খুলনার কয়রায় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড “আগুনের লেলিহীন শিখায় স্বপ্ন পুড়ে ছাই”

0
217

শেখ সিরাজুদ্দৌলা লিংকন কয়রা (খুলনা) থেকে : এরকম আগুন আগে দেখেনি। দেখতে দেখতে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। ফায়ার সার্ভিস না আসলে সব শেষ হয়ে যেতো। 
দিন মুজরির কাজে আর সংসার চলেনা৷ তাই নিজের বসত ঘরের পাশে ৬০ হাজার টাকা খচর করে একটি চায়ের দোকান করি। তিল তিল করে জমানো ৫০ হাজার টাকা, স্থানীয় সুদ ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে সুদে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ঘরটা তেরি করেছি। সমিতি থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দোকান শুরু করে ভালোই চলছিলো, প্রতিদিন ৭/৮ শ’ টাকা ব্যবসা হতো। ভালোই চলছিলো পরিবারের ৮ জন সদস্যের, সব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এক মাস হলো দোকান শুরু করেছি। চোখের সামনে সব পুড়ে ছাই। এখন কি ভাবে এতো টাকা ঋন শোধ করবো, আর কিভাবে বা সংসার চালাবো? এভাবে বলছিলেন কয়রা সদর ইউনিয়নের মদিনাবাদ গ্রামের বাবু মোড়ল (৩৫) দেউলিয়া বাজারে আগুন লেগে তার চায়ের দোকান পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুকুল ইলেকট্রনিক্স, তার দোকানের গ্যাসের চুলা ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী পুড়ে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
 আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে বাজার সংলগ্ন স্থানীয় শওকত মোড়লের বসত ঘর, সরেজমিন গেলে দেখা যায় স্ত্রী নাজমুন্নাহার সব হারিয়ে বাকরুদ্ধ, শওকাত মোড়ল বলেন দিনমজুরের কাজ করে বহু কষ্টে একটি ঘর তুলেছিলাম খেয়ে না খেয়ে সংসারের টুকিটাকি জিনিস করেছিলাম আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে, দুটো বাচ্চা স্ত্রী ও আমার পরনের বস্ত্র ছাড়া আর কিছু নাই পোড়া ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে বলতে সেও কেঁদে ফেলেন।  চা বিক্রেতা সাইদুর বলেন গণমুখী থেকে ২৫ হাজার ও সাস সমিতি থেকে বিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঘরে মাল তুলেছিলাম ৫২ ইঞ্চির একটি মনিটর সহ আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে তার।  আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে দিনমজুর শরিফুলের গোয়াল ঘর। আগুন লাগার সাথে সাথে গরু তিনটা বাঁচাতে পারলেও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করে সদ্য বানানো গোয়াল ঘরটি পুড়ে ছাই হয়েছে।
 স্থানীয় মনিরুল ইসলামের বসতঘরের দুইটি কক্ষ সহ ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র নগদ টাকা জরুরী কাগজপত্র সহ পুড়ে ছাই হয়েছে। তিনি বলেন তার অন্তত ১৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। 
 আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মনিরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া সিরাজুল, মনি ও আফজালের ককশিটের দোকান।
খুলনার কয়রার সদর ইউনিয়নের দেউলিয়া বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বসতবাড়ি, দোকান ও গোডাউন পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। শ‌নিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাজারের মৎস্য ব্যবসা‌য়ীদের গোডাউনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রায় একঘন্টা চেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সা‌র্ভিস ও স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল ও ম‌নিরুল ইসলা‌মের মৎস‌্য ব্যবসার ঘরে থাকা ককসেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে পাশ্ববর্তী একটি দোকানে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের লেলিহান শিখা তীব্র আকার ধারণ করে। এসময় স্থানীয় শত শত মানুষ আগুন নেভাতে এগিয়ে আসে। দু’দিন আগে কয়রায় আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুনের শিখা দেখে তাৎক্ষণিক ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রায় একঘন্টার অ‌ভিযানের পর আগুন নেভানো সম্ভব হয়। কোন মানুষ হতাহত না হলেও আসবাবপত্র, অবকাঠা‌মোসহ বসতঘর গোয়ালঘর ও দোকানের মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষ‌তি হয়।##

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here