দশমিনায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে হামলায় আহত-১

0
295

দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা : পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৫নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য রিপন কর্মকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে সাধারন জনগন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। গত সোমবার উপজেলা পরিষদের সামনে দূস্থ অসহায় নারী ও পুরুষ এই মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ইউপি সদস্যের অনুসারীদের হামলায় আঃ রহিম নামের একজন আহত হয়। আহত আঃ রহিম গত ১ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে ইউপি সদস্য রিপন কর্মকারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির বিচার দাবী করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
জানা যায়, দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিপন কর্মকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সোমবার উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধনের প্রস্তুতিকালে ইউপি সদস্যের অনুসারীরা হামলা করে। পরে জোরপূর্বক মানববন্ধনের ব্যানার টেনে হিচরে নিয়ে যায় এবং মানববন্ধন বাধাগ্রস্থ করার জন্য হামলা করা হয়। হামলায় আঃ রহিম নামের একজন গুরুতর আহত হয়। আহত আঃ রহিম গত ১ ফেব্রুয়ারি ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির বিচার দাবী করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। মানববন্ধনের ব্যানারে উল্লেখ করেন, “দশমিনায় গ্রামীণ নারীদের চরম দরিদ্র অবস্থা থেকে উত্তোরণে সরকার সহায়তা দান কর্মসূচির আওতায় ‘ভিডব্লিউবি’ তালিকায় অসচ্ছল, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারীদের মাসে ৩০ কেজি চাল প্রদান কর্মসূচিতে উকিল, সাংবাদিক, চালের ডিলার, স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও নিজের নাম সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে। এছাড়াও দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও সমকাল পত্রিকার সরকারি সাংবাদিক দাবী করা রিপন কুমার কর্মকার’র বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল”। ইতিপূর্বে গত ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আঃ রহিম ও সাবেক মেম্বার মো. বজলুর রহমান পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং অভিযোগের অনুলিপি দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকের কাছে প্রেরন করেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক রিপন কুমার কর্মকার ভিডব্লিউবি তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। এই বিষয় তার সাথে সাধারন মানুষ কথা বলতে চাইলে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন। তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে পুলিশ প্রশাসনের লোক ব্যবহার করে ক্ষতি করবেন। লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, সরকারি সাংবাদিকের পরিচয় ব্যবহার করে রিপন কুমার কর্মকার এলাকায় এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাড়িয়েছে। সে নিজেকে প্রভাবশালী সাংবাদিক দাবী করে এলাকায় দাবিয়ে বেড়ানোর ঘটনা ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য ছাড়াও বহু স্বাক্ষী প্রমান রয়েছে। যার প্রমান গোপনে বা ওপেন তদন্ত করলেই পাওয়া যাবে। উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৮৭২ টি ভিডব্লিউবি নাম ইউনিয়ন পরিষদের চুড়ান্ত তালিকা অনুমোদনের জন্য উপজেলায় পাঠালে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র ফুটে আসে। ঐ তালিকায় উকিল, সাংবাদিক, জুয়েলারী (স্বর্ণ) ব্যবসায়ী এবং চালের ডিলারসহ প্রভাবশালী ও অধিকাংশ ধনী পরিবারের নাম অন্তর্ভূক্তি করা হয়। এতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃত অসচ্ছল এবং দুঃস্থ নারীরা। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুমোদন আটকে দিয়ে বিষয়টি অধিকতর তদন্ত শুরু করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here