সাত বছর আগে কাজ শুরু শেষ হয়নি আজও বাড়ছে ক্ষোভ চৌগাছার সরকারী হাইস্কুলের নির্মানাধীন মার্কেট ময়লার ভাগাড় পরিবেশ হচ্ছে নষ্ট

0
196

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি সরকারী শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমিতে সাত বছর আগে ভবন নির্মানের কাজ শুরু হয় কিন্তু আজও শেষ হয়নি। বছরের পর বছর নির্মান কাজ বন্ধ থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রড আর নির্মিত পিলারসহ অন্য কিছু। স্থানটি পরিত্যাক্ত হওয়ায় এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তি সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরী করেছে আর রাতে মাদকসেবিদের জন্য নিরাপদ আশ্রায় কেন্দ্র হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ভবনটি দ্রুত নির্মানের দাবি করেছেন ভুক্তভোগীসহ উপজেলার সচেতন মহল।
চৌগাছার ঐতিহ্যবাহি সরকারী শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এ অঞ্চলের সব শ্রেনী পশোর মানুষের কাছে গৌরব আর অহংকারের একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯২৯ সালে কিছু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব ১২ দশমিক ৭৪ একর জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। যার প্রতিষ্ঠাকালিন প্রধান শিক্ষক ছিলেন মিঃ দ্বিন আলী। প্রতিষ্ঠার পর হতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে সকলের নজর কাড়ে। প্রায় শত বছরের এই বিদ্যালয়টি সরকারী হয়েছে। সরকারী হওয়ার আগে বিদ্যালয়ের সাথে যে সব ব্যক্তি সম্পৃক্ত ছিলেন তারা অসাদ উপয়ে অর্থ রোজগারের জন্য বর্তমান ভাস্কার্য মোড় হতে মহেশপুর সড়ক ঘেষে একটি ভবন নির্মান কাজ শুরু করেন দাবি স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ীসহ সাধারন মানুষের। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে সে সময়ে বিদ্যালয় পরিচালনায় যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা স্কুলের জমিতে মার্কেট নির্মানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন যথারীতি কাজও শুরু করা হয়। এই মার্কেট নির্মানের কারনে একাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করেন তারা। দ্রুত কাজ শেষ করে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের মাঝে দোকান বরাদ্দ দেয়া হবে এই মর্মে চলে উচ্ছেদ। কিন্তু দেখতে দেখতে সাত বছর পার হয়েছে মার্কেট নির্মানের কাজ আজও শেষ হয়নি। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান হয়েছে কয়েকটি পিলার। বছরের পর বছর ধরে পানিতে ভিজে আর রোদে পুড়ে নির্মান করা পিলার ও রড হচ্ছে নষ্ট। শুধু তাই না মার্কেট নির্মানের কাজ শুরু অতঃপর বন্ধ এতে করে গোটা মার্কেট এলাকা যেন হয়েছে ময়লার ভাগাড়। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যাক্তি নিয়মিত সেখানে সব ধরনের ময়লা ফেলে সৃষ্টি করছে দূগন্ধের, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। নির্মাধীন মার্কেটের সম্মুখভাগে আছে বেশ কিছু হোটেল রেস্তোরা। এসকল হোটেল রেস্তোরার মালিকরা ওই স্থানটিকে আরও নোংরা করে তুলেছে। পাশাপাশি অনেকের মলমুত্র ত্যাগ করারও যেন একটি ঠিকানা হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা নামলে মাদকসেবিরা সেখানে ভিড় করে চলে মাদকসেবনের কাজ। বছরের পর বছর কেটে গেছে কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না। এরফলে সচেতন মহলে বাড়ছে ক্ষোভ।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি সরকারী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বাতিল হয়ে যায় বিগত পরিচালনা পরিষদ। বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়। বিদ্যালয়ের প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে আসে কিন্তু মার্কেটের অসামাপ্ত কাজ আজও শুরু হয়নি।
সরকারী হওয়ার আগে পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সে সময়ের পরিচালনা পরিষদ ও কিছু শিক্ষক মিলে এই মার্কেট নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয় বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন। ভিত থেকে শুরু করে পিলার তৈরীতে তারা অর্ধকোটি টাকা ব্যয় করেছেন বলে জানা গেছে। ব্যয়কৃত টাকার উৎস কি, কোথা থেকে সে সময়ের কমিটি টাকা সংগ্রহ করেছে তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে সর্বমহল হতে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, স্কুলের জমিতে মার্কেট নির্মানে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। টাকা না থাকায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয় সরকারী হওয়ায় বর্তমান সভাপতি মহোদয়ের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরুফা সুলতানা জানান, স্কুলের জমিতে নির্মানাধীন মার্কেট সম্পর্কে আমি জেনেছি। যেহেতু প্রতিষ্ঠান এখন সরকারী তাই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here