হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে রোপা আমন ধানের আবাদি বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। যেনো চারিদিকে সবুজের সমারোহ। সমুদ্রের ছোট ছোট ঢেউয়ের মতো বাতাসে খেলে যাচ্ছে সবুজ ধানের গাছগুলো। আর এমন সবুজ সমুদ্রের ঢেউয়ে দুলছে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন। সবুজ ধান গাছের পাতার ফাঁকে সোনালী শীষে ছেয়ে আছে মাঠ। এবছর আমন ধান চাষে কৃষকের খরচ হয়েছে অন্য বারের চেয়ে বেশি। অনাবৃষ্টি ও জ্বালানি তেলের সংকটে সঠিক সময়ে অনেকেই ধান রোপন করতে পারেনি। তবে নানান প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সোনালী ধানের শীষে ঝঁলমল করছে মাঠের পর মাঠ। এই রাশি রাশি সোনালী ধানে ভরে উঠবে কৃষাণীর শুন্য গোলা। ধান বিক্রিতে পরিশোধ হবে দেনা, ঋণের বোঝা, মিটাবে সংসারের ভরণপোষণ, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ও নতুন জামার বায়না, কৃষাণীর গায়ে জড়াবে নতুন শাড়ি।
রাজগঞ্জের মশ্বিমনগর ইউনিয়নের কাঁঠালতলা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আব্দুল আজিজ। পাঁচবিঘা জমিতে এবার আমন ধান চাষ করেছেন। শনিবার (০৫ নভেম্বর-২০২২) বিকালে সুষ্ঠু সবল সবুজ ধান ক্ষেত তিনি দেখতে যেয়ে ধান গাছগুলো দেখে তার মনটা খুশিতে ভরে উঠেছে। তিনি বলেন- প্রতিদিন কাক ডাকা ভোরে ও বিকালে ধান ক্ষেতের আইলে-আইলে ঘুরে বেড়ায় আর স্বপ্নের ধান ক্ষেত দেখি। তিনি বলেন- সন্তানের মতো স্নেহের স্পর্শ দিয়ে ধান গাছের পরিচর্যা করেছি। মহান আল্লাহপাক এই কষ্ঠের ফল দিয়েছেন।
গ্রামে গ্রামে দেখাগেছে- ধান বাড়িতে আনা হবে তাই, কৃষাণিরা বাড়ির উঠান, ধানের গোলাসহ ইত্যাদি জিনিসপত্র গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ বছর সার ও জ্বালানি তেল, কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি থাকায় আমন ধান চাষে কৃষকের খরচ বেশি হয়েছে। সেচের মাধ্যমে ধান ক্ষেতে পানি দিয়েছেন যার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তারপরেও ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রতি বিঘায় ৩৫ মণেরও বেশি আমন ধান উৎপাদন হবে বলে জানান কৃষকরা।
একই গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন- ধানে কিছুটা পোকা লেগে, কিছুটা ক্ষতি হয়ছে। তবুও ফলন খুব ভালো হবে আশা করছি।
ঝাঁপা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নজরুল ইসলাম, আব্দুস সালাম, সবুজসহ অনেকেই বলেন- এবছর ধানের চেহারা অনেক সুন্দর হয়েছে। সবল-সতেজ গাছগুলো দেখে মনে হয় ধানের ব্যাপক ফলন হবে।
তারা আরো বলেন- ভালোভাবে এ ফসল ঘরে তুলতে পারলে তাদের অন্তত ছয় মাসের খুরাকির চাহিদা পূরণ হয়। এ কারণেই আমন ধান আগ্রহ করে চাষ করেন রাজগঞ্জ অঞ্চলের চাষিরা।
কৃষকরা বলেন- ধান ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকুক এবং ভালোভাবে ধান ঘরে তুলি এই আশা করছি। বাজারে ধানের মূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি রয়েছে।
সরকারের কাছে কৃষকদের দাবি- সার-বীজ, কীটনাশক ও বিদ্যুতের দাম যদি কমায় আর ঘাটতি না থাকে, তাহলে প্রান্তিক চাষিদের দুঃখ-দুর্দশা ঘুচে যাবে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন- আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, কৃষকরা ভালো ভাবেই ধান ঘরে তুলতে পারবে এবং ভালো পরিমাণ ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।















