ইমদাদ হোসেন,চুড়ামনকাটি॥ মাত্র কয়েকটি পিয়াজ ও কাঁচা মরচি চুরির দায়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় এক মহিলাকে।মারপিট করার পর তাকে মাথার চুল কেটে দিয়েছে অপরাধীরা।ঘন্টার পর ঘন্টা গাছের সাথে বেঁধে তাকে নির্যাতন করা হয়।ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির দোগাছিয়া গ্রামে।ভুক্তভোগী মহিলা বর্তমানে যশোর ২৫০ শস্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।এব্যাপারে নির্যাতিত মহিলার পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ মতে,যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের দোগাছিয়া গ্রামের ভ্যান চালক সোহরব হোসেনের স্ত্রী জহুরা ওরফে কুটি বেগম রবিবার রাতে একই গ্রামের পাশের মনছুরের বাড়িতে যান নাতনির জন্য তেল পড়তে।এ সময় মুনছুরের ছেলে আলামিন ও জাহিদুলের ছেলে রিয়াদ হোসেন তাকে চোর বলে আটক করে।আলামিনের দাবি কুটি বেগম তাদের রান্না ঘর থেকে কয়েকটি পিয়াজ ও কাচাঁ মরিচ চুরির সময় হাতেনাতে আটক করা হয়।কুটি বেগমের স্বামী সোহরব হোসেন জানান আটকের পর তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারপিট করতে থাকে কয়েকজন।পরে তার মাথার চুল কেটে দেয় তারা।ঘন্টার পর ঘন্টা তাকে বেঁধে মারপিট করা হলেও তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসিনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আহত কুটি বেগম বলেন একই গ্রামের কলিম গাজীর ছেলে হারুন তার স্ত্রী লাবনী বেগম মুনছুর আলীর ছেলে আলামিন ও তার স্ত্রী কেয়া খাতুন তার বড় ভাবি সিমা বেগম তাকে আটকে রেখে রাতভর অমানুষিক নির্যাতন চালায়।পরে পাশের বাড়ির জাহিদুলের স্ত্রীর সহযোগীতায় তার মাথার চুল কেটে দেয় অভিযুক্তরা।
কুটি বেগমের ভাইপো দুলাল মিয়া বলেন সামন্য মিথ্যা চুরির অভিযোগ এনে অভিযুক্তরা আমার ফুফুকে যেভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা মারপিট ও নির্যাতন করেছে তা অমানবিক।তিনি আরো জানান অবস্থা গুরুত্বর হওয়াই সোমবার বিকালে তার ফুফুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সেলিম হোসেন বলেন লোক মুখে ঘটনাটি শুনেছি অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।তিনি আরো বলেন মহিলা চোর হলে তাকে আটকে রেখে আমাদের খবর দিতে পারতো।
এ ব্যাপারে চুড়ামনকাটি ইউপি চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন চুরির অপবাদে একজন মানুষকে এভাবে মারপিট ও নির্যাতন করা আইনের পরিপন্থী। তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন একজন মানুষ অপরাধ করলে তাকে পুলিশে সোর্পদ করতে পারতো।কিন্ত চুরির অভিযোগে একজন মহিলার সাথে যা করা হয়েছে তা জঘন্য।
ভুক্তভোগী কুটি বেগমের স্বামী বলেন বর্তমানে আমার স্ত্রী যশোর ২৫০ শস্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান।















