মনিরামপুরে ইস্কোভেটার দিয়ে মাটি কেটে শত বছরের রাস্তাটি উচ্ছেদের চেষ্টা, বাঁধাকারীরা মারপীটের স্বীকার

0
217

আনিছুর রহমান:- মনিরামপুরে ইস্কোভেটার দিয়ে মাটি কেটে শত বছরের রাস্তাটি উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। মাটি কাটায় বাঁধা দেওয়ায় তিন জনকে মারপীট করেছে ঐ প্রভাবশালী মহলটি। এ ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে ও অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলার চাকলা কাঠালতলা গ্রামের পালপাড়া মোড় সংলগ্ন পিঁচের রাস্তা থেকে মসজিদের পাশ দিয়ে পূর্ব দিকে মহলদার পর্যন্ত ১০ ফুট চওড়া প্রায় অর্ধ কিলোমিটারের একটি মাটির রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে শত বছর বছর ধরে কয়েকটি পাড়ার লোকজন যাতায়াত করে আসছে। সরকারিভাবেও ওই রাস্তাটি কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। এদিকে বুধবার সকালে উপজেলার চাকলা কাঠালতলা গ্রামের প্রভাবশালী আলী কদর ও রফিকুল ইসলাম একটি মাটি কাটা গাড়ি (ইস্কোবেটার) এনে রাস্তাটি উচ্ছেদ করার জন্য রাস্তার মাঝখান থেকে মাটি কাটা শুরু করে। এ সময় প্রতিবেশী মিনাজ উদ্দিনের ছেলে ইনছার আলী সহ কয়েকজন বাধা দিতে আসলে ইনছার আলীকে ও তার ছেলে ইব্রাহিম হোসেন এবং ভাইপো আবু সাঈদকে মারপীট করে তাড়িয়ে দেয়। এমন কি বেশি বাড়াবাড়ি করলে মাটি কাটা গাড়ির তলে দিবেন বলে হুমকি দেয় তারা। সংবাদ পেয়ে আশ পাশের লোকজন এসে ওই মাটি কাটায় বাঁধা দিলে রাস্তা উচ্ছেদ করতে তারা ব্যর্থ হয়। এখনও ইস্কোবেটারটি রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ধারনা করা হচ্ছে গভীর রাতে তারা রাস্তাটি উচ্ছেদ করতে পারে। এ ঘটনায় ২৩ নভেম্বর বিকেলে ইনছার আলী বাদী হয়ে আলী কদর, রফিকুল ও হালিমাকে বিবাদী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা অফিসার্স ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা উপসহকারী কমিশনার ভৃমি (এ‍্যাসিল‍্যান্ড) রাস্তা উচ্ছেদের বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ব‍্যবস্থা নেওয়ার জন‍্য মশ্মিমনগর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ করেন। মুহুত্বেই ভূমি কর্মকর্তা শফিক আহমেদ ঘটনাস্থলে যান এবং যারা রাস্তা কেটে উচ্ছেদ করছিল তাদেরকে ডেকে কাটা রাস্তা দ্রুত মাটি দিয়ে ভরাট করার জন‍্য বলেন। তা না হলে আইনগত ব‍্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে সাব জানিয়ে দেন বলে স্থানীয় নাজমুল হাসান নামের এক ব‍্যক্তি জানান। এ বিষয়ে রাস্তা উচ্ছেদ কারী রফিকুল ও আলী কদর বলেন, আমাদের রেকডীয় জমির উপর দিয়ে রাস্তা গেছে তাই আমরা রাস্তাটি উচ্ছেদ করছিলাম। কথা হয় মাটি কাটায় বাঁধা দিতে এসে মারপিটের স্বীকার হওয়া ইনছার আলীর সাথে, তিনি বলেন, এলাকার ৫/৭ টি পাড়ার লোকজন প্রায় শত বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আসছে। অথচ তারা জোর পূর্বক যাতায়াতের রাস্তাটি উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাস্তাটি উচ্ছেদ করলে ৩ টি পাড়ার লোকজন একেবারে বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না। তাই আমি সহ কয়েকজন বাঁধা দিতে আসলে তারা আমাদের মারপিট করেছে। এখনও তারা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। তাই আমি সুষ্ট বিচার দাবী করছি। সংশ্লিষ্ঠ মেম্বর আবুল বলেন, রাস্তাটি দিয়ে আমার বাপ দাদারা চলাচল করেছে। এলাকার সুবিধার্থে সেই সময় রাস্তাটি সোজা করে নিয়েছিল। যাদের জমির উপর দিয়ে রাস্তাটি রয়েছে তারাই প্রকৃত রাস্তার জমি দখলে রয়েছে। এই রাস্তা উচ্ছেদ করতে আসা থাদের ঠিক হয়নি। ভূমি কর্মকর্তা শফিক আহমেদ বলেন, স‍্যারের নির্দেশে সেখানে আমি যাই। যারা রাস্তা উচ্ছেদের জন‍্য মাটি কেটেছে সেটা বন্ধ করার তাগিদ দি এবং এ‍্যাসিল‍্যান্ড সারের সাথে দেখা করার কথা বলে এসেছি। 
চেয়ারম‍্যান আবুল হোসেন বলেন, রাস্তা কাটার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে জানতে পেরে সেটা বন্ধ করে দিয়েছি। এ‍্যাসিল‍্যান্ড আলী হাসান বলেন, বিষয় জানতে পেরে সেখানে ইউনিয়ন ভুমি অফিসারকে পাঠিয়েছি। রাস্তা উচ্ছেদের ঘটনা সঠিক হলে ব‍্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here