৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতিবেদন

0
250

নিজস্ব প্রতিবেদন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, ২১ নবেম্বর ২০২২ঃ স্বাধীন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ, ২২ নবেম্বর । ১৯৭২ সালের ২২ নবেম্বর এই দিনে তৎকালীন সরকার দেশে ইসলাম শিক্ষার উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করে। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালের ২৮ জুনে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কার্যক্রক শুরু করে। পেছনে ফেলে আসা ৪৩ বছরের শত বাধা পেরিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে ৪৪ বছরে পদার্পন করছে বিদ্যাপীঠটি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উচ্চ শিক্ষার একমাত্র বিদ্যাপীঠ । কুষ্টিয়া থেকে ২৪ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ঝিনাইদহ জেলা-শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে একটি সবুজ গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত, বিশ্ববিদ্যালয়টি খুলনা-কুষ্টিয়া জাতীয় মহাসড়ক দ্বার পেরিয়ে গেছে যা দেশের অন্যান্য অংশের সাথে যোগাযোগের অন্যতম ভূমিকা প্রদান করে। ১৯৮০ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাসের ফলে এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রতিষ্ঠিত প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থায়ী মর্যাদা প্রদান করা হয়। যা বিজ্ঞান, বানিজ্য, মানবিক এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপ প্রচারের মাধ্যমে অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মর্যাদা অর্জনে চেষ্টা করছে। এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের নতুন প্রজন্মের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন দুটি অনুষদের চারটি বিভাগে ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে যাত্রা হয় প্রতিষ্ঠানটির। বর্তমানে আটটি অনুষদ ও ৩৪টি বিভাগ রয়েছে। এছাড়া ৩৯০ জন শিক্ষক, ৪৬৮ জন কর্মকর্তা ও ৩২২ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫ প্রায় হাজার ৩৮৪ জন। শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিতে আটটি আবাসিক হলের ব্যবস্থাআছে (পাঁচটি ছাত্র হল ও তিনটি ছাত্রী হল) রয়েছে। আবাসন সুবিধায় আরও দুটি হলের কাজ চলমান রয়েছে।
এছাড়া চলতি অর্থ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব বাজেটের আওতায় মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে ৯টি বহুতল ভবন ও একটি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান গবেষণাগার, ১২টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, দুটি ৫০০ কেভি বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন, সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ৫১৪ জনকে পিএইচডি, ৬৯৬ জনকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ২৯০ জন পিএইচডি এবং ২১৯ জন এমফিল গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রয়েছে। যেগুলোর মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি স্মরণে নির্মিত মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরাল , মুক্তবাংলা, শহীদ মিনার, পানির ফোয়ারা, এবং ৭ মার্চের ভাষণ সম্বলিত মুক্তির আহ্বান নির্মিত হয়েছে। এখানে রয়েছে মনোমুগ্ধকর ইবি লেক, যার কাজ অগ্রসরমান যা খুব দ্রুত দৃষ্টিনন্দন লেকে পরিণত হবে।
এখন পর্যন্ত, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থানীয় এবং বিদেশী উভয় শিক্ষাথীদের চাহিদা পূরণ করছে, তাদের স্নাতক অধ্যয়ন এবং স্নাতকোত্তর গবেষণা ও শিক্ষাদানের বিস্তৃত বর্ণালী দিয়ে সহজতর করে। এইভাবে, বিশ্ববিদ্যালয়টি মানবজাতির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রচার করার চেষ্টা করে যাতে তারা যে সম্প্রদায়গুলিতে বাস করে এবং কাজ করে তাদের সেবা এবং অগ্রসর হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা নিয়ে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত । ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ায় ভালো অবস্থান অর্জন করার জন্য আগ্রহী এবং নিজেকে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যও রয়েছে।
স্বপ্ন একটি বিশ্বব্যাপী এক অনন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here