মিঠুন দত্ত :যশোরের অভয়নগর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের টার্গেট নিয়েছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তদর। সে মোতাবেক কৃষকদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করে ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৮০ ভাগ জমিতে বোরো ধান রোপন সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট জমি থেকে সরিষা উত্তোলন করে ধান রোপনের জন্য জমি প্রস্ততু করছে কৃষকরা এমনটি জানিয়ে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর । দাবি করেছে চলতি মৌসুমে বোরো চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১১হাজার ৩শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপন সম্পন্ন হয়েছে। এবং এখনও অনেক জমিতে সরিষা উত্তোলন শেষে বোরো ধান চাষের জন্য প্রস্ততুত করা হয়েছে। সে হিসেবে চলতি বছরে এ উপজেলায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র জানায়, গত বছর বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো ধানের চাষ হয় ১২ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮শ’ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অধিক পরিমাণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ।
এ প্রসংগে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মোছাঃ লাভলী খাতুন দাবি করেন, সরকারের নানামুখি পদক্ষেপ, বিভিন্ন পর্যায়ে ভর্তুকি চালু, পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, কৃষি অফিসের তদারকি, সার ও বীজ মনিটরিং যথাযথ হওয়ায় এবং ধানের বর্তমান বাজার মূল্য বেশি থাকায় কৃষকরা ধান চাষে অধিক মনোযোগি হয়েছে। এক প্রশ্নে সদ্য যোগদানকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে কোন কৃষক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারা অবহেলিত হলে বা সুষ্ঠু সমাধান না পেলে সরাসরি আমার অফিসের দরজা কৃষকদের জন্য খোলা থাকবে।
এদিকে কৃষকদের দাবি চলতি বোরো মৌসুমে ধান চাষ করতে তাদের ত্রাহী অবস্থা দেখা দিয়েছে। একদিকে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের সেচ খরচ দ্বিগুন হয়েছে। তাছাড়া বীজ, সার, কিটনাশক, মজুরীসহ সকল কিছুর মূল্যই উর্দ্ধমুখি। সেই সাথে বিদ্যুতের লোডশেডিং তো রয়েছেই। ফলে চলতি বোরো মৌসুমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিয়ে কৃষক উৎকন্ঠায় রয়েছে।
এ ব্যাপারে ধোপাদী গ্রামের ধানচাষী মনিরুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। ধানের চারা, সার, কিটনাশক, মজুরীসহ বিঘা প্রতি একজন কৃষকের ২২ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা খরচ হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে এবং ফলন ভালো হলে কৃষক টিকে থাকবে। অন্যথায় কৃষককে চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এ জন্য তিনি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্র্মকর্তাদেও মাঠ পর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধির দাবি জানান।















