গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত যশোরবাসী

0
243

স্টাফ রিপোর্টার : গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত যশোরবাসী। পাঁচ বছর পর আজ যশোরে আসছেন তিনি। এদিন দুপুরে তিনি যশোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে উৎসবের শহরে পরিণত হয়েছে যশোর। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের রাস্তাঘাটে চলছে মাইকিং; ছেয়ে গেছে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড আর তোরণে। খুলনা থেকে যশোর পর্যন্ত ১০ বগির একটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষের অবস্থান নিশ্চিত করতে শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের গ্যালারি ভেঙে আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের মাঠ ও পৌর পার্কের একাংশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। নৌকার আদলে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর প্রধানমন্ত্রী যশোরে আসছেন। ভাষণ দেবেন এ অঞ্চলের মানুষের উদ্দেশে। সে কারণে মঞ্চ সাজানো হয়েছে লাল গালিচা দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী যে পথ দিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করবেন সেই পথ থেকে শুরু করে মঞ্চ পর্যন্ত ঝকঝকে চকচকে লাল গালিচায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর যশোর আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন দাবিতে সরব হয়েছেন যশোরের নাগরিক সমাজ। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, যশোর মেডিকেল কলেজের ৫শ’ শয্যার হাসপাতাল, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমিতে সংস্কৃতি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ভবদহ জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান, যশোর বিমান বন্দর আন্তর্জাতিককরণ, যশোরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন, যশোরে সংস্কৃতি ভবন স্থাপন, যশোর স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন, যশোর বিভাগ ও যশোর সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা।
আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ৫০ বছর আগে ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যশোরের যে স্থানে জনসমুদ্রে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানেই ভাষণ দেবেন তার কন্যা শেখ হাসিনা। করোনাকালের প্রায় তিন বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো জনসভায় সশরীরে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
জনসভায় সেবা দিতে ৪০০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক কমিটি থাকছে। জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুখেন মজুমদারকে আহ্বায়ক করে শৃঙ্খলা ও স্বেচ্ছাসেবক এই উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক কমিটির সদস্যরা সমাবেশস্থল, প্রবেশমুখ ও জনসভায় আগতদের সহযোগিতা করতে শহরের প্রবেশমুখে থাকবেন বলেও জানা গেছে। ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে বিশাল এই গণজমায়েতের জন্য বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস মিলিয়ে পাঁচ হাজার যানবাহন আসা ও পার্কিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করেছে ট্রাফিক বিভাগ। পাঁচ হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ১২টি স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এমপি-মন্ত্রীদের জন্য চারটি স্পট, অন্য ভিআইপিদের জন্য একটি স্পট । শহরের অংশ হেঁটে সবাইকে চলাচল করতে হবে। অবশ্য হেঁটে চলাচলে একটি রোডম্যাপ করা হচ্ছে। জনসভার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্টেডিয়ামের মাঠ প্রস্তুত করার পাশাপাশি সমাবেশে আগত লোকজনের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় পর্দায় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যান্য জেলার নেতাকর্মীদের জনসভাস্থলে আসার জন্য ১২ টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে খুলনা থেকে যশোর পর্যন্ত ১০ বগির একটি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি, দশ লাখের বেশি মানুষের সমাগম হবে।’
