মনিটরিং নেই কৃষি অফিসের মহেশপুরে ২২শ ভূট্রা চাষি ক্ষতিগ্রস্থ দেরিতে বীজ পাওয়ায় বপন করেননি অধিকাংশ কৃষক

0
207

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)অফিসঃ প্রণোদনার নিম্নমানের ভুট্টা বীজে সর্বনাশ হয়েছে মহেশপুরের গ্রাম অঞ্চলের চাষীদের। কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিতরণ করা ভুট্টার বীজে চারা না গজানোর অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার ২হাজার ২শ কৃষি পরিবারের মাঝে এসব বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। তবে এই বীজ মৌসুম শেষ হওয়ার পর বিতরণ করায় চাষীদের মধ্যে মাঝে ােভ দেখা দিয়েছে। এ জন্য চাষীরা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়ী করছেন। তারা বলছেন, এসব বীজ খুবই নিম্নমানের। সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয় করে এসব নিম্নমানের বীজ কিনে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও বীজ মৌসুম শেষে বীজ বিতরণ করায় বেশি ভাগ কৃষকই ঐ বীজ কাজে লাগাতে পারেননি। এই প্রণোদনার বীজ বিতরণে সরকারি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছুই না বলে মনে করেন কৃষকরা।
এদিকে বীজ ও সার বিতরণে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। প্রণোদনা কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য কৃষকদের তথ্য তালিকায় নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর থাকলেও সার-বীজ পাননি অনেকে। তালিকায় নাম ঠিকানা থাকলেও বেশ কিছু নম্বর ভুল দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তালিকায় নাম থাকা একাধিক কৃষক দেরিতে বীজ দেওয়ায় তা রোপন করেননি। আবার কেউ কেউ সার নিলেও বীজ নেননি।
যাদবপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন জানান, বেশকিছু জায়গায় ভুট্টার বীজ থেকে চারা বের হয়নি। তবে পরে ঐসব স্থানে নতুন করে বীজ এনে পুতে দিয়েছে। এই বীজে একটু সমস্যা আছে।
একই ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, বীজ রোপনের সময় পার হওয়ার পর অফিস থেকে ভুট্টা বীজ ও সার দেওয়ায় এবছর ঐ বীজ কোন কাজেই আসেনি। সব বীজ নষ্ট হয়েছে। একই অভিযোগ করেছে নাটিমা ইউয়িনের কুরিপোল গ্রামে মুজাহিদ হোসেন।
তথ্য তালিকায় নাম থেকেও বীজ না পাওয়া ফতেপুর ইউনিয়নের সাইদুল হক জানান, বীজ পাবার জন্য ৩নং ওয়ার্ড মেম্বর হযরত আলীর নিকট প্রযোজনীয় কাগজ পত্র জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু মেম্বর জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত কোন বীজ আসেনি। তবে তার নামের বীজ কে উত্তোলন করেছে একথা তিনি জানেন না।
এদিকে একই ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া বাজার মসজিদের মোয়াজ্জেম জামাল উদ্দিন জানান, বীজ না পেলেও তালিকায় অন্য নামের পাশে তার ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। ঐ নম্বরে ফোন করলে তিনি জানান, আমি কোন বীজ বা সার পায়নি। তবে তিনি আবেদন করেছিলেন।
ফতেপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ড সদস্য আশাদুল ইসলাম জানান, তার ওয়ার্ডের সাত জনের নামে সার ও বীজ উত্তোলন কর হয়েছিলো কিন্তু এর মধ্যে তিন জন সার বীজ নিলেও বাকিরা শুরুমাত্র সার নিয়ে গেছে। বীজ গুলো আমার এখানেই পড়ে আছে। ফতেপুর ১নং ওয়ার্ডের কৃষক বাবুর আলী শেখ ও মেহের আলী গাজী জানান, তারা সরকারের দেওয়া ভূট্রার বীজ বপন করেননি। যখন কৃষি অফিস থেকে বীজ পেয়েছে তখন তাদের লাগানো ভূট্রার বয়স দেড় মাস। দেরিতে বীজ দেওয়ায় তাদের ঐ বীজ কাজে লাগেনি।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, পরীক্ষা মূলক ভাবে এই ভুট্টার বীজ রোপন করা হয়েছিলো। সেখানে দেখা গেছে ২০% থেকে ৫০% বীজে চারা গজিয়েছে । বাকি বীজে চারা হয়নি।
ঝিনাইদহ বিএডিসির উপসহকারী পরিচালক সুমি বারই জানান, ভূট্রার বীজ ভারত থেকে আমদানি করা দেরীতে বীজ পাওয়া এবং অতিরিক্ত শীতের কারণে বীজ গজিয়েছে কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here