আজ মঙ্গলবার হতে শুরু চৌগাছার পৌষ কালি পূজা ও সম্প্রিতি মেলা

0
188

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ চৌগাছায় আজ মঙ্গলবার হতে শুরু
হচ্ছে পৌষ কালিপুজা ও সম্প্রিতি মেলা, চলবে একাধারে চার দিন। এ
বছরই প্রথম চৌগাছাতে নতুন এই পুজার আয়োজন করায় হিন্দু
সম্প্রদায়দের মাঝে বয়ে যাচ্ছে আনন্দের বন্যা। পুজার মুল আনুষ্ঠানিকতার
আগ মুহুর্তে আয়োজক কমিটিসহ সংশ্লিষ্ঠরা ব্যাপক ব্যস্ত সময় পার
করছেন। অনুষ্ঠানে হাজারও ভক্ত অনুসারীসহ সাধারন মানুষের উপস্থিতি
ঘটবে বলে মনে করছেন আয়োজক কমিটি।
চৌগাছা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের টেঙ্গুরপুর মহাশ্মশানে কংশারীপুর,
তারিনিবিাস ও টেঙ্গুরপুর এই তিন গ্রামের হিন্দু সমপ্রদায়েররা মিলে
পৌষ কালিপূজা ও সম্প্রিতি মেলার আয়োজন করেন। চৌগাছার
ইতিহাসে এটিই প্রথম পৌষ কালিপুজা বলে জানান সংশ্লিষ্ঠরা। প্রায়
এক মাস ধরে চলে ১৪ হাত উচ্চতা কালি প্রতিমা তৈরীর কাজ। একজন
ভাস্করসহ অন্তত ৭/৮ জন ব্যক্তি দিনরাত নিরালস ভাবে কাজ করে গেছেন।
পুজার মুল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগের দিন অর্থাৎ সোমবার সারা দিনই
কৃর্তপক্ষ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করেছেন আর ভাস্কর বিশ্বজিত কুমার
করেছেন রং তুলির কাজ। রাত পোহালে মঙ্গলবার সকালে ধুমধাম করে শুরু হবে
উৎসব। এই উৎসবে ভক্তদের বাধভাঙ্গা স্রোত এসে কপোতাক্ষ পাড়ে মুল
অনুষ্ঠানস্থলে আছড়ে পড়বে বলে মনে করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার দুপুরে কপোতাক্ষ পাড়ে কালিপুজার স্থানে যেয়ে দেখা যায়
উৎসুক জনতান ভিড়। পূজা ও সম্প্রিতি মেলা উদযাপন কমিটির লোকজনও
কাজে ব্যস্ত। এসময় কথা হয় বিশাল আকৃতির কালি প্রতিমা তৈরীর
কারিগর বিশ্বজিত কুমারের সাথে। তিনি বলেন, দীর্ঘ এক মাসের বেশি
সময় ধরে কাজ করেছি। এখন রঙের কাজ চলছে, আশা করছি সন্ধ্যার আগেই
সব শেষ করতে পারবো।
মেলা প্রাঙ্গনে আগত দর্শনার্থী কোমল কুমার, দুষ্টু সরদার, অনিল দাস,
রুপালী দাস, শিবা দাস বলেন, এর আগে আমরা এমন উৎসবে যোগ দিতে
ঝিনাইদাহ কিংবা মাগুরা জেলাতে গেছি এখন তা নিজের এলাকাতে হবে
তাই আনন্দ বেশি হচ্ছে।
পূজার পুরোহীত মহেশপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের তারক নাথ বলেন, ২৭
ডিসেম্বর মঙ্গলবার পূজা অর্চনা হোম-অঞ্জলী প্রসাদ তিবরণ, বুধবার
হরিনাম সংকীর্ত্তন-প্রসাদ বিতরণ, বৃহস্পতিবার পদাবলি কীর্ত্তন-প্রসাদ
বিতরণ এবং শুক্রবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি ঘটবে।
পৌষ কালিপূজা ও সম্প্রিতি মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি শ্যামল
কুমার বলেন, ইতোমধ্যে সকল কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছি। নিজের
উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী জেলা উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায় সকলকে দাওয়াত করা
হয়েছে। পূজা ও মেলাতে ভক্ত অনুসারীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক
উপস্থিতি ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here