা করেননি ভাটার মালিকগন৷ সকল ভাটাগুলোই আবাসিক এলাকায় নির্মিত হয়েছে৷ ভাটার কালো ধোয়ায় জনসাধারনের ছর্দি, কাশিসহ নানা রোগ ব্যধি ছড়িয়ে পড়ছে৷ একটি ভাটারও পরিবেশ অধিদপ্তর এর ছাড়পত্র নাই বলে তিনি উল্লেখ করেন৷ শালিখা স্বাস্থ্যকম্প্লেক্সের টিএইচএ ডাঃ সাইমুন নিছা বলেন, ইট ভাটার কালো ধোয়ার কারনে লান্সে ইনফেকশন হতে পারে, কাশি, সর্দি, স্বাসকষ্ট হতে পারে এমনকি যারা ভাটাই দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে তাদের ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে৷ এছাড়াও ভাটার কালো ধোয়ার কারনে শিশুদের নিউমোনিয়া ও স্বাসকষ্ট সহ নানা বিধ রোগ হতে পারে৷ শালিখা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে নিলে জমির উপরি ভাগ বা উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়৷ তিনি আরো বলেন, এক ফসলী জমিতে ইট ভাটা করতে পারবেন কিন্তু তিন ফসলী জমিতে ভাটা স্থাপন করতে পারবেন না৷ যদি তিন ফসলী জমিতে ভাটা স্থাপন হয়ে থাকে তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবেন৷ পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের (উপসচিব) মোঃ ইকবাল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ শালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন মনিরার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সকল ভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here