ডুমুরিয়ায় হাতিটানা নদী দখল করে পোল্ট্রি খামার ! ভোগান্তির আশংকায় এলাকাবাসী

0
178

গাজী আব্দুল কুদ্দুস, ডুমুরিয়া(খুলনা) : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালি ইউনিয়নের শুকুরমারী এলাকায় হাতিটানা নদীর খাসজমি দখল করে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে পোল্ট্রি খামারসহ অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দূর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাচলের অনুপযোগী ও বর্ষা মৌসুমে নিন্ম এলাকাগুলো জলাবদ্ধতার সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা। 
লিখিত আবেদন ও একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশ স্বাধীনের আগে হাতিটানা নদীর মুখে সালতা নদীর মোহনায় বাঁধ দেয় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি নিষ্কাশনের জন্য বিকল্প হিসেবে সেই থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে বাইলহারা স্লুইস গেট। কিন্তু মাদারতলা বাজার থেকে শুরু করে ব্রহ্মারবেড়, ঝরঝরিয়া, শুকুরমারি ও কোড়াকাটা পর্যন্ত নদীর দুই পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে এসব স্থাপনা। সম্প্রতি শুকুরমারী এলাকার বিমল কৃষ্ণ মন্ডলের ছেলে কৃষ্ণপদ মন্ডল হাতিটানা নদীর তীরে খাসজমি ভরাট করে দুটি পোল্ট্রী ফার্মের ঘর নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেছে। 
স্থানীয় ভৈরব মন্ডল,গৌরঙ্গ মন্ডল,পরিমল মন্ডল সহ অনেকেই জানান, প্রায় এক বিঘা নদীর জমি অবৈধভাবে দখলে নিয়ে সেখানে একাধিক পোল্ট্রী খামার গড়ে তুলেছে। এতে একদিকে রাস্তা দিয়ে চলাচলে যেমন দুর্গন্ধ ছড়াবে অন্যদিকে পানি নিষ্কাশনে বাঁধা হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এছাড়া ফার্মের নিকটেই একটি কালি মন্দির থাকায় মা-বোনদের পূজা অর্চনায় আসতে নাকে মুখে কাপড় দিয়ে আসা লাগবে বলে তারা অভিযোগ করে বলেন। এছাড়া এলাকার বসুন সানা, বিশ্বজিৎ মিস্ত্রীসহ অনেকেই নদী দখল করে স্থাপনা তৈরি করেছে।  
এ বিষয়ে কৃষ্ণপদ মন্ডল বলেন, নদীর জায়গা দখল করেছি ঠিক, তবে সরকার যাদের বন্দোবস্ত দিয়েছে তাদের কে হারি দিয়ে সেখানে পোল্ট্রী খামার করছি। সরকার যদি নদী খনন করে তখন আমার খামার সরিয়ে নিবো।
এ বিষয়ে স্থানীয় শিবপদ গাইন বলেন, বর্ষাকালে আমাদের উঠান তলিয়ে যায়। নদী দিয়ে পানি সরার কায়দা নেয়ই দখলদারদের কারণে। আমরা চাই অবৈধ দখলমুক্তসহ নদীটি খনন। তাহলে অন্তত ডুবার হাত থেকে বাঁচতে পারবো।
শিক্ষক অমরেন্দু মন্ডল বলেন, অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে হাতিটানা নদীটি। এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একটাই পথ এই নদী। বর্তমান বাহির পাশে নদীটি সিলটেড হয়ে পড়েছে। আর এরসাথে পাল্লা দিয়ে দখল উৎসবে মেতে উঠেছে কিছু অসাধু মানুষ। 
এ প্রসঙ্গে মাগুরখালী ইউপি চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ সানা বলেন, সালতা ও হাতিটানা নদী সিলটেড হয়ে যাওয়ায় এবং নদী অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ায় বর্ষা মৌসুমে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অবিলম্বে এসব দখল মুক্ত পূর্বক নদী খননের একান্ত জরুরী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ আসিফ রহমান বলেন, আবেদন পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে হাতিটানা নদীর জায়গায় অবৈধ স্থাপনাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here