পটুয়াখালীর দুমকি-বাউফল সড়কের লোহালিয়া নদীতে সেতু না থাকায় সুবিধা বঞ্চিত ৩টি উপজেলা

0
356

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালী জেলার দুমকি-বাউফল মহাসড়কের বগা এলাকার লোহালিয়া নদীতে সেতু না থাকায় জেলার ৩টি উপজেলার নাগরিকরা যাতায়াতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর ফলে দেশের দণি-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো ফেরিমুক্ত হলেও রাজধানী ঢাকাসহ বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক পথে যাতায়াতে পটুয়াখালীর দশমিনা, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলার প্রায় ১৬ ল মানুষের ফেরি দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি।
জানা যায়, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সড়ক পথে ওই তিন উপজেলা থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম যেতে জেলার বাউফল ও দুমকি উপজেলার সীমানা নির্দেশকারী মধ্যবর্তী লোহালিয়া নদীর বগা-চরগরবদী পয়েন্টে সেতু না থাকায় যানবাহন পার হচ্ছে ফেরিতে। ফলে জেলার ওই তিন উপজেলার মানুষ এখনও পুরোপুরি পদ্মা সেতুর সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার ওই তিন উপজেলার প্রবেশদ্বার বগা-চরগরবদী ঘাটে ফেরির স্বল্পতা থাকায় প্রায়শই ঘন্টার পর ঘন্টা অপো করে নদী পারাপার হতে হয়। অনেক সময় ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বা জোয়ারের কারণে ফেরি ঘাটের পল্টুনের গ্যাংওয়ে ও অ্যাপ্রোচ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে যানবাহনগুলোর পারাপারে তিন-চার ঘন্টাও লেগে যায়। তাতে দূরপাল্লার যাত্রীরা বাধ্য হয়ে গাড়িতে অপো করলেও জেলা ও বিভাগীয় শহরের সঙ্গে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বাধ্য হয়েই গাড়ি থেকে নেমে সঙ্গে থাকা মালামাল হাতে বা মাথায় নিয়ে ঝুঁঁকিপূর্ণ ভাবে খেয়া পার হয়ে বাড়তি ব্যয়ে বিকল্প ভাবে গন্তব্যে যাত্রা করে। এতে বিশেষ করে শিশু, মহিলা, বৃদ্ধ ও রোগীদের পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। এছাড়াও রোগীবাহী এ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরী সরকারি ও বেসরকারি যানবাহনগুলো পরে নানা বিপাকে।
সড়কপথে ঢাকা থেকে দশমিনা গামী যাত্রী শ্যামল চন্দ্র বলেন, ‘রাজধানীর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে বগা ফেরি ঘাট পর্যন্ত ২০০ কিলোমিটার পথ আসতে সময় লেগেছে পৌণে চার ঘন্টা। অথচ ওই ফেরি ঘাটে দেরী হওয়ার কারণে বগা থেকে দশমিনা পর্যন্ত মাত্র ২৮ কিলোমিটার পথ আসতে সময় লেগেছে আড়াই ঘন্টা।’
দশমিনা বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স চালত মো. মিরাজ হোসেন বলেন,’ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে চার ঘন্টায় বগা ঘাটে এসে প্রায় দেড় ঘন্টা অপো করতে হয়েছে ফেরি পারাপারের জন্য। বগা সেতু নির্মিত হলে আমাদের আর কোন ভোগান্তি থাকবে না রোগী নিয়ে যেতে ও আসতে।’
দশমিনা মিতালী মৎস্য আড়তের স্বত্ত্বাধিকারী রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, ‘বগা পয়েন্টে সেতু না থাকায় রাজধানীতে আমাদের মাছ পাঠাতে অতিরিক্ত দেড়-দুই ঘন্টা সময় ব্যয় হয়। ওখানে সেতু নির্মাণ হলে আমরা চার ঘন্টায় এ অঞ্চলের তাজা ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতে পারবো।’
গলাচিপা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করায় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আর দশমিনা, গলাচিপা ও বাউফল উপজেলায় পদ্মা সেতুর পরিপূর্ণ সুফল পেতে বগা সেতু নির্মাণের কোন বিকল্প নেই।’
দশমিনা সরকারি আবদুর রশিদ তালুকদার কলেজের প্রভাষক আকন্দ বিপ্লব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের দণি পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু নির্মাণ করায় এ অঞ্চলের উন্নয়নের দ্বার উম্মোচন হয়েছে। এখন বগা সেতু নির্মাণ হলে এই তিন উপজেলা উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হবে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এই তিন উপজেলার শিার্থীরা বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে কাশ করতে পারবে। বগা সেতু নির্মাণ এখন এই তিন উপজেলার প্রায় ১৬ ল মানুষের প্রাণের দাবি।
এই ব্যাপারে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, অচিরেই ঐ স্থানে সেতু নির্মান করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here