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিশ্রিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে মঙ্গলবার থেকেই মাঠে নামিয়েছে র‌্যাবের প্রশিতি ডগ স্কোয়াড। নিরলস কাজ করে চলেছে এস এস এফ ও পুলিশ বাহিনী। জেলা পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, যশোরের নয়টি থানার পুলিশ সদস্য ছাড়াও বাইরের জেলা থেকেও আনা হয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এ ব্যাপারে যশোর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান জানিয়েছেন, ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড এই তিন ক্যাটাগরিতে কয়েক হাজার পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। অনুষ্ঠিতব্য ওই সমাবেশে যোগ দেবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও। এ ল্েয ইতোমধ্যেই ঢাকা ছেড়ে যশোর পৌঁছেছেন অধিকাংশ নেতা। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে জনসভার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন এই জনসভায় ১০ লাখ লোক সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে উৎসাহ-উদ্দীপনা এখন যশোরজুড়ে। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জনসভার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যশোরসহ আশপাশের এলাকার কোনও মানুষ ঘরে থাকবে না, তারা বৃহত্তর যশোরের উন্নয়নে রূপকার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কথা শুনতে আসবে। তিনি বলেন, এখানকার প্রত্যান্ত অঞ্চলগুলোতে আমরা গিয়েছি, সেখানকার মানুষ জানে ১৪ বছর আগে যশোর ছিল একটি তবিত জনপদ। সেই যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলাতে এখন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এই এলাকার মানুষ সবসময় মুক্তিযুদ্ধের পরে শক্তি আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসার খবরে এই এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে নানক বলেন, আগামীকাল স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে পুরো শহর জনসভাস্থলে পরিণত হবে। জনসভায় ১০ লাখ লোকের সমাগম হবে। এই জনসভা থেকে বিএনপি-জামায়াত অপশক্তিকে আমরা জানিয়ে দিতে চাই- এই বাংলাদেশ হলো মুক্তিযুদ্ধের সপরে শক্তির বাংলাদেশ। সেই গর্জন যশোর থেকে শুরু হবে। বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এই জনসভার কোনও প্রতিযোগিতা আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবো, যারা ভাইয়ের সামনে বোনকে রেপ করেছে, গাড়ির মধ্যে যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, যারা দেশকে জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছিল? যারা উন্নয়নের একটি দৃষ্টান্ত দিতে পারবে না, তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বা তুলনা করার কোনও সুযোগ আমাদের নেই। নিরাপত্তার বিষয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জঙ্গিরা তৎপর রয়েছে, তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে নিশ্চয়ই আমরা সর্বপ্রথম গুরুত্ব দিবো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার বিষয়টি, তারপর গুরুত্ব পাবে জনসমাগমের বিষয়টি। এ জন্য আমরা গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই। এই জনসভা থেকে দেশবাসীর কাছে একটি বার্তা যাবে উল্লেখ করে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, দেশের রাজনীতিতে যারা দুষ্টচক্র, সাম্প্রদায়িক শক্তি, সন্ত্রাসী কর্মকন্ড, যারা রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে তবিত করতে তৎপর এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য যারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষে কাছে একটি বার্তা যাবে। সেটা হলো দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের প,ে শেখ হাসিনার পে এবং নৌকার প।ে তারা সন্ত্রাসের বিপ,ে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিপ।ে এ সময় মাঠে উপস্থিত থাকা খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, খুলনা বিভাগীয় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসভায় যোগদানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। জনসভাকে ঘিরে এই এলাকার মানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ ল্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, জনসভায় দেশের রাজনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক প্রোপটে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশের মানুষকে আগামীতে কীভাবে পরিচালনা করবেন, দেশকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং এই বিষয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, যশোর জেলা আওয়ামী লগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ। জনসভা নিয়ে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর পর তিনমেয়াদে মতায় এসে যশোরবাসীকে অনেক কিছু উপহার দিয়েছেন। তিনি আরো উপহার দেবেন। কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী যশোরবাসীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছেন, মেডিক্যাল কলেজ দিয়েছেন, শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক দিয়েছেন, ভৈরব নদ খনন শুরু করেছেন। সম্প্রতি আমাদের দণিাঞ্চলের মানুষদের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে। এছাড়া অতি সম্প্রতি কালনা সেতু উদ্বোধন হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের মূল ভূখন্ডের সাথে সুন্দরভাবে যশোরের যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। কালনা সেতুর মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী যশোর-খুলনা তৃতীয় অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে পরিচিতি পেতে যাচ্ছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের কিছু প্রাপ্তি বাকি আছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি, তিনি যেন যশোরকে সিটি করপোরেশন করে দেন। আমাদের আরেকটি দাবি, মেডিক্যাল কলেজের সাথে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করে দেওয়া। যশোর বিমানবন্দরটি অত্যন্ত পুরোনো। আমাদের দাবি, প্রধাানমন্ত্রী এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করে দেবেন। তিনি সব সময় আমাদের দণিবঙ্গের মানুষের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে থাকেন। আমরা তার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। মহাসমাবেশের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শুনতে মুখিয়ে আছেন যশোরসহ দণিাঞ্চলের মানুষ। জনসভায় ১০ লাখ মানুষের মানুষের ঢেউ নামবে এবং স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসমুদ্র হবে যশোরে। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি শাহীন চাকলাদার বলেন, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার আট লাধিক মানুষের সমাগম হবে এই জনসভায়। গোটা শহরে সেদিন পা রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না। জনসভা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ৪০০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সমাবেশস্থল, সমাবেশস্থলের প্রবেশমুখ ও জনসভায় আগতদের সহযোগিতা করতে শহরের প্রবেশমুখে থাকবেন।
জনসভাস্থলে আসার জন্য ১২ টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে
যশোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাস্থলে আসার জন্য ১২ টি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। যত্রতত্র কিংবা বাইলেন ব্যবহার করে সভাস্থলে আসা যাবে না। নির্দিষ্ট ড্রপিং পয়েন্ট থেকে নির্দিষ্ট রুট দিয়েই আসতে হবে নেতাকর্মী সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের। এছাড়া সুশৃঙ্খল উপস্থিতির জন্য স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট ৩টি গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশাল জনসভার জন্য বাস প্রাইভেট মাইক্রো মিলিয়ে ৫০০০+ যানবাহন আসার সম্ভাবনায় আরো ১০টি পার্কিং পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। মন্ত্রী এমপি ভিআইপিদের জন্য আগের নির্ধারিত পার্কিং পয়েন্টই প্রস্তুত থাকবে। ২৪ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে মাঠে প্রবেশ করা যাবে। রাস্তায় শৃঙ্খলা, শান্তিপূর্ণ ও পরিছন্ন পার্কিং কার্যক্রম তদারকি করবে ট্রাফিক বিভাগ। মাত্র কয়েক ঘন্টা পর যশোরে আসছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তাকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কর্মযজ্ঞ শেষ। দলীয় ফোরামে এবং প্রশাসনে চলছে এখন শেষ সময়ের সর্বোচ্চ সতর্কতা। তাকে এক নজর দেখতে এবং কথা শুনতে অধীর আগ্রহে থাকা খুলনা বিভাগের ১০ জেলার গণ মানুষ সভাস্থলে আসতেও নিয়েছেন প্রস্তুতি। যশোরে সভাস্থল সজ্জার কাজ প্রায় শেষ। সভায় যোগ দিতে যশোর শহরের ড্রপিং পয়েন্ট থেকে পায়ে হেঁটে সভাস্থলে আসতে হবে। মেহেরপুর চুয়াডাঙ্গা কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা থেকে আসা বাস প্রাইভেট মাইক্রোগুলো ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড অথবা কাঁঠালতলায় নেতাকর্মী সমর্থকদের ড্রপিং করবে। ধর্মতলা থেকে কারবালা গ্যারেজ মোড় আপন মোড় হয়ে স্টেডিয়ামের অফিস গেট দিয়ে সভায় প্রবেশ করবে। আর কাঁঠাল তলা থেকে কাজীপাড়া হয়ে চুয়াডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড বাজার হয়ে আব্দুর রাজ্জাক কলেজ গেট হয়ে ঢুকবে। ওই ৪ জেলার লোকজন ঘোপ নওয়াপাড়া রোড ও সেন্ট্রাল রোডে ড্রপ নিয়ে পায়ে হেঁটে হাসপাতাল মোড় হয়ে দড়াটানা পার হয়ে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের পাশ দিয়ে মুসলিম একাডেমি পার হয়ে পুরাতন পুলিশ অফিস