ইবিতে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু, কনস্ট্রাকশন এরিয়া ভাংচুর ও নিরাপত্তা দাবি

0
198

রানা আহম্মেদ অভি, ইবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা। প্রথম প্রশাসন ভবনের পাশেই নির্মাণাধীন দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনের পাইলিংয়ের অবশিষ্ট অংশের সাথে মাথায় আঘাত লেগে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। 
গতকাল বৃৃহস্পতিবার(২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ওই শ্রমিক নিহত হন। নিহত শ্রমিকের নাম মো. ওবাইদুল রহমান (৪০)। ওবায়দুর রহমানের বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানায়।
জানা যায়, বৃৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম প্রশাসন ভবনের পাশে দ্বিতীয় প্রশাসন ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চলমান মেগাপ্রকল্পের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় প্রশাসন ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। । পাইলিং করার পরে, অবশিষ্ট একটি অংশের সাথে ধাক্কা খেয়ে মাথায় আঘাত পায় ওবাইদুল। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেওয়া হয়। তার অবস্থা গুরুতর ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। যাওয়ার পথে ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তী বৃত্তিপাড়া এলাকায় এ্যাম্বুলেন্সে শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। 
এদিকে এ দূর্ঘটনা পরবর্তী শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মীরা রাত ৯ টায় বিক্ষোভে নামেন। দ্বিতীয় প্রশাসন ভবন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও নির্মাণ এলাকায় টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন তাঁরা । নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই চলমান কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর পক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এবং আন্দোলনকারীরের দাবী দাওয়া পূরণসহ পরের দিন ঠিকাদার, প্রধান প্রকোশলী ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সাথে এই সমস্যা সমাধানের আলোচনার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ স্থগিত করেন।
পরবর্তীতে আজ শুক্রবার বিকাল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ। এ সময় প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. নওয়াব আলী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী শহীদ উদ্দীন মো. তারেক, শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিক আরাফাত, সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় আন্দোলনকারীরা আট দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো, যেকোনো অবস্থায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসে নির্মাণ সামগ্রীর গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সকল উন্নয়নকাজ বন্ধ থাকবে। এ সময় আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মুন্সী শহীদ উদ্দীন মো. তারেক বলেন, এখানে সম্পূর্ণ দায়ভার ঠিকাদারি কোম্পানির। ওদের ইন্সুরেন্স করা থাকে। ইন্সুরেন্স থেকে নিহত ব্যক্তি যাতে ক্ষতিপূরণ পায়, সে ব্যবস্থা আমরা করে দিবো। তবে নিরাপত্তার কোনো ত্রুটি ছিলো না। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একমত। একটু সময় লাগবে। দাবিগুলো বাস্তবায়ন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here