দোগাছিয়া আহসাননগর আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষ জামায়াত করায় সরকার দলীয় এমপি দিয়ে নব-নির্মিত ভবন উদ্ধোধন করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পরিচালনা কমিটিকে

0
270

চুড়ামনকাটি(যশোর)প্রতিনিধি ॥ যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির দোগাছিয়া আহসাননগর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে বিস্তার অভিযোগ উঠেছে।নিজে জামায়াতী ইসলামের রাজনীতি করায় মাদ্রাসায় নব-নির্মিত চারতলা বিশিষ্ঠ্য ভবনটি সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিয়ে উদ্ধোধন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্যদের।এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্যরাসহ এলাকাবাসীর মাঝে চরম অসন্তেষ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়,২০২১ সালে উক্ত মাদ্রাসায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর(ইইডি)যশোরের উদ্দ্যেগে তিন কোটি চুরাআশি লক্ষ টাকা ব্যয়ে চার তলা বিশিষ্ট্য একটি নতুন ভবন নির্মানের কাজ শুরু করেন।দীর্ঘ দুই বছর কাজ করার পর চলতি বছরের ফ্রেরুয়ারী মাসে নতুন ভবন বুঝে দিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি।এলাকাবাসীর অভিযোগ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কাজ দেখাশোনার জন্য নামমাত্র পরিচালনা কমিটি গঠন করেন।এছাড়া কাজ চলাকালীন সময়ে কাজ গুলো সঠিক দেখাশুনা করেনি তিনি।মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটিকে না জানিয়ে তিনি নতুন ভবনটি গোপনে বুঝে নিয়েছেন একাই।যা নিয়ে রীতিমত এলাকায় ব্যাপক চ্যাঞ্জেলের সৃষ্টি হয়েছে।
মাদ্রাসার সভাপতি মতিয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান,যেহেতু মাদ্রাসার নতুন ভবনটি যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহম্মেদের সহযোগীয় পাই আমরা।তাই আমাদের পরিচালনা কমিটিসহ এলাকাবাসীর ইচ্ছা ছিলো এমপি মহোদয়কে দিয়েই উদ্ধোধন করা হবে।এ বিষয়ে বারবার অধ্যক্ষকে বললেও তিনি কর্নপাত করেনি।
সভাপতি আরো বলেন,গোপনে আমাকে না জানিয়ে অধ্যক্ষ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে নব-নির্মিত ভবনটি বুঝে নেন।যার নিয়ম উক্ত বুঝে নেওয়ার কাগজে সভাপতি ও অক্ষ্যকের স্বাক্ষার থাকতে হবে।বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষোভ দেখা দেয় এলাকাবাসীর মধ্যে।
সভাপতি আরো অভিযোগ করে বলেন,ভবনটি বুঝে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কারোর নিকট কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নয়।এ সময় এমপি মহোদয়কে দিয়ে উদ্ধোধনের কথা বললে অধ্যক্ষ তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন।আমাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সরকার দলীয় কোনো এমপিকে দিয়ে তিনি নতুন ভবনটি উদ্ধোধন করবেন না।তার এহেন কর্মকান্ডে আমি রীতিমত হতবাক হয়েছি।
মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য সাহেব আলী জানান,মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম কমিটির সদস্যদের না জানিয়েই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে গোপনে ভবনটি একাই বুঝে নেন।তিনি আরো বলেন,নিয়মনীতি মেনে অধ্যক্ষ ভবন নির্মানের দেখাশুনা কমিটিও তৈরি করেনি।সর্ম্পূন নিজের ইচ্ছামত করেছেন তিনি।যা নিয়ে রীতিমত এলাকাবাসী অধ্যক্ষের কর্মকান্ডে বিস্মিত।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে,মাদ্রসার অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম চৌগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর গুরুত্বপূর্ন একটি পদে আছেন।তিনি বিগত পরপর দুটো ইউপি নির্বাচনে চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়ন থেকে জামায়াতী ইসলামীর পক্ষে নৌকার বিপক্ষে ইউপি নির্বাচন করেন।অভিযোগ রয়েছে তিনি মাদ্রাসায় তার অফিস রুমে বসে দলীয় কর্মকান্ড করে থাকেন। চুড়ামনকাটি ইউপি চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন,উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী প্রায় আমাকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করছেন।তার কর্মকান্ডে এলাকাবাসী দারুন ক্ষুদ্ধ।তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে যশোর জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানাতে পরামর্শ দিয়েছেন মাদ্রাসার সভাপতিকে।
এ সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম উল্টো অভিযোগ করে বলেন,বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ভিতর দুটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।মূলত তাদের দ্বন্দের কারণে উদ্ধোধন করা সম্ভব হচ্ছেনা।তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here