সুবাস ছড়িয়ে শেষ হল আইডিয়ার তিনদিনব্যাপী পিঠা পার্বণ উৎসব পিঠা আমাদের সংস্কৃতির ধূলো পড়া এক সমৃদ্ধ রত্নভান্ডার- জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান

0
257

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে তিনদিনব্যাপী পিঠা পার্বণ উৎসবের শেষ হয়েছে। শনিবার রাতে যশোর শহরের খড়কি এলাকায় অবস্থিত আইডিয়া পিঠা পার্কে উৎসব আয়োজনে পিঠা পার্বণের পর্দা নামে। অনুষ্ঠানে সবশ্রেণির মানুষ সুস্বাদু নানা ধরণের পিঠার স্বাদ নিতে পেরে দারুণ খুশি। এর আগে গত ১০ নভেম্বর যশোরে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ পিঠা গবেষণা ইনস্টিটিউটের। আইডিয়া পিঠা পার্কের ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এই ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করা হয়। একইসাথে এই ইনস্টিটিউটের প্রথম প্রকাশনা বাংলাদেশের অঞ্চলভিত্তিক পিঠার সম্ভার গ্রন্থের মোড়কও উন্মোচন করা হয়। এ উপলক্ষে যশোর শহরের খড়কির আইডিয়া কার্যালয়ে শুরু হয় তিনদিন ব্যাপী পিঠা পার্বণ উৎসব। শনিবার রাতে পিঠা পার্বণ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, বিশিষ্ট শিাবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তুষার কুমার পাল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পিঠা গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও আইডিয়া পিঠা পার্কের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক মো. হামিদুল হক, আইডিয়া পিঠা পার্কের কো-অর্ডিনেটর সোমা খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, পিঠা আমাদের সংস্কৃতির ধূলো পড়া এক সমৃদ্ধ রত্নভান্ডার। একে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিয়ে যাওয়া ও বিলুপ্তপ্রায় পিঠাকে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই সম্ভব দেশজ সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার। আইডিয়া পিঠা পার্ক শুধু দেশীয় সংস্কৃতিকেই বাঁচিয়ে রাখছে না, বরং তৈরি করছে হাজারো বেকার শিার্থীর কর্মসংস্থান। আইডিয়া পিঠাপার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা হামিদুল হক শাহীন সমাজের অনুকরণীয়। এই সমাজে হামিদুল হক শাহীনের মতো ব্যক্তির অনেক প্রয়োজন। তাদের এই পথচলা আরোও সুন্দর হোক। আইডিয়া পিঠা পার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা মো. হামিদুল হক জানান, দেশীয় ঐতিহ্যের পিঠার সম্ভার ফিরিয়ে আনার লে ২০১৭ সালে ৯ ডিসেম্বর অন্যরকম এক সংগ্রামে নামে আইডিয়া পিঠা পার্ক। প্রথমে ল্য ছিল শিার্থীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। শিার্থীরা চাকরির পিছনে না ছুটে যাতে কর্মমুখি হতে পারে। আজকের জনপ্রিয় ফাস্টফুড কোনো নিক্তিতেই এ দেশের পিঠাপুলির চেয়ে এগিয়ে ছিল না। যদিও শক্তিশালী মার্কেটিং আর কর্পোরেটের ছোঁয়া আমাদের খাদ্যাভ্যাসে এনে দিয়েছে পরিবর্তন। আমরা হারাতে বসেছি বাংলার বৈচিত্র্যময় পিঠার সম্ভার। দেশীয় ঐতিহ্যের পিঠার সম্ভার ফিরিয়ে আনার লে আমরা যে সংগ্রামে নেমেছিলাম তাতে সফল হয়েছি। আমরা যে ল নিয়ে এগিয়েছিলাম মানুষ সেই পিঠাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। মানুষ পিঠাকে ভোলেনি। পিঠার মতো এমন অনন্য খাদ্যসম্ভার যে আমাদের রয়েছে, যথাযথ উদ্যোগ নিতে পারলে পিঠাই হতে পারে আমাদের অর্থনীতির আরেকটি প্রাণশক্তি।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা জানান, আইডিয়া পিঠাপার্ক মূলত শিার্থীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি উদ্যোগ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যশোরের খড়কী শাহ্ আব্দুল করিম রোডে আইডিয়া পিঠা পার্ক যাত্রা শুরুর পর থেকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ভিন্ন আয়োজনের এই প্রতিষ্ঠানটিকে। প্রথম থেকে আইডিয়া পিঠা পার্কে ১০১ রকম পিঠা দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ রকমের ঝাল-মিষ্টি পিঠার সম্ভারে। থরে-বিথরে সাজানো পিঠা যা দেখে চমকিত হবেন যে কেউ। যেসব পিঠায় দাদি-নানিদের স্পর্শ ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে শহুরে জীবনের যান্ত্রিকতায় তা হারিয়ে যেতে বসেছে। সেইসব পিঠা যেন একত্রিত হয়ে নতুন প্রাণ পেয়েছে এখানে। ব্যক্তিবিশেষের পছন্দ অনুযায়ী সকাল থেকে রাত অবধি স্বাদ নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এখানে নিরলস পরিশ্রম করছেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। যারা সবাই কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থী। একঝাঁক আলোকিত উদ্যোক্তা প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে কাজ করছেন পিঠাশিল্প রায়। এছাড়া শিার্থীদের দিয়ে তৈরি আইডিয়া পিঠা পার্কের পণ্য এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে। উদ্যোক্তারা জানান, পিঠা পার্ক থেকে অর্জিত লভ্যাংশ শুধু সদস্যরাই নেন না, বরং এর একটা বড় অংশ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও সামাজিক কাজের জন্য ব্যয় করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here