খুলনা জেলার পাইকগাছা সহ দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তালগাছ ও বাবুই পাখি

0
233

জি এ গফুর, পাইকগাছা : খুলনা জেলার পাইকগাছা সহ দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তালগাছ ও বাবুই পাখি। তালগাছ ্ও বাবুই পাখির বাসা একই সুত্রে গাথা একই বৃত্তে দুটি ফুল। আবহমান কাল থেকেই বাংলার গ্রামাঞ্চলের আনাছে – কানাছে মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিল তাল গাছ ও বাবুই পাখির বাসা । একটি যেন অপরটির পরিপূরক। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটি কল্পনার বাইরে। পাঠ্যপুস্তকে কতই-না কবিতা রয়েছে তালগাছ ও বাবুই পাখি নিয়ে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তালগাছকে নিয়ে,এবং কবি রজনীকান্ত সেন বাবুই পাখিকে নিয়ে লিখেছেন কবিতা।কিন্তু এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এখন আর চোখেই পড়ে না। কালের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে সেই দৃষ্টিনন্দন পাখি, তার বাসা, বাসা তৈরির নৈসর্গিক দৃশ্য ও গ্রামের ঐহিত্যবাহী তালগাছ এ দুটোই আজ বিলুপ্তির পথে।সেই সাথে হারিয়ে গেছে বইয়ের পাতা থেকে গ্রাম বাংলার আবহমান কালের সেই সব কবিতা।
পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একসময় যেসব গ্রামে সারিসারি তালগাছ ছিল, সেইসব তালগাছের পাতায় পাতায় মোড়ানো থাকতো বাবুই পাখির বাসা। পাশাপাশি পাখির কিচির-মিচির শব্দে গ্রামাঞ্চল মুখরিত থাকতো। সেইসব গ্রামে এখন আর তালগাছও নেই, বাবুই পাখির বাসাও নেই। ১০-১২ বছর আগেও গ্রামের রাস্তা-ঘাট, পুকুরপাড় ও মাঠের মধ্যে সারিসারি তালগাছ ছিল। আষাঢ় মাস আসার আগ থেকেই বাবুই পাখি বাসা বুনতে শুরু করতো তালগাছে। তখন কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত থাকতো পুরো গ্রাম।এইরকম ছোট্ট একটা পাখি, ছোট্ট তাদের মস্তিষ্ক। কিন্তু এদের বুদ্ধির তারিফ না করে সত্যিই থাকা যায় না। বাবুই পাখি যে বাসাটি বানাত, তা সত্যিই অত্যান্ত উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং এর নিদর্শন। কিন্তু কী করে এরা এদের অতিক্ষুদ্র মস্তিষ্ক দিয়ে দিক নির্ণয় করে তা সত্যিই এক আশ্চর্য্য ব্যাপার। তবে সম্প্রতি উপজেলার লস্কর গ্রামের পূর্ব পাড়ার মাঠের পাশে কয়েকটি তাল গাছ থাকলেও বাবুই বাসা চোখে পড়ে না। যা গ্রাম বাংলার মানুষকে হতাস করে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা খুজে পায় না তাল গাছ ও বাবুই পাখির বাসা। কোন তাল গাছ দেখলেই থমকে দাঁড়িয়ে খুজতে থাকে বাবুই পাখির বাসা। কিন্তু না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, কীটনাশকের অপব্যবহার, শিকারিদের দৌরাত্ম, অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, মানব বসতি বাড়ায় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে তালগাছ ও এই বাবুইপাখি আজ বিলুপ্ত হতে বসেছে।
উপজেলার চাঁদখালীর আব্দুস সবুর বলেন, এক সময় আমাদের মাঠে, পুকুর পাড়ে, ওয়াপদার ধারে সারি সারি তাল গাছ ছিল,আষাঢ় মাস এলে কোথা থেকে ঝাকে ঝাকে বাবুই পাখি এসে কিচিরমিচির শব্দে এলাকা মুখরিত করে তুলতো। তারপর শুরু হতো তাদের সুনিপুণ কারিগর দারা বাসা তৈরির কাজ। এক সময় তাল গাছের প্রত্যেক পাতায় ঝুলে থাকতো একাধিক বাসা। কালের বিবর্তনে আজ আর সেই তাল গাছ ও নেই, বাবুই পাখির সন্ধান নাই।সব কিছু যেন বিলিন হতে বসেছে। কালের আবর্তনে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই তালগাছ আর নিপুণ কারিকর বাবুই পাখির বাসা এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।অথচ এক সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সারি সারি উঁচু তালগাছ দেখা যেত। আর সেই তালগাছের পাতায় পাতায় দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যকে আরো ফুটিয়ে তুলতো। দেখে মনে হতো তাল গাছ যেন তার কানে দুল পড়ে আছে।গ্রাম বাংলার আপামর বাঙালির দাবী বইয়ের পাতায় রবি ঠাকুরের সেই তাল গাছের কবিতা এবং রজনীকান্ত সেনের বাবুইপাখি কবিতা সংযোজন সহ গ্রাম্য ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বনায়ন বিভাগকে সচেতন করতে সরকারের কাছে জোর দাবি করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here