কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে মণিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

0
167

এইচ এম জুয়েল রানা, স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের মণিরামপুরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর, এখন আর দেখা যায়না। মাটির দেয়াল, ওপরে টালী বা খড়ের চাল। সামনে বড় ওঠান। চারপাশে গাছ-গাছালিতে ভরপুর। এক সময় এমন মনোরম দৃশ্য চোখে পড়তো মণিরামপুর উপজেলার গ্রামগুলোতে । এখন আর চোখে পড়ে না মাটির ঘর, হারিয়ে গেছে চিরচেনা সেই মনোরম দৃশ্য। ঐতিহ্যের এই স্থাপনাটি এখন পেয়েছে হারিয়ে যাওয়ার খাতার পাতায়। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। মণিরামপুর উপজেলার প্রতিটি এলাকায় প্রত্যেক বাড়িতে একটি করে হলেও মাটির ঘর, মাটির ধানের গোলা চোখে পড়তো। প্রায় প্রতিটি গ্রামেরই ছোট সুন্দর মাটির ঘরগুলো ও ঘরের পরিবেশ সবার নজর কাড়তো। ছোট ছোট মাটির ঘরগুলোর কারণে প্রতিটি গ্রামকে স্বর্গরাজ্য মনে হতো। ঝড়, বৃষ্টি থেকে বাচার পাশাপাশি তীব্র গরম ও শীত থেকে বাাঁচতেও এই ঘরের জুড়ি মেলা ছিলোনা। কিন্তু কালের আবর্তনে দালানকোঠা আর অট্টালিকার কাছে হার মানছে এই ঐতিহ্যবাহী চিরচেনা মাটির ঘর। বর্তমান প্রজম্মের ধণী কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্য বহনকারী মাটির ঘরভেঙ্গে রড সিমেন্টে বিলাসবহুল বাড়ি বানানোর দিকে ক্রমাগত ঝুকেই চলেছেন। ততোটা সামর্থ্য না থাকলে টিনের বেড়া আর টিনের চালা দিয়েও বানানো হচ্ছে ঝকঝকে সুন্দর ঘরবাড়ি। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ মাটির ঘরে বসবাস করে আসছে। মাটির সহজলভ্যতা, প্রয়োজনীয় উপকরণ আর শ্রমিক খরচ কম হওয়ায় আগের দিনে মানুষ মাটির ঘর বানাতে বেশ আগ্রহী ছিল। এঁটেল বা আঠালো মাটি কাদায় পারনত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হতো। ১০-১২ ফুট উঁচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড় অথবা টিনের ছাউনি দেওয়া হতো। এসব মটির ঘর তৈরি করতে কারিগরদের সময় লাগতো দেড় থেকে দুমাস। সৌখিন গৃহিণীরা মাটির দেয়ালে খাটুনি দিয়ে বিভিন্ন রকমের আল্পনা এঁকে তাদের নিজ বসত ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন। মাটির তৈরি এসব ঘর এখন আর চোখে না পড়লেও এটা মানতে হবে যে, এই ঘরগুলো শীত বা গরমে থাকার জন্য বেশ আরামদায়ক ছিলো। মাটির ঘরে শীতের দিনে ঘর থাকে উষ্ণ আর গরমের দিনে শীতল। তাই মাটির ঘরকে গরিবের এসিও বলা হয়ে থাকে। তবে এখন আর তেমন চোখে পড়ে না গ্রামীন এই ঐতিহ্য। কারিগররাও এখন এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কথা হয় যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দত্তকোনা গ্রামের মাটির ঘরের কারিগর বজলু রহমান এর সাথে। এক সময় মাটির ঘরের প্রচুর চাহিদা ছিল। বছরে ১০-১৫ঘরের কাজ পেতেন। কিন্তু এখন আর আগের মতো মাটির ঘরের চাহিদা নেই। তাই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর মাটির ঘরের প্রতি মানুষের কোন চাহিদা না থাকায় মাটির ঘর আর তৈরি করতে দেখা যায় না। ঠিক তেমনি আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে মণিরমাপুরের ঐতিহ্যবাহী সব মাটির ঘর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here