মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : যশোর শহরের গাড়িখানা। যেখানে পথযাত্রা যায় থমকে। আর এ ঘটনা হররোজ হরটাইম হচ্ছেই। প্রশাসনিক সদস্যদের আন্তরিকতা সর্ত্তেও কোন ফায়দা হচ্ছে না। যানজট এখন গাড়িখানায় নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। এযেন রাজধানী ঢাকা। যানজটের গম্ভীর উদাহরন।
গাড়িখানার ব্যবসায়িরা জানালেন, ১টি তেলপাম্প, রাজনৈতিক অফিস, হোটেল জাভির ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল ম্যাগপাই, খাওয়ার হোটেল, ইলেকট্রোনিক ব্যবসা, অষুধের ব্যবসা, বই খাতার ব্যবসা, ফুলের ব্যবসা, বাস পরিবহন অফিস, ইন্স্যুরেন্স অফিস, পুলিশ প্লাজা বাজার, সদর ভাইস চেয়ারম্যানের অফিস, ফুচকা, নুডলস, চটপটি খাওয়ার বিনোদন, একটি শ্রমিক ইউনিয়ন মূলত: এসব কারনে এখানে অলটাইম মানুষজন ২৪ ঘন্টা ব্যবহার করে গাড়িখানা এলাকা। তাছাড়া মাইকপট্টি, হোটেল হাসান, হোটেল আর এস, বিদ্যুৎ অফিস, গনপূর্ত অফিসে যাতায়াতের লিংক রোড গাড়িখানা। যানজটের এটিও একটি কারন। শহরের ব্যস্ততম কয়েকটি স্পট গাড়িখানার সাথে সংযুক্ত। এটিও যানজটের বড় একটি কারন।
ইজিবাইক, অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রো কেউ আইন মানতে আগ্রহী নয়, এটাও গাড়িখানায় যানজটের বড় একটি কারন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বললেন, পাবলিক যারা পথচারি তারা আইন মানতে ইচ্ছুক নয়। তাছাড়া প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি সর্ত্তেও ইজিবাইক রিক্সা, প্রাইভেট কার, মাইক্রো বা মোটর সাইকেল ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে রাখা হচ্ছে গাড়িখানায় এ কারনে যানজট প্রশাসন আন্তরিকতা থাকা পরেও কন্ট্রোল করতে পারছে না।
গাড়িখানা সংযুক্ত এলাকার ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী নেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, যশোরের চারিদিক থেকে একযোগে গাড়িখানায় ছোট যানবাহন প্রবেশ করে। এটি কিভাবে পুলিশ নিয়ন্ত্রন করবে। শুধু যাতায়াতের জন্যও যান জট সৃস্টি হয়। কেননা কালেক্টরেট ভবনের দুই পাশ দিয়ে, বড় বাজার দিয়ে, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ অগনিত ক্লিনিকে আসা লোকজন একসাথে দড়াটানায় শুধু আসতেই থাকে। এর প্রভাবে গাড়িখানায় যানজট হয়। তাছাড়া গাড়িখানায় প্রবেশের আরো কয়েকটি লিংক রোড রয়েছে। মূলত: এসব কারনে যানজট মুক্ত গাড়িখানা যা নাগরিক কাম্য তা মিলছে না।
দায়িত্বরত একজন ট্রাফিক সদস্য বললেন, আমরা গাড়িখানা যানজট মুক্ত রাখতে শীতকালে ঘেমে একাকার হয়েছি। এখন কিছু কন্ট্রোল রয়েছে। তারপরেও যানজট কমানো যাচ্ছেনা। ২৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার কয়েক দফা সরেজমিনে চিত্রামোড়ে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট, পুলিশ কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ অন্তত: ১০ জনকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এর মধ্যেই তারা একদিক থেকে সরে আরেক দিকে গেলেই ইজিবাইক এসে জড়ো হচ্ছে। কেউ বলছে মনিহার, কেউ বলছে চাঁচড়া চেকপোষ্ট। ব্যাস্ যানজট সৃস্টি হচ্ছে গাড়িখানায়। আবার হাতের লাঠি দিয়ে বাড়ি ধড়ি দিয়ে এলাকা সাময়িক যানজট মুক্ত হচ্ছে।
যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামাল আহম্মেদ বলেন, মানুষজন সচেতন না হলে আসলে যানজট এড়ানো যাবেনা। কেউ আইন মানতে চায়না। পৌর কতৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন প্রতিদিন যানজট নিরসনে নানাবিধ ভূমিকা রাখছে কিন্ত তাতে কিছুটা পরিস্থিতির উন্নয়ন হচ্ছে। একেবারে যানজট মুক্ত করা যাচ্ছেনা। শীঘ্রই পৌরসভা তাদের যানজট মুক্ত অভিযান শুরু করবে। তা শুরু করা না গেলে যানজট কমার সম্ভাবনা নেই।















