খাজা গরীব এনেওয়াজ বালিকা সনদ এতিমখানার শিশুদের নিয়ে সময়ের আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

0
195

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : শিশু আমেনা বয়স মাত্র ৩বছর এরই মধ্যে বঞ্চিত হয়েছে পিতার ছায়া থেকে,সুমাইয়া বয়স ৪বছর বাবাকে দেখেনি, ৫বছরের ফুটফুটে শিশু তানিশা সেও পৃথিবীতে এতিম। শেখহাটির ইরিন বাবা মাকে হারিয়ে ছিলোনা কোন আশ্রয়। সাতমাইলের মাছুরা মা বাবাকে হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। লেখাপড়া তো দুরের কথা দু’বেলা দু মুঠো ভাত তার জুটতোনা। স্নেহের হাত মাথায় রাখার মত পৃথিবীতে কেউ ছিলোনা। এরা সবাই আজ ঠিকানা খুজে পেয়েছে যশোর সদর উপজেলার আলমনগর খাজা গরীব এনেওয়াজ বালিকা সনদ এতিমখানায়। শুধু এরা পাঁচজন না এরকম ৩বছর বয়স থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী পর্যন্ত ৬৫জন শিশুকে মাতৃত্তের স্নেহ দিয়ে আগলে রেখেছেন মিসেস মঞ্জুয়ারা বেগম। তাদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি এতিম খানার আশেপাশের বিভিন্ন স্কুলে পড়িয়ে মানুষের মত মানুষ করে তুলছেন। সিলেটের ফারজানার বাবা নেই, মা খোজখবর রাখেনা এতিম খানায় থেকে পড়াশুনা করছে। গোপালগঞ্জের মাহিনী আন্দাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ে। আছে এতিমখানায়, একই জেলার ডলি অষ্টম শ্রেণীতে একই স্কুলে পড়ে, থাকে এতিম খানায়। খুলনার মাছুমার বাবা নেই, এতিম খানায় তিন বছর ধরে অবস্থান করছে। আন্দাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীতে পড়ালেখা করছে। এছাড়া ঢাকার রিমু,সাতক্ষীরার আকলিমা, শ্যামনগরের আশুরা মা বাবা বলতে জানে মিসেস মঞ্জুয়ারা বেগমকে। বাড়ির ঠিকানা ভুলে আজ তাদের ঠিকানা খাজা গরীব এনেওয়াজ বালিকা সনদ এতিমখানা। এতিম খানার শিশুরা মঞ্জুয়ারা বেগমকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে। মিসেস মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ১৯৯৩ সালে এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত করেছি। প্রথমের দিকে আধা কেজি চাউল লাগতো। আজ চব্বিশ ঘন্টায় লাগে ২০কেজি চাউল। তিনি বলেন এপর্যন্ত ৩৪জনকে উপযুক্ত শিক্ষিত করে তাদের বিয়ে দিয়েছি। এছাড়া ১৬জনকে বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরীর ব্যবস্থা করেছি। বর্তমান এতিমখানায় আছে ৬৫জন মেয়ে। এদেরকে এতিমখানায় লেখাপড়া করানোর জন্য দুইজন শিক্ষিকাকে রাখা হয়েছে। এছাড়া দর্জি প্রশিক্ষণ দিতে একজন প্রশিক্ষক আছে। আবার এসব শিশুদের রান্নার জন্য একজন রাধূনী রাখা হয়েছে। সেইসাথে এতিমখানার কাজকর্ম দেখাশুনা করার জন্য মিকাইল হোসেন নামে একজন সাহায্য কারি আছে। মঞ্জুয়ারা বেগম বলেন সরকারি যে অনুদান পেয়ে থাকি তা দিয়ে মাসের অর্ধেক সময়ও চলে না। বাকি সময়টুকু সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতা নিয়ে চলতে হয়। মঞ্জুয়ারা বেগম শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো আরো প্রসার করতে এতিমখানার পাশের জমিতে একটি স্কুল করতে উচ্ছুক। এরই মাঝে তিনি যশোর শিক্ষাবোর্ডে ছোটাছুটি শুরু করেছেন। দৈনিক সময়ের আলোর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ব্যতিক্রম আয়োজনে উদযাপন করতে আজ এতিমখানার শিশুদের নিয়ে কেক কাটা হয়। তারা আজ কেক কেটে খাবে এমন সংবাদে শিশুদের মাঝে ছিল আনন্দের বন্যা। কেক কাটা পর্ব শেষে শিশুদের মাঝে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। এসময় শিশুরা পত্রিকাটির মঙ্গল কামনায় দোয়া করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here