স্টাফ রিপোর্টার : আজ ০৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আর এই নারী দিবসে আমাদের যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় মেয়ে অদম্য তামান্না আক্তার নূরার জীবনের গল্প আপনাদের জানা দরকার। সে পড়াশোনায় অনেক ভালো। মেধাবী তামান্নার প্রবল ইচ্ছাশক্তি তাকে আরো বহুদূর নিয়ে যাবে বলে এমন প্রত্যাশা তার পিতা-মাতার। জন্ম থেকেই দু’টি হাত আর একটি পা নেই তামান্না আক্তার নূরার। এক পা দিয়ে লিখে পিইসি ও জেএসসি’র এসএসসি পরীক্ষাতেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-ফাইভ পেয়েছে এই অদম্য কিশোরী। স্বাবলম্বী হয়ে সেবা করতে চান সাধারণ মানুষের।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া আলীপুরের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান হল তামান্না নূরা। জন্ম থেকেই দুটি হাত ও ডান পা নেই। লেখাপড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহে ছয় বছর বয়সে মায়ের কাছে পায়ের ভেতর কাঠি ও কলম দিয়ে লেখার হাতে করি শুরু হয়। মাত্র দু’মাসের মধ্যে পা দিয়ে লেখা ও ছবি আঁকা রপ্ত করে ফেলে। তাই টিউশনি করে সংসার চালালেও তার বাবা তামান্নাকে ভর্তি করে দেন স্কুলে। হুইল চেয়ারে করে প্রতিদিন স্কুলে আনা-নেয়া করেন নিজেই। এতো প্রতিবন্ধকতার মাঝেও বাবা মার কষ্টের প্রতিদান দিয়েছে তামান্না। এক পা দিয়ে লিখে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি, এসএসসি এবং সবশেষ এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বর্তমানে স্নাতক সম্মানের জন্য ইংরেজী বিভাগে অধ্যায়নরত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি)। ধারাবাহিক এ সাফল্যে খুশি তামান্না, তার গর্বিত পিতা-মাতা ও সহপাঠীরা।
তামান্না নূরা বলেন, একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতো আমিও স্বাবলম্বী হবো । আমি আমার পিতা-মাতা ও এলাকাবাসীর সম্মান উজ্জল করবো ইনশাল্লাহ।
তামান্নার পিতা রওশন আলী বলেন, মেয়েকে বার বার বলি শিক্ষার উদ্দেশ্য চাকরী করা না, শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান অর্জন করা। শত কষ্টের মধ্যেও মেয়ের সাফল্যে আমি সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যাই। আপনারা যদি আমার মেয়েকে নিজের সন্তান মনে করে এগিয়ে আসে তাহলে তামান্না অনেক দূর এগিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।