হয়ে আব্দুর রাজ্জাক কলেজ গেট দিয়ে ঢুকবে। ওই ৪ জেলার গাড়ি ছুটিপুর রাস্তায় জামতলা পর্যন্ত রাস্তা ছাড়াও ঘোষপাড়া মসজিদ মাঠ, কাঁঠালতলা ঈদগাহ, নান্টু মিয়ার বাগান, হাউজিং মাঠ ও বাবলাতলা মাইক্রো স্ট্যান্ড ব্যবহার করতে পারবে। চৌগাছা উপজেলার নেতা কর্মীরাও একই রুট ও পার্কিং এবং ড্রপিং নিতে করতে পারবে। মাগুরা ও বাঘারপাড়া থেকে আসা যান বাহনগুলো উপশহর এলাকায় ড্রপিং করবে। নেতা কর্মী সমর্থকদের নামিয়ে দিয়ে উপশহর এলাকায় পার্কিং করবে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে জেল রোড হয়ে দড়াটানা পার হয়ে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের পাশ দিয়ে মুসলিম একাডেমি পার হয়ে পুরাতন পুলিশ অফিস হয়ে আবদুর রাজ্জাব কলেজ গেট দিয়ে ঢুকবে। সাতীরা বেনাপোল শার্শা ঝিকরগাছা থেকে আসা নেতাকর্মী ভক্ত সমর্থকরা চাঁচড়া মোড়ে ড্রপিং নিয়ে মুজিব সড়ক হয়ে জজকোর্ট মোড় দিয়ে মুসলিম একডেমি পার হয়ে পুরাতন পুলিশ অফিস হয়ে ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক কলেজ গেট দিয়ে ঢুকবে। গাড়ি পার্কিং করবে সার গোডাউন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিএডিসি, আদ দ্বীন মেডিকের কলেজ মাঠ। মণিরামপুর কেশবপুর থানা এলাকা থেকে আসা লোকজন ওই একই রুট এবং গেট ব্যবহার করবে। এছাড়া মণিরামপুর কেশবপুর থেকে আসা নেতা কর্মীরা বাস টার্মিনালে পার্কিং করবে। এরপর সরকারি মুরগির খামার, আশ্রম রোড হয়ে রাসেল চত্তর থেকে সার্কিট হাউজ, জজকোর্ট মোড় হয়ে মুসলিম একাডেমি পার হয়ে পুরাতন পুলিশ অফিসের পাশ দিয়ে রাজ্জাক কলেজ গেট ব্যবহার করবে। সাতীরা বেনাপোল শার্শা ঝিকরগাছা থেকে আসা নেতাকর্মী ভক্ত সমর্থকরা পৌরসভার গেট হয়েও মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। বাগেরহাট খুলনা জেলা ও অভয়নগর উপজেলা থেকে আসা যানবাহনগুলো মণিহারের সামনে নেতাকর্মীদের ড্রপ করে দেবে এবং মণিহার এলাকা থেকে মুড়লির ওই একই রাস্তায় পার্কিং করবে। আর পায়ে হেঁটে আর এন রোড হয়ে দড়াটানা পার হয়ে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের পাশ দিয়ে মুসলিম একাডেমি পার হয়ে পুরাতন পুলিশ অফিস হয়ে রাজ্জাক কলেজ গেট দিয়ে ঢুকবে। গোপালগঞ্জ ও নড়াইলের নেতা কর্মীদের বহন করে নিয়ে আসা বাস, প্রাইভেট মাইক্রোসহ অন্য ভার্সনের যানবাহনগুলো মণিহারের সামনে ড্রপিং করবে। এছাড়া পার্কিং করতে হবে যশোর সরকারি সিটি কলেজ মাঠ, উপজেলা পরিষদ ও মণিহার বাস টার্মিনাল। নেতা কর্মীরা পায়ে হেঁটে আর এন রোড হয়ে দড়াটানা পার হয়ে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের পাশ দিয়ে মুসলিম একাডেমি পার হয়ে পুরাতন পুলিশঅফিস হয়ে আব্দুর রাজ্জাক কলেজ গেট দিয়ে ঢুকবে। আগের নির্ধারিত জায়গায় মন্ত্রী এমপি ভিআইপিরা পার্কিং করবেন এবং সুবিধামত সভার গেট ব্যবহা করবেন। প্রতিমন্ত্রীদের গাড়ি যশোর বাদশা ফয়সল ইন্সটিটিউট, পূর্ণমন্ত্রীদের গাড়ি মুসলিম একাডেমি স্কুল মাঠে পার্কিং করবেন। এছাড়া আগত পূর্ণ মন্ত্রীগনের গাড়ি এমএম কলেজের দনি গেট দিয়ে প্রবেশ করিয়ে কলেজ মাঠে পার্কিং করতে পারবেন। গাড়ি রেখে তারা স্টেডিয়ামের পেছনের এমএম কলেজের গেট দিয়ে হয়ে সভাস্থলে যেতে পারবেন। এমপিদের গাড়ির জন্য যশোর টাউন হল মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া যশোর শহরের দণিাঞ্চল থেকে আসা ভিআইপিদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য যশোর জেলা স্কুল মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ এটাই চুড়ান্ত নির্ধারিত পার্কিং ড্রপিং পয়েন্ট। এছাড়া ১২ রুট ও ৩টি গেট চুড়ান্ত করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা আওয়ামী লীগ ও তার অংগ সংগঠনের নির্দিষ্ট নেতাকর্মী বিশেষ সমন্বয় সভা করে এসব সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করেছে। এ ব্যাপারে যশোর সদর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শুভেন্দু কুমার মুন্সী জানিয়েছেন, সভাস্থলে আসার জন্য নির্দিষ্ট ১২টি রুট নির্ধারন করা হয়েছে। জনসভার দিন শহরে কোনো যানবাহন প্রবেশ করবে না। শহরের অংশ পায়ে হেটেই যেতে হবে। এর আগে গাড়ি পাকিংয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০টি পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হলেও পরে আরো ১০ পার্কিং পয়েন্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। লোক উপস্থিতি সম্ভবনার উপর গাড়ির ধারণা করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের টার্গেট অনুযায়ী ৫০০০ গাড়ি হয়ে যেতে পারে। সে হিসেবেই ওই ২০টি পার্কিং এলাকা চুড়ান্ত করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here