রানা আহম্মেদ অভি, ইবি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব পালন করা প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহ. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে চলছে ষড়যন্ত্র। বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে ভিত্তিহীন অধরা ধুম্রজাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে তা বানোয়াট মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দুর্নীতিতে কোনপ্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি। প্রচারিত অভিযোগগুলোর বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া, অভিযোগ বিষয়ে দুদকের নাম ব্যবহারে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়টি অজ্ঞাত ও আমার নামে মনগড়া মিথ্যা কথা বক্তব্য আকারে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দুদক কুষ্টিয়ার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বিষয়ে দুদকে গচ্ছিত স্পষ্ট কোন অভিযোগ বা তথ্য জানা নেই বলে মুঠোফোনে জানিয়েছে উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।
জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। গত ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তি ও সম্মেলন প্রস্তুতির জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। মুহূর্তে যেন সৃষ্টি হয়ে যায় প্রবল চাঞ্চল্য আবেগ। পরবর্তীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাধিক নেতা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারো বিভিন্ন অনিবন্ধিত প্রোটালের সাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতির বিরুদ্ধে এমন ধুম্রজাল দেখা যাচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীদের তদন্ত সূত্রে জানা যায়, দুদক উপ-পরিচালক বরাবর প্রেরিত অভিযোগপত্রটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরীর সাথে মিল রেখে সাবেক প্রক্টর মাহবুবর রহমানের সাথে নামের সাদৃশ্য পাওয়া গিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করলে ‘অভিযোগপত্রটি তিনি জমা দেননি ও স্বাক্ষরটি তার নয়’ এছাড়া বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে এবিষয় নিয়ে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থী মহলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পদবঞ্চিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান লালনের নামের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে গুঞ্জন উঠে আসছে বারবার। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য তার সাথে যোগযোগ করলে তিনি বলেন ‘আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিষয়ে মাথায় ব্যথা নেই, আমিও অন্যদের মতো বিভিন্ন মাধ্যমে এগুলো দেখেছি। এসব বিষয়ে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষকনেতা অধ্যাপক ড. মোহ. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দুর্নীতির সাথে কোন সংশ্লিষ্টতা ও অবৈধ কোন সম্পদ আমার নেই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি নিজের স্থান থেকে চিন্তা মুক্ত কারণ এসবের অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তিনি আরো বলেন, হঠাৎ বিভিন্ন মাধ্যমে বানোয়াট, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। যার জন্য মানহানী হচ্ছে। আবারো জানাচ্ছি আমার অবৈধ কোন সম্পদ নেই। এ বিষয়ে দুদক কুষ্টিয়ার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল জানান, আসলে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসলে এটি আমাদের বাছাই কমিটি দ্বারা ওপেন করা হয়। কোন অভিযোগ বাছাই কমিটির কোন সদস্যই ওপেন করার কোন ক্ষমতা রাখেনা। আমরা আগামী মাসে বাছাই কমিটি বসবো। তখন কমিটির সদস্যরা বসে দেখা হবে কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে। প্রক্টরের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ এসেছে কি আসেনি তা আমরা শুধুমাত্র সেই দিন জানতে পারবো, এখন কিছুই জানিনা। আমাদের তার আগে জানার কোন এখতিয়ার নেই। অভিযোগ বিষয়ে জানান, তিনি এসব বিষয়ে কাউকে কখনো এ কোন বক্তব্য প্রদান করেনি। মাসজুড়ে অভিযোগ জমা হয় অফিসে, যারা যেভাবে জমা করেন ঠিক সেভাবেই জমা রয়েছে। কখন কার বিরুদ্ধে কী পড়েছে তা জানিনা। এখনো তো খোলায় হয়নি, তার পূর্বেই মানুষজন প্রচার করলে তা বিশ্বাসযোগ্য না । তবে আমার পক্ষে প্রচারিত এমন কোন কথা কাউকে বলিনি। যে তথ্য আমার নামে বক্তব্য আকাড়ে প্রচার করা হয়েছে সেগুলো মনগড়া কথা।
আলোচিত সমালোচিত বিষয়টিতে কিছুই জানা নেই বলে জানিয়েছেন দুদক কুষ্টিয়ার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন এমন কোন অভিযোগ আসলে আমি জানতাম। কিন্তু এখনো কিছুই জানিনা। অফিসে খোঁজ নিতে হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম ছুটিতে থাকায় অফিসে গিয়ে তার সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এছাড়া ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন “দুদকের বিষয়টা জানা নেই তবে যদি হয় তবে প্রশাসন ব্যক্তিগত বিষয়ে কী হস্তক্ষেপ করবে? যদি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কাজের সাথে সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে তাহলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ।















