ইবির ৫৩৭ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পের মেয়াদ শেষ! “বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার পরিচয়” “চার বছরে ৩২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন”

0
197

রানা আহম্মেদ অভি, ইবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) চার বছর আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক ৫৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন পেয়েছিল। যার জন্য নির্ধারিত সময়ে মেগা প্রকল্পটির আওতায় সকল নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ৯টি ভবন, পাঁচটি আবাসিক হল, দুটি কর্মকর্তা ও কর্মচারী আবাসিক কোয়ার্টার এবং একটি একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করার কথা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য দুইবার সময় বাড়িয়েছে। ইবি প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তারা জানান, মেগা প্রকল্পের অধীনে নির্মাণ কাজের বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য একনেক ৫৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও চার বছরে মাত্র ৩২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে যে সময়মতো টেন্ডারে ব্যর্থতার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে ধীরগতি হয়েছে। ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য ১০টি দরপত্র ছাড়া প্রথম দুই বছর আট মাসে কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।
ইবি’র ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ তারেক বলেন, ‘শুরুতেই টেন্ডার করে নির্মাণ কাজ শুরু করলে সময়মতো কাজ শেষ হতো। করোনা মহামারির কারণে কাজগুলো কয়েক মাস ধরে স্থগিত ছিল এবং পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদাররা সরকার কর্তৃক ভর্তুকি পাওয়ার আশায় কাজ বন্ধ করে দেয়।’তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে কাজ শেষ করতে আড়াই বছর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও করেছে। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব বলে জানান তিনি।
এদিকে মেগা প্রকল্পের আওতায় ভূমি উন্নয়নের কাজ এখনও শুরু হয়নি। গ্যালাক্সি অ্যাসোসিয়েট মজুমপুর, কুষ্টিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজের দরপত্র পেলেও কার্যাদেশ পাওয়ার পর ৯ মাসেও কাজ শুরু করেনি প্রতিষ্ঠানটি।ভূমি উন্নয়ন কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক এম নওয়াব আলী বলেন যে তারা ঠিকাদারকে বেশ কিছু চিঠি পাঠিয়ে। চিঠির জবাব দেননি তিনি। শিগগিরই তার কার্যাদেশ বাতিল করা হবে।ইবি’র উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন যে কোভিড-১৯ সহ বড় ধরনের বিধিনিষেধ ও বাধার কারণে কাজ সময়মতো শেষ করা যায়নি। দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাড়তি দুই বছরে যেতে চাই না, বড় ধরনের বাধা না থাকলে আশা করি তার আগেই কাজ শেষ করে ফেলব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here