বন্ধ থাকার কারণে নষ্ট হচ্ছে সরকারী সম্পদ চুড়ামনকাটির মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশনটি পুনারায় চালুর দাবি

0
215

ইমদাদ হোসেন,চুড়ামনকাটি॥ যশোরের চুড়ামনকাটির ঐতিহ্যবাহী মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশনটির সকল কর্মকান্ড বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন যাবত।রেলস্টেশনটি পুনারায় আধুনিকায়ন করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শাটল ট্রেন চালুর দাবি এলাকাবাসীর।শাটল ট্রেন চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময় ও আর্থিক অপচয় রক্ষা হওয়ার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন হবে বলে আশাবাদী এলাকার সচেতন মহলের।
কর্মবীর মুন্সি মেহেরুল্লাহ একজন দেশবরোন্য ব্যক্তির নাম।ইসলাম ধর্ম প্রচারক হিসাবেই সবাই তাকে চেনেন জানেন।বৃটিশ শাসন আমলে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলায় ধর্মীয় সভা করে বেড়াতেন।কর্মবীর এই ব্যক্তির জম্ম যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে।মহান এই ব্যক্তির নামে ১৯১৩ সালে চুড়ামনকাটি বাজারের অদুরে প্রতিষ্ঠিত হয় মুন্সি মেহেরুল্লাহ রেল স্টেশনটি।এক সময় এই স্টেশনে সকল ট্রেন থামলেও বর্তমানে আর ট্রেন থামেনা।বন্ধ কওে দেওয়া হয়েছে স্টেশনটি ।
জানা যায়,১৯১০ সালে যশোর থেকে ঝিনাইদাহ পর্যন্ত ৪৬ কিলোমিটার ন্যারোগেজ রেলপথ নির্মান শুরু হয় এবং ১৯১৩ সালে শেষ হয়।তৎকালীন সময়ে ঝিনাইদাহ পর্যন্ত ১২টি রেলস্টেশন করা হয়।এর ভিতর চুড়ামনকাটিও একটি স্টেশন করা হয়।যার পরর্বীতে নামকরণ করা হয় মুন্সি মেহেরুল্লাহ রেলস্টেশন নামে। তৎকালীন সময়ে কে,এম,ডি,আ্যান্ড কোম্পানি এই রেলপথ নির্মানের দায়িত্ব পালন করেন।উক্ত রেল লাইন শেষ করতে ১৩ লক্ষ টাকা খরচ হয়।এই রেল পথে চলাচলের জন্য জার্মানি থেকে ৪টি ন্যারোগেজ লোকোমোটিভ আমদানি করা হয়।১৯১৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে যশোর থেকে সর্ব প্রথম এই রেল যোগাযোগ শুরু হয়।বর্তমানে ঝিনাইদাহের সেই রেল স্টেশনটির কোনো অস্তিত্ব নেই।লোকসানের কারনে ১৯৩৩ সালে এই রাস্তায় রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যাই।১৯৬৯ সালে পাকিস্থান সরকার রেলপথটি তুলে তৈরি করেন যশোর ঝিনাইদাহ মহাসড়ক।এর আগে ১৯৩৫-৩৬ সালে কোটচাঁদপুর দিয়ে বিকল্প একটি রেললাইন তৈরি করা হয়।বর্তমানে যশোর থেকে কোটচাঁদপুর দিয়ে পাকশী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রেল যোগাযোগ চলমান রয়েছে।
এলাকার প্রবীন ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,এক সময় ট্রেন থামলে যাত্রীদের হইহুল্লায় গোটা এলাকাটি সরগরম হয়ে উঠতো।টিকিট কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করতেন স্টেশন মাস্টারসহ যাত্রীরা।দেশের সকল এলাকা থেকে ছেড়ে ট্রেনগুলো থামতো এখানে।রাতদিন সর্বদাই যাত্রীদের পদাচারনায় মূখরিত হয়ে থাকতো স্টেশনটি।কালের বিবর্তে সেই স্টেশনটি এখন অচল।শুধুমাত্র খুলনা থেকে ছেড়ে আসা একটি লোকাল ট্রেন থামে এখন এখানে।নেই কোনো ষ্টেশন মাস্টার বা রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী। কিন্তু পড়ে আছে সরকারী কোর্য়টার সহ বিভিন্ন অফিস।নষ্ট হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ।স্টেশনটি পুনারায় চালুর দাবি এলাকাবাসীর।
অধ্যাপক মসিউল আযম জানান,যশোর জেলার ভিতর সব চেয়ে পুরাতন রেল স্টেশন হল এই মুন্সি মেহেরুল্লাহ নগরটি।দেশের সকল ট্রেনই এক সময় এই স্টেশনে থামতো। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্টেশনে থাকতো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।বর্তমানে স্টেশনটি বন্ধ করে দিয়েছে রেল কৃর্তপক্ষ।এখানে এখন আর রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেনা। টিকিটের জন্য সব সময় সরগরম কাউন্টার টি রয়েছে তালাবদ্ধ।কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস রুম গুলো রক্ষনাবেক্ষনার অভাবে মূল্যবান সম্পাদ নষ্ট হচ্ছে।
বীরমুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দীন বলেন,বর্তমানে রেলস্টেশনটি বন্ধ রয়েছে।বন্ধ থাকার কারণে নষ্ট হচ্ছে সরকারী সম্পদ।তিনি আরো বলেন,স্টেশনটি পুনারায় চালু হলে এখনকার সবজি চাষীরা তাদের সবজি কম খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতে পারবে।তাতে কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হবেন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড.সাইবুর রহমান মোল্যা বলেন,শাটল ট্রেন চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ও স্বল্প খরচে যশোর শহর থেকে যাতায়াত করতে পারবে।তিনি দেশের খ্যাতিনামা মুন্সি মেহেরুল্লাহর নামে এই পুরাতন স্টেশনটি চালুর দাবি জানান।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি হওয়ার পর রেল স্টেশনটি পুনারায় চালু এখন প্রানের দাবি হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীদের।তাদের দাবি যশোর স্টেশন থেকে মুন্সি মেহেরুল্লাহ রেল স্টেশন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শাটল ট্রেন ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীদের সময় ও ভাড়া অনেকটা কমতো।এছাড়া সড়ক দূর্ঘটানার শংকাও কমবে।
দেশের ভিতর সবজি জোন হিসাবে যশোর জেলার চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নটি ব্যাপক পরিচিত।এলাকার কৃষকদের দাবি স্টেশনটি চালু হলে তারা তাদের সবজি কম খরচে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে পারবে।যাতে এলাকার কৃষকরা লাভবান হবেন বলে তারা জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here