মুরাদ হোসেন, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে : মাগুরার মহম্মদপুরে যেখানে সেখানে হাট বাজার গড়ে ওঠা এবং অপরিকল্পিতভাবে রাস্তার উপর দিয়ে দোকানপাট বিছিয়ে ব্যবসায়ীরা বেচাকেনা করে থাকেন। এতে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচলে চরম দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়। উপজেলার আট ইউনিয়নে ৩২টি ইজারাভুক্ত অনুমোদিত হাট বাজার রয়েছে। এছাড়াও মেইন সড়ক, উপজেলার আঞ্চলিক সড়কসহ গ্রামাঞ্চলেও রয়েছে অনুমোদন বিহীন একাধিক হাট এবং বাজার। যা দূভোগ ও দূর্ঘটনার কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
হাট বাজার স্থাপন ও ব্যবস্থাপনার বিধিমালা থাকলেও তার তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মেইন সড়কসহ আঞ্চলিক সড়কে ও গ্রামাঞ্চলের মোড়ে মোড়ে প্রতিনিয়ত বসে বাজার। আবার সপ্তাহে সাত দিনের প্রতিদিনই উপজেলার কোথাও না কোথাও হাটের দিন ধার্য করা রয়েছে। এসব হাট ও বাজারে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠা ও রাস্তার ধারে বিক্রেতারা পণ্য সামগ্রী নিয়ে বেচাকেনা করায় দূর্ভোগে পড়তে হয় যানবাহনসহ পথচারিদের। কখনো কখনো আবার সড়কে যানবাহন জমে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং এটাই প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার কারণ বলে মনে করেন সচেতন মহল।
উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, মহম্মদপুর উপজেলায় বাবুখালী ৬টি, বিনাদপুর ৭টি, দীঘা ৩টি, রাজাপুর ৩টি, বালিদিয়া ৩টি, মহম্মদপুর ৪টি, পলাশবাড়ীয়া ৩টি ও নহাটা ইউনিয়নে ৩টিসহ মোট ৩২টি অনুমোদিত হাট বাজার রয়েছে। ইজারাভুক্ত হাট বাজারগুলো হচ্ছে- চুড়ারগাতী, ডুমুরশিয়া, মাধবপুর, ঠাকুর হাট, বাবুখালী, হাটবাড়িয়া, বিনোদপুর হাট, বিনোদপুর বাজার, বেথুলিয়া, কানুটিয়া,খালিয়া, চৌবাড়িয়া, ঘুল্লিয়া, নাগড়া, চিত্তবিশ্রাম, শিরগ্রাম, রাজাপুর, রাড়িখালী, কলমধারী, বালিদিয়া হাট ও বাজার, গোপিনাথপুর, হরেকৃষ্ণপুর, মহম্মদপুর হাট, মহম্মদপুর বাজার, ধোয়াইল, বসুরধুলজুড়ী, পলাশবাড়ীয়া, ঝামা, বনগ্রাম, নহাটা হাট, নহাটা বাজার এবং খলিশাখালী হাট।
এছাড়াও গাজিরমোড়, মান্দারবাড়িয়া, ফুলবাড়ি, রাহাদপুর, বড়রিয়া, সিন্দাইন ও মেইন সড়কে আওনাড়া বাজারসহ উপজেলার গ্রামাঞ্চলে এ রকম বেশকিছু আনুমোদন বিহীন হাট বাজার রয়েছে।
আইন: সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোথাও হাট-বাজার স্থাপন করা যাবে না- এমন বিধান রেখে ‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন রয়েছে। খসড়া এই আইনে বলা হয়েছে কেউ সরকারি খাস জমিতে হাট-বাজার স্থাপন করলে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড বা অর্থ জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এটা ১৯৫৯ এর একটা অর্ডিন্যান্স ছিল। এটাকে যুগোপযোগী করে আইন বানানো হয়েছে। এখানে প্রায় ২৬টি ধারা রয়েছে। এই আইনের বিধান ছাড়া কোথাও কোনো হাট-বাজার বানানো যাবে না। হাট-বাজার যদি বানানো হয় তাহলে সরকার খাস জমি হিসেবে নিয়ে নেবে। ‘সরকার গেজেট দিয়ে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনের অধীনে তিপূরণ প্রদানের পর অথবা প্রযোজ্য েেত্র রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইনের ৯২ ধারা অনুসারে খাস ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত তারিখ থেকে যে কোনো হাট ও বাজার দখল করতে পারবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল জানান, মহম্মদপুর উপজেলায় অনুমোদিত ৩২টি হাট ও বাজার রয়েছে। যা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। তবে এর বাইরে যদি কোনো হাট বা বাজার বসে তাহলে বিধি বিধান মেনে এবং সে অনুযায়ী হাট বাজারের আওতায় আনা হবে।















