মোন্তাজ আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: মণিরামপুরে হুরগাতী গ্রামকে বলা হয় বেগুনের গ্রাম। বর্তমান বেগুন চাষে অনেক বেশি লাভ জনক ফসল। তাই বছর যতো পার হচ্ছে ততো উপজেলা প্রায় সব গ্রামের কৃষকরা বেগুন চাষের দিকে বেশি ঝুকে পড়ছে। রমজান মাসে বাজারে বেগুনের ব্যাপক দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে কৃষক এবছর বিজয় খুশি। হুরগাতী গ্রামের নারী-পুরুষ ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেগুন ক্ষেত পরিচর্যা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। মণিরামপুরে বেগুন বর্তমান যশোর, খুলনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরের চাহিদা পুরণ করে বিদেশেও বেগুন রপ্তানী হচ্ছে। এ বছর আকাশ বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ পাম দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে বেশি। বর্তমান বাজারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি। আর বেগুন চাষিরা গ্রামের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকিতে কিনে জমিতে প্রযোগ করে। ব্যবসায়ীরা নিন্মমানের কীটনাশক গুদামজাত করে বেগুন চাষিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আর নিরুপয় হয়ে কৃষকরা ওই সব নিন্মমানের কীটনাশক বাকিতে কিনে অন্ধ বিশ্বাসে বেগুন ক্ষেতে প্রযোগ করছে। এবছর বেগুনের দাম অনেক বেশি হওয়ার কারণে কৃষক বুক ভরা আশা নিয়ে নিরালস ভাবে কাজ করে চলেছে। বর্তমান ৪০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মতো খরচ হয়েছে গাছে বেগুন আশা পর্যন্ত। বর্তমান বেগুন গাছে রোগ বলায় কম হওযায় সপ্তায় ২/৩ দিন বেগুন তুলতে হয়। বুধবার হুরগাতি মাঠে গেলে দেখা যায় নারী-পুরুষসহ পরিবারের সবাই মিলে কেউ বেগুন গাছ থেকে তুলছে। আর কেউ বস্তায় ও ঝুড়িতে করে রাস্তায় এনে পানির মধ্যে দিয়ে ধুয়ে পোকা বেগুন এক দিকে ভাল বেগুন আর একদিকে আলাদা করছে। প্রতিদিন সকাল বিকাল হুরগাতী মাঠে বেগুন তুলার ধুম পড়ে। আর মাঠে গেলে বেগুন গাছ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কৃষকরা বেগুন গাছে প্রচন্ড কীটনাশক ছিটানোর কারণে বিষের গন্ধ প্রচন্ড। বেগুন চাষি আতিয়ার রহমান জানায়, আমি ৬০ শতক জমিতে বেগুন চাষ করেছি। আমার বেগুন চাষ করতে খরচ হয়েছে ১লক্ষ টাকা মত। আমি এপর্যন্ত বিক্রি করেছি ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তিনি আরো জানায় ২ রোজা দিন মনিরামপুর বাজারে পাইকারী বিক্রি করে ছিলাম প্রতি কেজি ৫০ টাকা। বর্তমান পাইকারী কেজি প্রতি ২৮ থেকে ৩২ টাকা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এবছর আমার সব খরচ বাদ দিয়ে দেড় লক্ষ টাকা লাভ হবে বলে আশা করি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতু রাজ সরকার জানান, এবছর উপজেলায় বেগুন চাষ হয়েছে ১৭৭ হেক্টর জমিতে। আমার সব সময় কৃষকদের পাশে আছি। কৃষকদের মাঠে ফসলের জমিতে গিয়ে তাদের ফসল ভাল হয় সে পরামর্শ দিয়ে থাকি। যে কারণে কৃষক ফসল করে ক্ষতি গ্রস্থ না হয় সে দিকে আমরা সব সময় নজর দারিতে রাখছি।















