নয়াউপনিবেশিক স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা অক্ষুন্ন রেখে জাতীয় ও জনজীবনের জরুরি সমস্যাকে আড়াল করে সন্ত্রাস ও সংঘর্ষের বিপরীতে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন- ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোর শহরে লাল পতাকা মিছিলোত্তর প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

0
172

আজ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় যশোর জেলা কার্যালয় থেকে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে এক লাল পতাকার র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। সংগঠনের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে র‌্যালিটি পাইপপট্টি মোড় থেকে শহর প্রদক্ষিণ করে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সমীরণ বিশ্বাস ও সদর থানা কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার আমির প্রমুখ। পরিচালনা করেন জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুল হক লিকু। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদ ও দালালদের স্বার্থরক্ষাকারী নয়াউপনিবেশিক বাংলাদেশে কখনই গণতন্ত্র ছিল না। দেশ পরিচালিত হয় সাম্রাজ্যবাদী নীতি-নির্দেশে। নির্বাচনের ফলাফলও নির্ধারিত হয় তাদের পরিকল্পনায়। এবারের নির্বাচনে বিষয়টি উলঙ্গভাবে সামনে আসছে। যে কারণে পুনরায় ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকারের ক্ষমতার উৎস এবং বৈধতার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী দেশ, তাদের সংস্থা আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে দালাল ভারত। বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের যে গালভরা বুলি আওড়াচ্ছে তা মূলত সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির সর্বোচ্চ মুনাফার লক্ষ্যে সড়ক, রেল, নৌপথসহ অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ আর সর্বোচ্চ লুটপাট। গার্মেন্ট সেক্টরসহ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) ইত্যাদি নামে সস্তা শ্রম শক্তি লুটপাটের লক্ষ্যে গড়ে উঠবে বিশাল বিশাল কয়েদখানা। যেটা ওপর নির্ভর করে শেখ হাসিনা বেকারত্ব নিরসনের সেøাগান দিচ্ছে। একইসাথে স্বৈরতন্ত্রকে তীব্র করতে হত্যা, খুন, গুম, হামলা-মামলা, আইন করে বাক-ব্যক্তি-সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, সরকারের সমালোচনা করলে দেশদ্রোহী মামলা দিয়ে হয়রানী করাসহ নানাভাবে রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে চলেছে। অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ পরিকল্পনায় দেশকে সম্পৃক্ত করতে গোপনে ও প্রকাশ্যে নানা চুক্তি করে ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে চায় সরকার। সাম্রাজ্যবাদীদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। ক্ষমতা বহির্ভূত অন্যান্য দালাল রাজনৈতিক দলগুলো প্রভুদের স্বার্থ রক্ষা করে জনগণের স্বার্থকে আড়াল করে নিছক ক্ষমতার প্রশ্নে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। দেশের বর্তমান অবস্থায় প্রয়োজন সকল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য এবং স্বৈরাচার ও স্বৈরতন্ত্র উচ্ছেদে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের সমস্যা-সংকট নিয়ে লাগাতার আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here