যশোরে উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

0
488

জি এম অভি : যশোর শহরে ব্যাঙের ছাতার মত বে সরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠছে। সরকারি নিতিমালার তোয়াক্কা করছেন না প্রভাবশালীরা। ফ্লাট ভাড়া নিয়ে কয়েকজন ওয়ার্ডবয় দুজন চিকিৎসকে প্রাকটিসের সুযোগ করে দিয়ে প্যাথলজিক্যাল পরিক্ষা নিরিক্ষার নামে রোগিদের সর্বস্বান্ত করছে এসব ক্লিনিক মালিকেরা। এসব বিষয়ে যশোরে স্বাস্থ্যবিভাগ কর্তৃক অভিযান পরিচালনা হলেও কয়েকদিন পরে আবার যা তাই হচ্ছে। এই ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নিজস্ব নিয়মনীতি নিয়ে চলছে। অনভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা সাধারণ অপারেশন করতে যেয়ে রোগীর শরীরের গুরুত্বপূর্ন অঙ্গ কাটা পরে ভোগান্তী বা মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত এসব ক্লিনিক আলোচনায় আসে না। গত ২৫ মার্চ এমনি এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে যশোর শহরের উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে। সিজার করতে যেয়ে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু । গত শনিবার ২৫মার্চ সকাল ১০টায় শহরের জেল রোডে অবস্থিত উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে যশোরের রূপদিয়ার চাউলিয়া গেট এলাকার হরিদাস পালের কন্যা সন্ধ্যা রানী (২৪) একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। বাপের বাড়ি যশোরে হওয়ায় তাকে যশোরের জেল রোড ঘোপ এলাকার উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে। তার ৪ বছরের ছেলে পরশ ও স্বামী প্রীতমকে নিয়ে খুলনা নিউ মার্কেট এলাকায় বসবাস করতেন। স্বজনদের অভিযোগ একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কারণে শনিবার ২৫শে মার্চ দিনগত রাত সাড়ে দশটার সময় তার মৃত্যু হয়েছে। সদ্য জন্ম নেয়া কন্যাটি সুস্থ আছে। ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার কারণে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন মৃত্যুর স্বামী ও স্বজনরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর পরিবারের সদস্যদের ম্যনেজ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। হাসপাতাল কতৃপক্ষ সন্ধ্যা রানীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ- ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলার কারণে এধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, এর দ্বায় কে নেবে? সিজার করার পর রোগীর অবস্থা খারাপ হলে, যশোর ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেননি কেন? এছাড়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দায়িত্বরত চিকিৎসক বলেন, ‘আমি রোগীর জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছি’। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ডাক্তার ও নার্সদের এই অবহেলায় মৃত্যুর দ্বায় কে নেবে,নাকি এভাবে চোখের সামনে মৃত্যুকে মেনে নিতে হবে। একটি সদ্য জন্ম নেয়া শিশু হারাচ্ছে তার জন্মদাতা মাকে, একজন স্বামী হারাচ্ছে তার স্ত্রীকে, পিতা মাতা হারাচ্ছে তার সন্তানকে। এভাবে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলের লম্বা লাইন। উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম বলেন, রোগি হিন্দু সম্প্রদায়ের তার মৃতদেহ সৎকারের জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কিছু টাকা দিয়েছেন। কতটাকা দিয়েছেন জানতে চাইলে আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনজন তারা কত দিয়েছেন তা আমার জানা নাই। যশোরের সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস দৈনিক যশোরকে জানান,ঘটনাটি আমরা জেনেছি তবে আমাদের কাছে রোগির লোকজন এখনও অভিযোগ করেননি। সিভিল সার্জন আরও বলেন,আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি তারা দুএকদিনের মধ্যে ওখানে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here