মানবপাচারকারী হুন্ডি ব্যবয়াসী জহিরের ফাঁদে পড়ে অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত

0
146

স্টাফ রিপোর্টার : বহুমুখী প্রতারণা করে খুব অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ১১ নং রাখালগাছি ইউনিয়নের বড়ধোপাদী গ্রামের মৃত ইসমাঈল হোসেন হারুন এর বড় ছেলে জহির উদ্দীন (জহির)। এলাকায় পানি পথের মানবপাচারকারী, হুন্ডি জহির নামে পরিচিত। তার প্রতারণার হাতে খড়ি আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী কোটচাদপুরের কাজলের কাছে। সে সময় হুন্ডির ফাঁদে ফেলে নিকট আত্মীয় ছাড়াও প্রতিবেশীসহ অনেকের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশে টিকতে না পেরে পাড়ি জমায় মালয়েশিয়াতে। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পরে হাতে পেয়ে যায় প্রতারণা করার নতুন নতুন কৌশল। মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে বিভিন্ন প্রবাসী বাঙালীকে পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট করে দেওয়া, মালয়েশিয়ায় অবৈধ ভাবে থাকা প্রবাসিদের বৈধ কাগজ-পত্র করে দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেয়। অবৈধ কাজের জন্য কয়েকবার সে মালয়েশিয়ার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে টাকার বিনিময়ে ছাড়া পায়। এদিকে দেশে চলতে থাকে জহিরের অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা। দেশে হুন্ডি ব্যবসায় জহিরের সহযোগিতা করে তার মা, ভাই ইমদাদুল মিলন, এবং তার ভাগনে শামীম হোসেন। জহির প্রবাসী বাঙালীদের কে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা না পাঠানোর জন্য প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে রিংগিত নিয়ে সে নিজে অবৈধ পথে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠাতেন। উল্লেখ্য যে হুন্ডির ব্যবসা দেশদ্রোহী বা রাষ্ট্রদ্রোহীতার সমান। জহির এবং তার ভাই মিলনের যশোর ও কালীগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি ব্যাংকের একাউন্ট চেক করলে প্রমান পাওয়া যাবে। অবশেষে মালয়েশিয়ায় টিকতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে জহির নতুন প্রতারণার ফাঁদ পাতা শুরু করে । তার ভাই ইমদাদুল হক মিলন, মা এবং একাধিক মামলার আসামি ভাগনে শামীম হোসেন মিলে শুরু করে নতুন কৌশল মানবপাচারের সিন্ডিকেট। এরা এলাকায় প্রচার করে জহির মালয়েশিয়া থেকে ২শ’ ভিসা নিয়ে এসেছে । সে নিজেই লোক নিয়ে সরাসরি মালয়শিয়ায় ফিরে যাবে এবং তার নিজের নামে কোম্পানী আছে এবং সেখানে সে চাকুরি দিবে। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য জনপ্রতি ৪লাখ ২০ বিশ হাজার টাকার চুক্তি করে ১৫ দিনের মধ্যে পাঠানোর কথা বলে নগদে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা করে ৩শ’ জনের কাছ থেকে অগ্রিম ৩(তিন) কোটি টাকা নিয়ে যশোর শহরে বাড়ি, নামে বেনামে ব্যাংকে টাকা, মহাজনদারী ব্যবসা দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক ভূক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন এই জহির, তার মা, ভাই এবং শুশুরবাড়ীর লোকজন আমাদের নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে ৩ (তিন) লক্ষ করে টাকা ১১ মাস আগে নিয়েছে এখন পাসপোর্ট এবং টাকা কিছুই ফেরত দিচ্ছেনা। ভূয়া ভিসা, ভূয়া বিমানের টিকিট কম্পিউটার তৈরি করে বিভিন্ন মানুষকে দিয়েছে । একাধিকবার টাকা এবং পাসপোট ফেরত চাইলে অত্যন্ত চতুর জহির এবং জহিরের পরিবার সময়ক্ষেপন করছেন এবং ভূক্তভোগীদের বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিচ্ছে । চৌগাছার মীর্জাপুর গ্রামের শফিকুল, কালীগঞ্জের নল ভাংগা গ্রামের হাবিবুর রহমান, ছোট ধোপাদীর মোহন, পুকুরিয়া গ্রামের রানা, মাগুরা জেলার শালিখার আবদারসহ একাধিক যুবক জহিরের প্রতারনার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। জহিরের অনেক নিকটআত্মীয় এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাচাতো ভাইরা বলেন বৈধপথে মালয়শিয়ায় পাঠানোর কথা বলে পানি পথে লোক পাঠানোসহ নতুন নতুন প্রতারনা রপ্ত করে মানুষকে নানাভাবে ঠকিয়ে টাকা আয় করা জহির এবং তার পরিবারের নিত্যদিনের নেশা। অল্পদিনের মধ্যে গড়ে তুলেছে অগাধ সম্পদের পাহাড়। তাদের বিবরনে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মাঠের জমি ক্রয় করেছে কমপক্ষে ৩০ (ত্রিশ) বিঘা। হাকিমপুর বাজারে ব্রাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যাংক ব্যবসার আড়ালে চায়না, মালয়েশিয়া, হংকং এ চলে জহির, মিলনের দেশদ্রোহী হুন্ডি ব্যবসা। শ্বশুরবাড়ীতে কয়েকবিঘা সম্পত্তি ক্রয়, যশোর শহরে বাড়ী ক্রয়। কালীগজ্ঞ এবং যশোরে বিভিন্ন ব্যাংকে নামে এবং বেনামে টাকা গচ্ছিত রাখা। উচ্চ সুদে মানুষকে টাকা লোন দেওয়া অর্থাৎ সুদের ব্যবসা।এলাকাবাসীসহ একাধিক ভূক্তভোগী অভিযোগকারীর দাবী তারা যেন তাদের টাকা এবং পাসপোর্ট দ্রুত ফেরত পায় এবং সাথে সাথে অভিনব প্রতারণাকারী জহির সহ তার মা, ভাই, ভাগনকে বিচারের আওতায় এনে উপযুক্ত কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা। মুঠো ফোনে জহিরের কাছে প্রতারনার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। আমার মালয়েশিয়ায় ব্যবসা আছে। আমি ওখানকার নাগরিক। আমি কাউকে কোন প্রকার হুমকি দেয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here