একদিকে সম্পূর্ন পরিবহন সেবা দিচ্ছেন না, তার উপর রুট সংখ্যাও বৃদ্ধি করছে না কিন্তু কেন ?

0
186

নিজেস্ব প্রতিবেদন, ইবি, : স্বাধীন বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় করে দেশের উচ্চশিক্ষায় ভূমিকা রেখে উন্নত জাতি গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলায় প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন তাদের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি সুনামের সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সমালোচনা যেন পিছু হাটছে না।
একের পর এক সমস্যা থাকলেও তা বাস্তবায়ন পক্রিয়া চলছে কচ্ছপ গতিতে । বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস সংকট, আবাসন সংকট, অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী বান্ধব পদক্ষেপ খুব সংকীর্ন আরো অসংখ্য সমস্যাত জর্জরিত। যতো যাই হোক শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য অন্তত পার্শবর্তী উন্নত শহরগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা খুব প্রয়োজন। কিন্তু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন ব্যবস্থা এতোটাই সংকটাময় যে পার্শবর্তী জেলা যশোর, মাগুরা, ভেড়ামারা এবং উপজেলা কুমারখালী, আলমডাঙা পরিবহন সুবিধা নেই । এইসব অঞ্চলে ইবি প্রশাসন চাইলে পরিবহন রুট বৃদ্ধি করতে পারে। ইবি মানেই কি শান্তিডাঙ্গা অথবা কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলা? ১,৮০০০ হাজার শিক্ষার্থীদের কতটুকু জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করতে পেরেছে ইবি প্রশাসন। এতো শিক্ষার্থীদের না আছে আবাসন ব্যবস্থা, না আছে যাতায়াত ব্যবস্থা, না আছে পর্যাপ্ত ক্লাসের ব্যবস্থা, না আছে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, না আছে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ । নামেমাত্র দুটো শহর কুষ্টিয়া আর ঝিনাইদহ এসব শহরে এই অজস্র শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা হয় না, সেখানে তাদের আয়ের মাধ্যমে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন অকল্পনীয়। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পারে আপনাদের কী সমস্যা ? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গোপালগঞ্জ থেকে খুলনা পর্যন্ত ৬৪.২ কিলোমিটার সেখানে পরিবহন চলাচল করে। জগৎনাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ ৪৬ কিলোমিটার ও কুমিল্লায় ১০৫ কিলোমিটার সেখানে পরিবহন যাতায়াত করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবহন গাজীপুর ৩০ কিলোমিটার সেখানে পর্যন্ত যায়। কিন্তু কুষ্টিয়া থেকে যশোর ৭০ কিলোমিটার ইবি প্রশাসন কেন পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারবে না! ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় যাতায়াত ব্যবস্থা এতোটাই দুর্বল যে কোন বাসের নির্দিষ্ট নাম পর্যন্ত নেই, তারপর অধিকাংশ ভাড়ায় চালিত বাস।
তারপর আবার এসব ফিটনেসবিহীন এসব গাড়িতে চলাচলে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বহন করার জন্য মোট বাস আছে ৪৭টি। আর নিজস্ব বাস মাত্র ১৬টি। এর মধ্যে আবার সচল আছে ১১টি। বাকি বাসগুলো চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করে থাকে সময় এন্টারপ্রাইজ। এছাড়া দুটি দোতলা বিআরটিসি বাস লিজ নেয়া আছে পাবনা ডিপো থেকে। ভাড়ায় চালিত ৩১টি বাসের মধ্য ১৫টি কুষ্টিয়া সড়কে, ১১টি ঝিনাইদহ ও পাঁচটি শৈলকুপা সড়কে চলাচল করে। অপরদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে অবস্থান করেন। তাদের ক্যাম্পাসের বাসে চলাচল করতে হয়। এছাড়া আবাসিক হলে থাকা শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন কাজে ও টিউশনি করাতে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু মহাসড়কের বেহাল দশায় শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। ৫০ কিলোমিটার রাস্তা যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন প্রশাসনকে অবগত হওয়া উচিৎ ভালো মানের দুটো বাস প্রতিদিন দুইবার করে যশোর থেকে ইবি কেম্পাস রুট নির্ধারন করা যায়। যদি যশোর, কুষ্টিয়া, ভেড়ামারা ও ঝিনাইদহ নামেমাত্র পরিবহন সেবা বাড়ানো যেত তাহলে শিক্ষার্থীদের জীবন যাত্রার মান কিছুটা হলেও উন্নত হতো।
বিশেষত পরিবহন ব্যবস্থা যতোই সংকটাময় হোক না কেন, যদি যশোর শহরে ইবি প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে শিক্ষার্থীদের কুষ্টিয়া আর ঝিনাইদহ মুখাপেক্ষী না হয়ে, উন্নত শহরে নিজেদের অবস্থা তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা হলেও উন্নত হবে।
কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ ব্যঙের ছাতার মতো এতো অনপযুগী পরিবহন না দিয়ে উপযুক্ত পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও বিশেষ করে যশোরের মতো উন্নত শহরে যাতায়াত ব্যবস্থা প্রসস্থ করা গেলে শিক্ষার্থীদের কিছুটা আন্তঃকর্মসংস্থান পথ সুগম হতো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here