প্রস্তুত সাগরদাঁড়ি বুধবার থেকে মুখরিত হবে মধুভক্তদের আগমনে কপোতাক্ষপার ও মধুপল্লী

0
271

এহসানুল হোসেন তাইফুর, বিশেষ প্রতিনিধি: বুধবার থেকে সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদ পাড় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধুভক্ত লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠবে। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মধুমেলার জন্য প্রস্তুত সাগরদাঁড়ি। যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে উৎসবে মেতে উঠবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা উপলক্ষে কবির জন্মভূমির স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদ, জমিদার বাড়ির আম্রকানন, বুড়োকাঠ বাদাম গাছ তলা, বিদায় ঘাটসহ মধুপল¬¬ী হাতছানি দিয়ে ডাকছে মধু ভক্তদের। মধুভক্ত লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত হবে সাগরদাঁড়ির চারপাশ। বর্ণিল সাজে সেজেছে সাগরদাঁড়ি। সপ্তাহ ব্যাপী মেলা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচী। ইতিমধ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাগরদাঁড়িতে ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সপ্তাহ ব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মধু মেলার সপ্তাহ ব্যাপী কর্মসূচী থেকে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, এমপি, সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, মো. নাসির উদ্দীন, কাজী নাবিল আহমেদ, রণজিত কুমার রায়, মো. শাহীন চাকলাদার, যশোর পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম (বার) পিপিএম, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম মিলন, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল। মেলার দ্বিতীয় দিন ২৬ জানুয়ারি “মধুসূদনের স্বদেশ চেতনা ও বাঙ্গালি জাতীয়তাবোধ” বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় প্রধান অতিথি থাকবেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন, বিশেষ অতিথি থাকবেন, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মর্জিনা আক্তার। মেলার তৃতীয় দিন ২৭ জানুয়ারি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ূন কবীর, বিশেষ অতিথি থাকবেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. সাবিনা ইয়াসমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা, যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ, মেলার চতুর্থ দিনে ২৮ জানুয়ারি “মধুসূদনের জীবন ও সাহিত্য” বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় প্রধান অতিথি থাকবেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, বিশেষ অতিথি থাকবেন, যশোর পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম (বার) পিপিএম, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল ও রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রফেসর ডা. এম. এ রশীদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে যশোর শাখার সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য, মেলার পঞ্চম দিন ২৯ জানুয়ারি “বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের নাটক” বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় প্রধান অতিথি থাকবেন, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আহসান হাবীব। বিশেষ অতিথি থাকবেন, যশোর সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বি.এল কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক প্রফেসর আব্দুল মান্নান। মেলার ষষ্ঠ দিন ৩০ জানুয়ারি “মধুসূদন ও মেঘনাদবধ কাব্য” বিষয় ভিত্তিক আলোচনায় প্রধান অতিথি থাকবেন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, বিশেষ অতিথি থাকবেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক শাহিদা সুলতানা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ। মেলার শেষ দিন ৩১ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, সংসদ সদস্য মো. শাহীন চাকলাদার, বিশেষ অতিথি থাকবেন, কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এস. এম. রুহুল আমীন, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র সাংবাদিক শ্যামল সরকার, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মফিজুর রহমান, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মোস্তাফিজুল ইসলাম।
মেলা উপলক্ষে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী অতিথি দাওয়াতও করেছেন বলে জানা গেছে। সাগরদাঁড়ির পাশের গ্রাম আওয়ালগাঁতি গ্রামের তুহিন রেজা বলেন, মেলা উপলক্ষে তার বোন ভগ্নীপতিদের দাওয়াত করেছেন। কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম বলেন, সাগরদাঁড়ি মেলা দেখার জন্য খুলনা থেকে তার ছোট মামা, মামিসহ অন্য মামাতো ভাই-বোনরাও আসবেন। এ উপলক্ষে বাড়িতে আগে ভাগেই নানান রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাড়িতে চালের গুঁড়া তৈরি করা হয়েছে। খেজুরের রসে ভিজানো পিঠায় অতিথি আপ্যায়ণ করা হবে বলে তার মা সাহিদা সুলনতানা খুবই খুঁশির মধ্যে সময় পার করছেন।
সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত জানান, মেলা উপলক্ষে এলাকাবাসীর ভেতর ব্যাপক হারে উৎসাহ উদ্দিপনা দেখা দিয়েছে। সাগরদাঁড়িসহ অন্য ইউনিয়নগুলোতেও চলছে নানা আয়োজন। বিশেষ করে খেজুরের রসে ভেজানো পিঠায় অতিথি আপ্যায়নে প্রস্তুতি নিয়ে চালের গুঁড়া তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গৃহবধূরা। সাগরদাঁড়িবাসী অতিথি আপ্যায়নে ইতিমধ্যে প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে।
এবারের মেলায় কুঠির শিল্প, গ্রামীণ পসরার পাশাপাশি সার্কাসের আয়োজন থাকবে। এছাড়াও প্রতিদিন সাগরদাঁড়ির মধু মঞ্চে আলোচনার পাশাপাশি নাটক, কবিতা আবৃতিসহ মনোজ্ঞপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও থাকছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মেলা উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব এম এম আরাফাত হোসেন জানান, মেলা সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে উদযাপনের লক্ষে ইতিমধ্যে সাগরদাঁড়িতে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here