সাংবাদিক সম্মেলনে শশুরবাড়ির লোকজনের প্রতি অভিযোগ স্বামীর মৃত্যুর পর দু’সন্তান সহ স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে অসহায় এক গৃহবধুকে

0
148

চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি॥ স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর বসত ভিটা থেকে অসহায় এক গৃহবধুকে দুই সন্তানসহ উচ্ছেদ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শশুরবাড়ির লোকজন।ছোট ভাইয়ের বউকে মারপিট করে দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন তারা।নিরুপয় হয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে গৃহবধূ শান্তা খাতুন। বর্তমানে সন্তানসহ পিতার বাড়িতে ঠাঁই মিলেছে শান্তা খাতুনের।সোমবার চুড়ামনকাটি প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের উপর চালানো নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন শান্তা খাতুন।
লিখিত অভিযোগে শান্তা খাতুন বলেন,যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের নাটুয়াপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ বিশ্বাসের ছেলে জহুরুল ইসলামের সাথে ১৩ বছর পূর্বে পারিবারিবভাবে আমার বিয়ে হয়।আমার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামে।বিয়ের পর আমি বুঝতে পারি আমার স্বামী একজন মানষিক ভারসাম্য রোগী।তবুও আমি আমার স্বামীর সাথে সংসার করতে থাকি।এর মাঝে আমার গর্ভে দুটো ছেলে সন্তান জম্ম গ্রহন করেন। বড় ছেলে হাসান (১০) ও ছোট ছেলে হুসাইন (০৫)। আমার স্বামী মানষিক রোগী হওয়াই এই সুযোগে আমার স্বামীর ভাইয়েরা, ভাবিরা, বোনেরাসহ চাচারা জোর পূর্বক আমার স্বামীর জমি জোরপূর্বক দখল করে চাষবাদ করতে থাকে।এ সময় আমি প্রতিবাদ করলে তারা সবাই জোটবদ্ধ হয়ে প্রায় আমাকে মারপিট করে জখম করতো।আমি আমার সন্তানদের কথা ভেবে তাদের সকল অত্যাচার সহ্য করে সংসার করতে থাকি।সর্বশেষ গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আমার ভাসুরের ছেলে ওবাইদুল ইসলাম, ভাসুর রবিউল ইসলাম রবি, কামরুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, আমার জা শাহানাজ বেগম, রেশমা বেগম, শাশুড়ি রহিমা বেগমসহ আমার স্বামী মিলে আমাকে ব্যাপক মারপিট করে জখম করে সন্ধ্যায় বাপের বাড়ি চুড়ামনকাটিতে পাঠিয়ে দেয়।আমি আমার পিতার বাড়ীতে থাকা অবস্থায় ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পরে জানতে পারি আমার স্বামী বিষপান করেছে।ঐদিন রাত ১০ টার দিকে খুলনা হাসপাতালে তিনি মৃত্যু বরন করেন। আমি মনে করি আমার স্বামীকে জোর পূর্বক আমার শশুরবাড়ির লোকজন জমির লোভে বিষপান করিয়ে হত্যা করছে।এ সময় আমার শশুরবাড়ির লোকজন আমার স্বামী মারা যাওয়ার পরে কৌশলে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। তারা আমার স্বামীকে মানুষিক রুগি সে সংক্রান্তে কাগজপত্র দেখাইয়া বিনা ময়না তদন্তে মৃত দেহ দাফন করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের চাপে আমার স্বামীর মৃত দেহ ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থান কবর দেওয়া হয়।
শান্তা খাতুন আরো বলেন, আমার শশুরবাড়ির লোকজন আমাকে আমার স্বামীর মৃত দেহটাও দেখতে দেয়নি। এমনকি ওই দিন তারা আমাকে আমার স্বামীর ভিটায় যেতেও দেয়নি। বর্তমানে তারা আমাকে আমার স্বামীর ভিটায় যেতে দিচ্ছে না।বর্তমানে আমি আমার দুই সন্তান নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে অসহায় জীবন যাপন করছি। সর্বশেষ আমি ১ জানুয়ারী আমার স্বামীর বাড়িতে গেলে তারা আমাকে মারপিট করে আমার সন্তানদের সহ বাড়ি থেকে বের করে দেয়।উল্লেখ্য আমি আমার স্বামীর ভিটায় না থাকার সুযোগে আমার শশুরবাড়ির লোকজন আমার ঘরে থাকা লক্ষাধিক টাকার যাবতীয় মালামাল লুট করে নেয়।এবং আমার ভাসুর রবিউল ইসলাম রবি আমার ৩ টা গরু ও ২টি ছাগল বিক্রি করে দিয়েছে।শান্তা খাতুন আরো অভিযোগ করে বলেন,লাল্টু নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ইন্ধনে আমাকে বাড়ি ছাড়া করেছেন।তিনি প্রতিনিয়তই আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় আমি ও আমার বাবা যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করি। আমি আপনাদের মাধ্যমে যশোরের পুলিশ সুপারের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
অবশ্য এ সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন শান্তার ভাসুর রবিউল ইসলাম রবি।রবির দাবি শান্তা খাতুন ইচ্ছা করে বাপের বাড়ি থেকে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,শান্তা খাতুনের বাবা ওয়েজ আলী, মা রোকেয়া বেগম, জামাই হানেফ আলী, বড় ভাই হাফিজুর রহমান প্রমূখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here