প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে আশ্রয়হীনদের জীবন

0
183

এইচ এম জুয়েল রানা স্টাফ রিপোর্টারঃ আশ্রয়ণ প্রকল্প বদলে দিয়েছে ঘরহীন মানুষের জীবন। এক সময় অতিকষ্টে পরিবারের সদস্যদের পেটের ভাত জোগাড় করতে পারলেও ঘুমানোর কষ্ট লাঘব করতে পারেনি আশ্রয়হীন মানুষগুলো। অন্যের বাড়িতে আশ্রিত জীবন কেটেছে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে। জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তাদের দুর্দশার দিকে তাকায়নি কেউ। কখনও ‘নিজের একটি ঘরের’ স্বপ্ন দেখেননি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের নতুন ঘর পেয়েছেন। সেই সঙ্গে দুই শতক জমির মালিকও হয়েছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে জীবন বদলে যাচ্ছে তাদের। চোখে মুখে স্বপ্ন! সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে হাতের কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি ফলিয়ে এবং হাঁস-মুরগিসহ গবাদি পশু পালন করে সংসারে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন স্বচ্ছলতা সেই সাথে সন্তানদের পাঠাচ্ছেন স্কুলে।
সরেজমিনে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হাকোবা ও মাসনা বেগমপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়,সারিবদ্ধ সবুজ রঙের টিনের সেমিপাকা ঘরগুলো এলাকাকে সুন্দর করে তুলেছে। দৃষ্টিনন্দন এসব ঘরগুলোর চালের ওপর ও পাশ দিয়ে শাক-সবজি চাষের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আঙিনায় লাগানো হয়েছে ফুল ও ফলের গাছ। সময়ের সাথে এখন বদলেছে ছিন্নমূল মানুষের কষ্টের জীবন। কেউ করছে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, কেউ দর্জির কাজ করছেন, কেউ চায়ের দোকান, কেউবা আবার টায়য়ার টিউবের কাজ করছেন । বসতির দুশ্চিন্তা ছেড়ে নিশ্চিন্তা মনে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে সংসার। সংসারে এসেছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। বসবাসের জন্য সরকারের দেওয়া এই সুবিধাটি পেয়ে খুশি আশ্রয়হীন মানুষগুলো।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা অনেকের একাডেমিক শিক্ষা না থাকলেও নানা প্রশিক্ষণে তারা হয়ে উঠছে স্বশিক্ষিত। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত তদারকিতে ক্রমেই সময়ের সাথে সাথে উন্নয়নের নানা দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শিউলী বেগম, বলেন, এক সময় খুব কষ্টে দিনপার করছিলাম।উপহারের ঘর পেয়ে অনেক খুশি। ঘরে সেলাই মেশিন দিয়ে কাঁথা সেলায়ের কাজ করি। এক একটি কাঁথা সেলাই করে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পায় এখন খুব ভালো আছি।
মতিয়ার রহমান বলেন, উপহারের ঘরে শান্তিতে বসবাস করছি। ঘরের চার পাশে শিম, বেগুন কলাগাছ, আমগাছ, লেবুগাছ, পেঁয়ারাগাছ, পেঁপেগাছ, মাল্টাগাছ সহ নানা সবজির চাষ করেছি। পাশাপাশি কৃষি কাজ করছি।
আতিয়ার রহমান বলেন, উপহারের ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। ঘরের ভিতর কবুতর পালন করছি ও ঘরের চার পাশেই বিভিন্ন প্রকার ঔষধি গাছ লাগিয়ে কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে থাকি।
রুপালী বেগম বলেন, সরকার আমাকে একটি ঘর দিয়েছে, সেখানে বসবাস করছি।ওই ঘরে থেকে হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল পালন করে যা রোজগার হয় তা দিয়ে ভালোই চলছে সংসার। এখন আর মানুষের কথা শুনতে হয় না।
মণিরামপুর পৌরসাভার হাকোবা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন,আগে ভাঙ্গাচুরা ঘরে দূর অবস্থায় ছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে শান্তিতে বসবাস করছি।
বদলে যাওয়া আশ্রয়হীন ঊর্মি বেগম, রিক্তা খাতুন, তাসলিমা বেগম, সজীব কুমার দাস, মতিয়ার রহমানসহ আরো অনেকেই বলেন, ‘কিছু দিন আগেও ভাবিনী নিজের ভাল একটা বসবাসের ঠিকানা হবে, এখন সেটিও হয়েছে। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারছি, নিজের হাঁস-মুরগি, ছাগল পালনসহ নানা কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, সত্যই এটা স্বপ্নের। এমনটি হবে ভাবিনি, সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here