আইনকে উপেক্ষার করেই দশমিনায় যত্রতত্র এলপি গ্যাস ও পেট্রোল বিক্রি

0
271

নাসির আহমেদ,দশমিনা (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় রাস্তাঘাট, বাজার এলাকা ও সড়কের বিভিন্ন মোড়ে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের সিলিন্ডার, পেট্রলসহ দাহ্য পদার্থ। দাহ্য পদার্থ বিক্রির নীতিমালা মানছে না বিক্রেতারা। ফলে যে কোনো সময় বিস্ফোরণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইনের তোয়াক্কা না করে শুধু ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই চলছে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা।
গতকাল রবিবার দাহ্য পদার্থ বিক্রির বেশ কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখা গেছে, এখনো অবাধে বেচাকেনা চলছে। দোকানপাটে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। দোকানদার এক লিটার অথবা দুই লিটারের প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রল ভরে টেবিলের উপর পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। যে কেউ ইচ্ছা করলেই বোতলভর্তি পেট্রল কিনতে পারছে। অথচ দাহ্য পদার্থ পেট্রল বিক্রি করতে হলে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স নিতে হয়। উপজেলা ফায়ার সার্ভিস দপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক বিপর্যয় রক্ষায় সিও২ ড্রাই পাউডার ও সরঞ্জামসহ অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে দাহ্য পদার্থ বিক্রয়ে।
দশমিনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবি এডভোকেট এনামুল হক রতন বলেন, বিস্ফোরক আইন ১৮৮৪ এর দ্য এলপি গ্যাস রুলস ২০০৪ এর ৬৯ ধারার ২বিধি অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া কোন েেত্র এলপিজি মজুদ করা যাবে না বলা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী আটটি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদের েেত্র লাইসেন্স নিতে হবে। একই বিধির ৭১ ধারায় বলা আছে, আগুন নেভানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রল, মবিল বিক্রির জন্য কমপে ফোর পাকাসহ আধপাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার, মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী ঐ সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল বিস্ফোরক লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হয়। বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা যাবে না।
দশমিনা উপজেলায় কোন অনুমোদিত পেট্রল পাম্প নেই। পেট্রলসহ বিভিন্ন তেল বিক্রির অনুমোদন রয়েছে ৬ জনের। অন্যদিকে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অনুমোদন পেয়েছেন ২জন।
উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহাম্মদ ইব্রাহিম অরবিল বলেন, এই উপজেলায় দিন দিন বেড়ে চলেছে দাহ্য পদার্থ বিক্রির দোকানের সংখ্যা। কোমল পানীয়র বোতলে ভরে পেট্রল বিক্রি করা হচ্ছে। এসব দোকানের পেট্রলের ক্রেতাকে অনেক দোকানি চেনেন না বা জানেন না। এটি খুবই বিপজ্জনক। এছাড়া দুষ্কৃতকারীদের হাতেও পেট্রল চলে যেতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা সদরের এক দাহ্য পদার্থ বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। টুকটাক তেল বিক্রি করে কোনো রকমে সংসার চালাই। আমরা এই আইন সম্পর্কে কিছুই জানি না।’
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের উপজেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট তপন কুমার দেবনাথ বলেন,এই উপজেলার বেতাগী, ঠাকুরবাজার, গোপালদী, নলখোলা, আলীপুর, চাঁনপুর, রণগোপালদী, গুলি, আউলিয়াপুর, যৌতা, আরজবেগী, সেন্টারবাজার, পাগলাবাজার, গোলখালী, হাজিকান্দা, কেদিরহাট, বাঁশবাড়িয়া, গছানী, দক্ষিণ দাসপাড়া, বাংলাবাজার, পূঁজাখোলা, আদমপুর, মোল্লারহাট, আমতলা, আয়শারহাট, বগুড়া বাজার ও বাজারে যাতায়াত সড়কের পাশে মুদি ও রকমারি দোকানেও পেট্রলের পাশাপাশি দাহ্য পদার্থ বিক্রি হচ্ছে। উপজেলায় এই রকম প্রায় ২০০ দোকান রয়েছে। অনেক দোকানে আবার এলপি গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। অনুমোদনহীন এই সব দোকান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে দীর্ঘদিন। সর্বশেষ নলখোলা বন্দরে অগ্নিকান্ডের মূল কারণ পেট্রল ও এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান জুয়েল এন্টারপ্রাইজ। এতে ওই দোকানসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে প্রায় কোটি টাকার য়তি হয়। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের পরও এই উপজেলায় যত্রতত্র দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা বন্ধ হয়নি।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, যাদের নামে অনুমোদন আছে, তাঁরাই শুধু এলপি গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রলসহ দাহ্য পদার্থ বিক্রি করতে পারবেন। দাহ্য পদার্থ বিক্রির সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। যত্রতত্র বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here