চায়ের দোকানে চেয়ারম্যানের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চেয়ারম্যান ও তার লোকজন পেটালেন নিরীহ দিনমজুরকে

0
194

স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের অভয়নগর উপজেলায় বেদম মারপিটের শিকার রফিকুল ইসলাম (৪৬) নামের এক যুবক হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। লাঠির আঘাতে তার সারা শরীর ফুলে গেছে। গত চারদিন ধরে তিনি অভয়নগর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মারপিটের শিকার রফিকুল ইসলাম অভয়নগর উপজেলার বিভাগদি গ্রামের আনোয়ার হোসেন মোল্যার ছেলে। তিনি একজন গাছ কাটা শ্রমিক। গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন প্রকল্পের (টিআর) আওতায় পত্রিকায় ‘রাস্তা মেরামত না করেই টাকা তুলে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন সম্পর্কে তালতলা খেয়াঘাটে একটি চায়ের দোকানে লোকজনের সামনে আলোচনা করার সময় উপস্থিত থাকায় উপজেলার বাঘুটিয়ায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান ও তার সাঙ্গপাঙ্গ মিলে গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে রফিকুলকে বাড়ি থেকে ডেকে বিভাগদি পুকুরপাড়ে নিয়ে তাকে বাঁশের লাঠি ও চেয়ার দিয়ে বেদম প্রহার করে।
রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি লেখাপড়া জানিনা। চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান সম্পর্কে পত্রিকার একটি নিউজ পড়ে চায়ের দোকানে লোকজন বলাবলি করছিল। সেখানে আমি বসে ছিলাম। আমি ওখানে এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলিনি। এরপর বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে বিভাগদি পুখুরপাড়ে নিয়ে চেয়ারম্যান, বাঘুটিয়া গ্রামের সরোয়ার হোসেনের ছেলে, ইকবাল হোসেন ও বিভাগদি গ্রামের গনেশ সেনের ছেলে সঞ্জয় সেন মিলে বাঁশের লাঠি ও চেয়ার দিয়ে আমার মাথা থেকে শুরু করে হাত, পা, কোমরসহ সারা শরীরে বেদম মারপিট করে। চেয়ারে থাকা লোহা শরীরের অনেক স্থানে বিদ্ধ হয়েছে।
রফিকুলের স্ত্রী পারভীন বেগম জানান, আমার স্বামী একজন দিনমজুর। সে লেখাপড়া জানেনা এবং নিরিহ প্রকৃতির। একটি চায়ের দোকানে চেয়ারম্যানের রাস্তার কাজ নিয়ে কথা হচ্ছিল। সে খোনে বসেছিল। এরবাইরে চেয়াম্যান সম্পর্কে কোথাও কোন আলোচনা করেনি। অথচ অন্যায় ভাবে আমার স্বামীকে মারপিট করা হয়েছে। এলাকার অর্জুন সেন সাথে করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হতে বলে । পরবর্তিতে তারা ব্যবস্থা নিবে বলে যানিয়েছে। আমরা লেকা পড়া যানিনা বলে এখনও মামলা করতে পারিনি। আমার স্বামী বর্তমানে হাসপাতালে বিছানায় যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে।
জানতে চাইলে অভয়নগর উপজেলা যুবলীগের যুগ্নআহবায়ক অর্জুন সেন বলেন, পত্রিকায় চেয়ারম্যান সম্পকে একটি নিউজ নিয়ে আলোচনার স্থানে রফিকুল বসে ছিল।রফিকুল অত্যন্ত নিরিহ প্রকৃতির এবং আমাদের আওয়ামী লীগের এক জন কর্মী । চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান বিএনপি সমার্থক। এই জন্য চেয়ারম্যান তাকে মেরেছে। এব্যপারে মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান বলেন,‘ কয়েকদিন আগে পত্রিকায় আমার সম্পর্কে রাস্তার কাজ নিয়ে একটি নিউজ এসেছে।এরপর আমি ঢাকায় ছিলাম। রফিকুল উপজেলার বাঘুটিয়া, বুনোরামনগর, শংকরপাশাসহ বিভিন্ন জাগায় যেখানে সে কাজ করে সেখানে গিয়ে বলে বেড়াচ্ছে যে চেয়ারম্যান রাস্তার টাকা মেরে ঢাকায় পালিয়ে গেছে।তাই তাকে মারপিট করেছি।’
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম শামীম হাসান বলেন,বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে এ ধরনের ঘটনায় অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here