রাজগঞ্জে সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, চাষি এবং ভোক্তা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

0
202

হেলাল উদ্দিন, রাজগঞ্জ প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় সবজি চাষে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে চাষি এবং ভোক্তারা।
রাজগঞ্জ এলাকার রোহিতা, খেদাপাড়া, হরিহরনগর, ঝাঁপা, চালুয়াহাটি এবং মশ্বিমনগর এই ছয়টি ইউনিয়নের ৩৫ ভাগ জমিতে চাষিরা সবসময় সবজি চাষ করেন। তবে, শীতকালে সবজি বেশি চাষ হয়।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- সবজি চাষিরা দ্রুত তাদের ফসলের উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত ভারতীয় কীটনাশক ব্যবহার করছে। এতে দিন দিন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
রাজগঞ্জের মশ্বিমনগর ইউনিয়নের শাহপুর-হয়াতপুর ও হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর-শৈলি মাঠে বেশি সবজির আবাদ হয়। এছাড়া উল্লেখিত ইউনিয়নগুলোর কম-বেশি বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে হচ্ছে সবজির আবাদ। এরমধ্যে রয়েছে- শিম, বাধাঁকপি, ফুলকপি, বেগুন, মুলা, পালংশাক, পুইশাক, লালশাক, ওলকপি, লাউসহ বিভিন্ন রকমের সবজি।
সম্প্রতি দেখাগেছে- রাজগঞ্জের শাহপুর মাঠের চাষিরা শিমসহ বিভিন্ন সবজির পরিচর্যা করছেন। কেউ সবজি বিক্রির উদ্দেশ্যে তুলছেন, আবার কেউ সবজি গাছের আশেপাশের আগাছা পরিষ্কার করছেন। আবার অনেকে সবজি ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের পর ওই এলাকার রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় কীটনাশকের উৎকট গন্ধে মানুষের মাথা ঘুরাচ্ছে। আবার অনেক পথচারি নাকে রুমাল দিয়ে পথ চলছে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়- চলতি শীত মৌসুমে শিমসহ অনেক সবজির ফুলে জাবপোকা ধরে। এই পোকা দমন করতে চাষিরা সপ্তাহের পাঁচ দিনই অত্যন্ত ক্ষমতা সম্পন্ন ভারতীয় কীটনাশক স্প্রে করে। কোনো কোনো জমিতে পোকার আক্রমণ হলে, দিনে দুবারও কীটনাশক প্রয়োগ করেন চাষিরা।
শাহপুর এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন- পোকা দমনের জন্য চাষিরা সবজি ক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার করে এবং ভালো ফলনও ফলায়। কিন্তু সবজিতে ব্যাপক কীটনাশকের ব্যবহারে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে। সাথে সাথে কৃষকদের ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। গত কয়েক বছর আগের শাহপুর এলাকায় সবজি ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করার সময় বিষক্রিয়া হয়ে দুইজন চাষি মারা যান।
চাষিরা বলেন- সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক দিতে হয় শিম ও বেগুনে। সপ্তাহে তিন-চার দিন কীটনাশক স্প্রে না করলে এই সবজিগুলো পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে শিমের ক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক স্প্রেতে প্রতিদিনই এলাকাজুড়ে বিষের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের সঙ্গে কীটনাশকের এ দুর্গন্ধ শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এতে শিশু-বৃদ্ধসহ সব বয়সি মানুষ নানান ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
চাষিরা বলেন- আগেকার সময় সবজি ক্ষেতে সপ্তাহে একদিন কীটনাশক দিলেই হতো। কিন্তু এখন এমন পরিবেশ নেই। এখন সপ্তাহে পাঁচ দিন এমনকি প্রতিদিন কীটনাশক স্প্রে করলে ভালো হয়। এসব বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারে চাষিরা অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন এমনকি জ্ঞানও হারায়। কীটনাশকের দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকার বাতাস বিষাক্ত হয়ে ওঠে এটা বোঝা যায়। কিন্তু কি করবো।
বিশেষজ্ঞরা বলেন- সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে উৎপাদিত সবজি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সবজিতে কীটনাশক প্রয়োগ সম্পর্কে চাষিদের সচেতনতা বাড়াতে সরকারিভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন- অতিরিক্ত কীটনাশক স্প্রে করা সবজি খেলে, ক্যানসার, কিডনি, লিভার ড্যামেজ, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।
এবিষয়ে স্থানীয় কৃষি অফিসাররা বলেছেন- ফসল উৎপাদনে কীটনাশক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক। আমরা সবসময় নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। রাসায়নিক কীটনাশকের পাশাপাশি জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে। জৈব কীটনাশকে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। পরিবেশ ভালো থাকবে এবং কৃষক ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here