ঠিকাদারের অবহেলায় ৬ মাস পার ডুমুরিয়া উপজেলা হতে থানা সড়কের ব্রীজটি নির্মান কাজ থমকে পড়েছে।

0
227

গাজী আব্দুল কুদ্দুস,ডুমুরিয়া (খুলনা) ॥ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ হতে থানা ও ভূমি অফিসে যাতায়াতের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর নির্মানাধীন ব্রীজটি নির্ধারিত ৬ মাসেও সম্পন্ন না হওয়ায় জনভোগান্তি চরমে পৌছেছে। আর নদীর দু’পাশে আংশিকভাবে ১৮টি পিলার তৈরি হলেও গত ৪ মাসে পলি-মাটি জমে সেগুলো ঢাকা পড়েছে।
ভুক্তভোগি জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, এক সময়কার খরশ্রোতা এই নদীটি পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় সরকারি উদ্যোগে গত ২ বছর আগে খনন করলেও বর্তমানে ৩০-৪০ ফুট চওড়া খালে পরিণত হয়েছে। অনেক বছর আগে থেকেই ওই স্থানে বড় স্টিলবডি-কাঠের সেতু ছিলো। আর ডুমুরিয়ার এই প্রধান সড়কের দুইপাশে অসংখ্য দোকান-পাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান। কিন্তু নদী খননের সময় সেই কাঠের সেতুটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ও দোকানপাটে ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে পড়ে। ওই সময় এলাকার ব্যবসায়ীরা টাকা দিয়ে মাত্র ১২ জোড়া বাঁশের খুঁটির ওপর জোড়া-তালি দিয়ে মানুষের চলাচলের জন্য একটা কাঠ-বাঁশের সেতু গড়ে তোলা হয়। তখন এলাকাবাসীর ওই দূরাবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সাবেক মন্ত্রী খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি সরকারের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে ডুমুরিয়া বাজার হতে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সড়কে শালতা নদীর ওপর ৫০ ফুট লম্বা ও ১৩ ফুট চওড়া এই ব্রীজটি নির্মানের পরামর্শ দেন। অফিস চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একই প্রকল্পের মধ্যে উপজেলার আরও ৬টি নদী-খালের ওপর গার্ডার ব্রীজ নির্মান কাজও শুরু করে। আর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদার শেখ ওমর ফারুক এই ব্রীজটি নির্মানের জন্য ৭৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকায় কার্যাদেশ পেয়েও নির্ধারিত ৬ মাসের মধ্যে নদীর দু’পাশে ৯টি-৯টি মোট ১৮টি পিলারের অংশ-বিশেষ তৈরি করে ফেলে রেখেছে। আর ৪ মাস ধরে পলি-মাটি পড়ে সেই পিলার গুলো মাটির তলে চলে গেছে।
এ ব্যাপারে ব্রীজ সড়কে মিষ্টির দোকানদার গণেশ চন্দ্র পাল বলেন, কাঠের সেতুটি ভেঙ্গে গেলে মানুষ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় আমাগে সকল প্রকার কেনা-বেচাও বন্ধ হয়ে যায়। তখন আমরা ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে কাঠ-বাঁশের একটা সেতু তৈরি করেছি। ব্যবসায়ী কানাই চক্রবর্তী বলেন, ব্রীজ নেই বলে আজ আমাগে এতো বড় বাজারে কোন দোকানে বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে। চা’র দোকানদার আকব্বর মোড়ল বলেন, ঠিকাদার ৪ মাস আগে ১৮টি পিলার তৈরি করেছিলো। কিন্তু নদীর পলি পড়ে তা ঢাকা পড়ায় আজ তার কোনো চিহ্নও নেই। প্রতিদিন ঝুকি নিয়ে ওই কাঠের সেতু পারপার হওয়া সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন কচি বলেন, এলাকাবাসীর কষ্টের কথা বিবেচনা করে এমপি স্যার ব্রীজটা দিলো। কিন্তু ঠিকাদার কাজ না করে ফেলে রাখায় প্রতিদিন সমগ্র ডুমুরিয়া উপজেলার নারী-শিশু-বৃদ্ধ-সহ হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে এই ভাঙ্গা সেতু দিয়েই থানা, এসিল্যান্ড অফিস ও স্কুল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাতদিন ধরে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
ঠিকাদার শেখ ওমর ফারুক বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ব্রীজের ১৮টি পিলার তৈরি করেছি। আর জোয়ার-ভাটার নদীতে গেলো বর্ষার পানির খুব চাপ থাকায় আমরা কাজটা করতে পারিনি। তবে দ্রুত কাজ শুরু করবো।
এই ব্রীজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, একই প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ৭টি গার্ডার ব্রীজ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ওই ৭টির মধ্যে উপজেলার আন্ধারমানিক, বয়ারসিং ও দোয়ানিয়ার খালের ওপর ব্রীজটি ঠিকাদার খন্দকার শহীদুল ইসলাম কাজ শুরুই করেনি। আর সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ ডুমুরিয়া থানা সড়কের এই ব্রীজটি মেয়াদ শেষ হলেও আংশিক কাজ করেছে। তাই শর্ত ভঙ্গের জবাব চেয়ে ২বার চিঠি দিয়েছি এবং তাকে কোন বিলও দেইনি। সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি বলেন, আমরা এলাকার মানুষের কষ্ট কমাতে অনেক চেষ্টা করছি, কিন্তু ঠিকাদারের কারণে এ অবস্থা মানা যায় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here